করোনাযুদ্ধ জয়ী যুবকের জবানবন্দি

প্রকাশিত: ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০২০

করোনাযুদ্ধ জয়ী যুবকের জবানবন্দি
যৌবনের ভরদুপুর। টগবগে যুবক। জীবন জীবিকা আর সমাজ পরিবর্তনের নিয়ত: সংগ্রামী পুরুষ।পেশায় স্বাস্থ্য কর্মী। নেশায় সংবাদ ও সংস্কৃতি কর্মী। হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বাউশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রর (সিএইচসিপি)কমিউনিটি হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডার।মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে নিজের আক্রান্ত হন করোনার ছোবলে। করোনা ভাইরাস কভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে তার। ১লা মে ২০২০ এ দুসংবাদ পান সময়ের সাহসী এ সন্তান। ভড়কে যান। নিয়ম অনুযায়ী হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে করোনা আইসোলেশনে ভর্তি হন ২ মে। মৃত্যুর প্রহর গুণতে থাকেন প্রতিদিন। অব্যবস্থা, অনিয়ম আর সামাজিক অনাচারে ধরেই নিয়েছিলেন মারা যাবেন। বেঁচে থাকতে পারবেন না এই ধরায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে তিনি। বেঁচে থাকা বড় প্রয়োজন তার। বেঁচে থাকতে হবে। জীবনকে এভাবে করোনার কাছে সমর্পন করে দেয়া যায় না। পণ ধরেন, যুদ্ধে নামেন। ২১ দিনের ভয়াবহ সে যুদ্ধ, ভীতিকর দিনগুলি, বিভৎস সামজিক রাষ্ট্রীয় চেহারা তিনি দেখেছেন। তিনি গোপাল সুত্র ধর।
তার জবানীতেই করোনা যুদ্ধ জয়ের সে কাহিনী ব্যক্ত করেছেন তিনি নিজেই। লিখেছেন:
‘মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এলাম যেভাবে’
করোনাভাইরাসের এই মহামারিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। অন্য সবার মতো আমারও  ভীত হয়ে দিন কাটছিল। কারণ একজনের সংক্রমনে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ সবার জীবন হয়ে ওঠে সঙ্কটময়। প্রতিদিন সংক্রমনের শিরোনাম শুনতাম আর আতংকিত হতাম। বিধি বাম একদিন আমি হয়ে গেলাম শিরোনাম! স্বাস্থ্যকর্মী গোপাল সূত্রধর করোনা পজিটিভ।
তারপর ২১ দিন  প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে থেকে বাড়ি ফেরা। আমি নিয়মিত ডিউটি হিসেবে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ সহ দূরপাল্লা থেকে আসা লোকদের হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করি এবং সাধারণ সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিপিই এসেছে রিসিভ করতে গেলাম ২৮ এপ্রিল। তখন কোন সাইন সিন্ট্রম ছাড়াই সন্দেহ মূলক সেম্পল দিয়ে আসলাম করোনা টেস্টের জন্য। আমার নিজের চেয়ে ও বেশী ভয় হতো আমার বৃদ্ধা মায়ের জন্য।
 ২ মে শুক্রবার  রাত ১১টায় উপজেলা স্বা.প.প কর্মকর্তা স্যার কল দিলেন আমার মোবাইলে। স্যার কুশল বিনিময় করে বললেন, তুমি কি টেস্টের জন্য সেম্পল দিয়েছিলে? কোন উপসর্গ ছিল তুমার? আমি বললাম সেম্পল দিয়েছি কিন্তু উপসর্গ ছিল না। তুমার রেজাল্ট পজিটিভ আসছে। তুমি পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যাও সকালে তুমায় কল দিয়ে বলব কি করতে হবে।
আমার বড় ভাইকে বললাম পজিটিভ হওয়ার কথা।উনি বিশ্বাস করলেন না। ৫ মিনিট পর থেকে আমার মোবাইলে কল আসা শুরু হলো অনবরত সিভিল সার্জন অফিস, থানা,ইউনও,ডিবি পুলিশ, উপজেলা হাসপাতাল সহ এলাকাবাসী। সবার একই প্রশ্ন, পরিবার সদস্য সম্পর্কে ও সংক্রমন  কিভাবে হলো তথ্য দিতে।
সারারাত ঘুমাতে পারিনি একের পর এক কল।পরেরদিন ২মে সকালে আমার আশেপাশের বাড়ি ভয়ানক আতংকে।সকাল ১০ টায় স্যার জানালেন, তুমাকে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে যেতে হবে। বাড়িতে মা কান্না করছে আমাকে পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যাবে।সেখানে ডাক্তার ইঞ্জেকশন দিয়ে মেরে ফেলবে।এমন কথা মা লোকের মুখে শুনছে।কিছু লোক কানাঘুষো করছে। হাসপাতাল থেকে ডাক্তার আসলেন গাড়ী নিয়ে ১১টায় আমাকে নিয়ে গেলেন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে।সেখানে পৌছালাম সাড়ে ১২ টায়। কিন্তু রোগী রিসিভ করা হলো ২ টায়। একজন এসে বললেন আপনি ৬তলায় সিড়ি দিয়ে যান। ৬ তলা গিয়ে দেখি কোন রুম খালি নাই।আমার উপজেলা স্যার কে কল দিয়ে বললাম সমস্যা গুলোর কথা। উনি এখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে আলাপ করলেন। তারপর ৫ তলায় ওয়ার্ডে যাই বিকাল ৫টায়।
এদিকে বাড়িতে আমার পরিবারসহ ১৬ টি পরিবার  কে লকডাউন ঘোষণা করা হয় উপজেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে। এর পরেরদিন ৩মে বাড়ির সবার সেম্পল নেওয়া হয় টেস্ট করার জন্য। বাড়িতে সেম্পল কালেকশনের টিম আসেন গাড়ি নিয়ে। এলাকাজুড়ে আরও আতংক। আমার সম্পূর্ণ গ্রামে ভূতুরে অবস্থা কোন লোক ভয়ে ঘর থেকে বের হয়না।অনেকেই ফোনে যোগাযোগ করছেন আমার সাথে।
অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন দোষারোপী কথাও বলছে। সবলোক একরকম বিষয় বুঝেন না। অনেকেই প্রচলিত কথায় বাজে মন্তব্যও করেন। আমার গ্রামের মানুষ প্রয়োজনে বাজারে বা বাহিরে গেলে লোকজন নিষেধ করে। গ্রামের কিছু লোক আবার এই দায় আমার পরিবার ও প্রতিবেশি পরিবারকে দেয়। প্রতিবেশীরা  দুয়েকজন আবার আমার পরিবার কে দোষে। পরিবার থেকে ভয় হতাশা নিয়ে আমাকে ফোন দেয়। আত্মীয়স্বজন অনেকই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ছে এসব শোনে। কান্না জড়ানো কন্ঠে কথা বলে। আমি মনোবল শক্ত রাখার  চেষ্টা করছি কিন্তু পেরে উঠছি না। একদিকে হাসপাতালে আইসোলেশন  রুমের খারাপ অবস্থা অন্যদিকে বাড়ির চিন্তা তার উপর সামাজিক অবস্থান। সব মিলিয়ে আমি মোটামুটি অসুস্থ হয়ে পরি।
৪ তারিখ সকাল থেকে আমার জ্বর, হালকা কাশি, গলা ব্যথা সমস্যা দেখা দেয়। একজন নার্স এসে আমাকে এজিথ্রুমাইসিন ৫টি ১৫ টি প্যারাসিটামল,১০ এন্টিহিস্টাসিন,১০টি  সিভিট দিয়ে গেলেন। আমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও স্যার ডা. চম্পক কিশোর সাহা সব সময় যোগাযোগ রাখতেন সাহস দিতেন। উনি আমার অবস্থা জানতে চাইলেন?  আমি বললাম স্যার আগে সুস্থ ছিলাম এখন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।বিস্তারিত উনাকে বললাম। স্যার সাথেসাথে ডেপুটি সিভিল সার্জন স্যারকে একটু তির্যক ভাবে  বলছেন আমার বিষয়ে।ডিএসএস স্যার আমাকে কল দিয়ে বললেন তোমাকে আমি হাসপাতালের আরএমও মেডামের নাম্বার দিচ্ছি। আমি উনাকে বলে দিব তুমার কথা। আরএমও মেডামকে কল দিলাম সমস্যার কথা বললাম উনি বললেন, আমি দেখছি কি করা যায়।
বাংলাদেশ লোকসংস্কৃতি ফোরামের মহাসচিব সৈয়দ রাশিদুল হক রুজেন ভাই ফোন দিলেন। উনিও আমাকে বললেন যেকোনো সমস্যা হলে আমাকে বল সাধ্য অনুযায়ী তুমার পাশে আছি যখন যা লাগে। একপর্যায়ে উনাকেও বললাম ভাই ভালো ছিলাম কিন্তু এভাবে থাকতে আমার ভয় হয়। উনি পুলিশ সুপার স্যারকে ফোনে বলেন আমার কথা। একটু পর হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি আসলেন হাসপাতাল। সবার এই আন্তরিকতা আমার সাহস জাগলো।আরএমও মেডাম ৬তলায় একটি অব্যবহৃত রুমে সেট আপ করে দেওয়ার জন্য বললেন। ৬০৮ নাম্বার কেবিন পরিষ্কার করে বেড দেওয়া হলো।আমার রুমমেট হলেন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের স্টাফ প্রফুল্ল দা।তিনি পজিটিভ হয়েছেন আমার দুইদিন আগে।
আমি বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় শুধু কাপড় শার্ট, পেন্ট, লুঙ্গি গামছা সাথে নিয়ে যাই। হাসপাতাল থেকে খাবার রাখা,পানি গরম করা, বিছানার কোন সুবিধা নাই আমার হাতে। আমি ঐ দিনেই সন্ধ্যায় এক আত্মীয়র মাধ্যমে নিয়ে আসি। তবে এই ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট  সাহায্য করার চেষ্টা করছেন।আমি পরে আস্তে  আস্তে একজন মানুষের থাকতে যা প্রয়োজন সবকিছু ব্যবস্থা করে নিলাম।
যদি কখনো নিজে বা পরিচিত কেউ সংক্রমিত হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে যায়।  তখন তাড়াহুড়া না করে,ভয়ে উপস্থিত জ্ঞান না হারিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিষপত্র সংক্রমিত লোকের সাথে দিয়ে দেওয়া উচিৎ।আরেকটি বিষয় হলো- হাসপাতালে নতুন পজিটিভ রোগী গেলে পুরাতন রোগী বাজে রিয়েক্ট করে। যে রোগীর শারীরিক অবস্থা যত খারাপ তার প্রতি অন্য রোগীর রূঢ় মনোভাব থাকে। এর কারন অনেকেই মনেকরেন দূর্বল রোগীদের ভাইরাস শক্তিশালী। একই ভাইরাস বিভিন্ন ধরনের আছে তাই সবাই নিরাপদ থাকতে চায়।
২/৩দিন পর থেকে গ্রামের অনেকেই ফোন দিয়ে আমাকে সাহস যোগিয়েছেন। এবং সেটা চলমান ছিল আমি বাড়ি আসার আগ পর্যন্ত। প্রথম যে ভয়ংকর অবস্থা ছিল তা গ্রামের সচেতন মহলের তৎপরতায় আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে আসে। লকডাউন কৃত বাড়িগুলোতে লোকজনের নিত্যপ্রয়োজনীয়  সামগ্রী পৌছানোর কাজও পরিচিত সচেতন মহল করেন। “দুঃখের বিষয় উপজেলা প্রশাসন লকডাউন দিতে যতটুকু তৎপর,লকডাউনকৃত পরিবারগুলো খেয়ে আছে না উপোস আছে সেদিকে খেয়াল রাখতে তৎপর নয়।” ১৪ দিন ১৬ টি পরিবার লকডাউন ছিল কোন সরকারী সহায়তা ছাড়া। আমার ব্যক্তিগত পরিচিতজন ও গ্রামের সচেতন মহল এই ১৪ দিন পরিবার গুলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন।
লকডাউন প্যারা আমায় অনেক মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে। যারা পাশে থাকার কথা ওরা না থেকে যাদের আশাকরিনি তাদের  পাশে পেয়েছি। শ্রদ্ধেয় নাট্যজন সুদীপ চক্রবর্তী পিএইচডি অধ্যায়নে ইংল্যান্ড আছেন সেখান থেকে সবসময় আমায় সাহস যুগিয়েছেন,বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সাপোর্ট দিয়েছেন।  উনার কথা এই জন্য বললাম যারা বিভিন্ন  অযুহাত দেখান করোনা হলে রোগীর কাছাকাছি থাকতে পারেন না কোন সাপোর্ট দেওয়ার সুযোগ পান না। ভাইরে এটা ভার্চুয়াল যোগ। মোবাইলে দুনিয়া চলে। ভাইরাস কে এতো ভয় তারপর ও বাজারে গিয়ে সিগারেট খান আড্ডা দিয়ে। ফোনে খোজ নিতে ভয় হয়?
যারা খোঁজ নেয়নি তাদের কথা ভুলে যান। যারা সাথে আছে তাদের নিয়ে বাচুন, নিজের জন্য বাচুন। এটাই ভেবে নিলাম। যারা সাংগঠনিক ভাবে দায়িত্ব পালন করেন বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের তাদের বলব।শুধু প্রচার আর খ্যাতি পাওয়ার জন্য কাজ বন্ধ করুন। নিজ সংগঠনের মানুষ বিপদে পড়লে খবর নাই টিভি আর পত্রিকায় মানব সেবার প্রচার করে পকেট ভরার চিন্তা ক্রান্তিলগ্নে বাদ দেন।
 আইসোলেশনে ১ম সপ্তাহে আমার শারীরিক অবস্থা খারাপ ছিল। ১০ দিনের দিন আমার নিজের মনে ভয় আসে আমার সম্পূর্ণ মুখে লাল রেশ বের হয়। চোখের পাতা পর্যন্ত ফোলে যায়। চোখ মেলে থাকাতে কষ্ট হয়,সাথে কাশি,জ্বর শরীর হালকা ব্যথা। চিকিৎসক যারা আছেন তারাও কাছে আসেন না ভয়ে। আমার কেবিন যে পাশে সেদিকে ছয় কেবিনে ১২ জন থাকে।সবাইকে লাইন ধরে গেইটে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হত। একইভাবে খাবার নিতে লাইনে দাড়ানো লাগতো। চিকিৎসা পদ্ধতিতে প্রায় ১৫ দিনপর আমি ছাড়পত্র পাওয়ার সপ্তাহখানেক আগে পরিবর্তন আসে। চিকিৎসক নার্স রোগীর সংস্পর্শে এসে সমস্যা নির্ণয় ও সমাধানের চেষ্টা করেন।
আমরা যেযাই বলি সবার নিজের প্রাণের মায়া আছে। একজন নার্স বললেন,সেবা দেওয়ার জন্য আজ তিন মাস ধরে আমার একবছর বয়সী বাচ্চা থেকে আলাদা আছি। এখনো বুকের দুধ খায় বাচ্চা।একজন মা জানে বাচ্চা থেকে দূরে থাকা।বাচ্চাকে কুলে না নেওয়ার কি বেদনা। এ এমন এক সঙ্কট সেবা দাতা ও গ্রহিতা উভয়ের আর্তনাদ থাকে সুস্থ থাকার জন্য।  ১০ তারিখ  আমার পরিবারের সবার রেজাল্ট আসলো নেগেটিভ। এরপর এলাকাবাসী ও কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা শুরু করল। আমিও মানসিক ভাবে কিছুটা প্রশান্তি ফেলাম।
এরপর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম নিজের সুস্থতা নিজেই করতে হবে। আত্মীয়স্বজন যারা বেশী চিন্তা করতেন আবেগে কান্নাকাটি করতেন তাদের নিষেধ করলাম আমাকে কল না দিতে। তাদেরকে আমি সকাল ১০ টা ও রাত ৯ টায় কল দিব জানিয়ে দেই।
সুস্থ থাকার জন্য আমি আদা,লং,লেবু দারুচিনি দিয়ে দিনে ৮/১০ বার বাষ্প নিয়েছি। এই পানিতে লবন মিশিয়ে গারগেল করেছি খেয়েছি। কালোজিরা ও মধু খেয়েছি।
সংক্রমিত ব্যক্তিকে বাড়তি খাবারে মনোযোগ দিতে হবে আমি পর্যাপ্ত খাওয়ার চেষ্টা করেছি। ভিটামিন সি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।
আমি হাসপাতালে ১ম সপ্তাহ পর রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত আমি একটি রুটিন করে নেই।রুটিনে দুইবার শরীরচর্চা, খাওয়া, স্নান, প্রার্থনা ও মোবাইলে কথা বলার সময় নির্দিষ্ট করি।
এভাবে ১৫দিন থাকার পর ২য় টেস্টর রেজাল্ট আসে নেগেটিভ। তৃতীয় সেম্পল নেওয়া হয় ঐদিন। ২১তম দিনে ছাড়পত্র আসে আমি সুস্থ।
তখন বাড়ি ফেরার আনন্দ জেল থেকে মুক্তি হওয়া আনন্দকে ও হার মানায়।
আমি মনেকরি প্রতিটি মুহূর্তকে স্পর্শ করার নাম জীবন। কোবিড-১৯ এখন কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে গেছে যে কেউ সংক্রমিত হতে পারে। তবে ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত না হতে যেমন সচেতন হতে হবে।
তেমনি সংক্রমিত ব্যক্তি ও পরিবারের প্রতি আন্তরিক হতে হবে।করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি সমাজের অভিশাপ নয়। অনেকেই আপনাকে সেবা দিতে, আপনাকে নিরাপত্তা দিতে সংক্রমিত হচ্ছেন। যদি মানুষ হয়ে আমরা মানুষের বেচে থাকার লড়াইয় পাশাপাশি না দাঁড়াতে পারি তাহলে নিরর্থক এই জীবন।আমার  বন্ধু,সহকর্মী, প্রতিবেশী ও পরিচিতজন সবার প্রতি কৃতজ্ঞ ক্রান্তিলগ্নে সবাই আমার সাথে ছিলেন। সচেতন হই সম্মিলিত ভাবে মহামারি থেকে বাঁচি।
গোপাল সুত্র ধর, সিএইচসিপি, বাউশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র।
নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ।
  • 923
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ