১৫ দিন পর ২০ দলের বাজেট প্রতিক্রিয়া

প্রকাশিত: ১২:৫৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

১৫ দিন পর ২০ দলের বাজেট প্রতিক্রিয়া

 

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

 

সংসদে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট পেশের ১৫ দিন পর ২০ দলীয় জোট বাস্তবসম্মত নয় বলে এই বাজেটে হতাশা বাড়াবে বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

 

প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারিতে দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির, রপ্তানি ও আমদানি প্রায় বন্ধ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যাতায়াতব্যবস্থা রূদ্ধপ্রায়, স্বাস্থ্যব্যবস্থার রুগ্নতা প্রকট এবং এসব মোকাবিলায় সরকারি সামর্থে্যর দীনতা দক্ষতার অভাব ও দুর্নীতি-অনাচার রোধে ব্যর্থতা প্রকটভাবে দৃশ্যমান। এমন সময়ে জাতীয় সংসদে পেশকৃত বাজেটে বাস্তবতা বিবর্জিত ও কাল্পনিক প্রবৃদ্ধির হার, রাজস্ব আয় ও মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারণ, জনস্বাস্থ্য ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ব্যয় বরাদ্দের ফলে জনগণের হতাশা ও ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

শুক্রবার জোটের সমন্বয়কারী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের স্বাক্ষর করা এক যুক্ত বিবৃতিতে নেতারা এসব কথা বলেন।

 

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ২০ দল মনে করে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয় বলেই সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা কিংবা জবাবদিহিতার দায়মুক্ত। বাস্তবে একটি একদলীয় সরকারের আচরণে কাল্পনিক সাফল্যের দিবাস্বপ্ন দেখানোর অপপ্রয়াসই স্বাভাবিক। বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী কোভিড-১৯ এর কারণে বেকার মানুষের সংখ্যা ১৪ লাখ বলেছেন, যা বাস্তবের তুলনায় অনেক কম। অন্যদিকে যে প্রবাসীদের আয়ে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ, তাদের মধ্যে যারা ফিরে এসেছেন এবং যারা ফিরে আসার অপেক্ষা করছেন-তাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য বাস্তব সহায়তার কোনো সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি কিংবা দিকনির্দেশনা বাজেটে নেই।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, করোনায় দেশের অর্থনীতির প্রধান দুই খাত তৈরি পোশাক শিল্প ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো উপার্জন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও এই দুই খাতে সংকট নিরসন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কোনো কার্যকর পরিকল্পনার কথা বাজেটে উল্লেখ নেই। অন্যদিকে সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংকিং খাত থেকে অধিক পরিমাণ ঋণ গ্রহণের ফলে ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবাহ এবং নতুন কর্মস্থান সৃষ্টির সুযোগ আরও হ্রাস পাবে- যার পরিণতি হবে দেশের জন্য ভয়াবহ ও ক্ষতিকারক। কৃষিখাতে ঋণ সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে নানা শর্ত আরোপের ফলে বর্গা চাষি ও ক্ষুদ্র চাষিরা বঞ্চিত হবে। বিধায় এসব শর্ত শিথিল করা আবশ্যক।

 

২০ দলীয় নেতারা বলেন, গার্মেন্টস, নির্মাণ, কৃষি শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, পর্যটন, হকার্স, কুলি, গৃহশ্রমিকসহ দেশের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কয়েক কোটি মানুষ এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা যখন অনাহার-অর্ধাহারে ও বিনা চিকিৎসায় বিপন্ন তখন তাদের জীবন বাঁচানো ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের চেয়ে বাজেটে জরুরি নয় এমন অবকাঠামো খাতে অধিক ব্যয় বরাদ্দ জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বহীনতা।

 

একই সাথে তামাকজাত পণ্য ও বিলাস সামগ্রীর ওপর বেশি কর আরোপ না করে সার্বজনীনভাবে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কলচার্জ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর কর বাড়ানো, কম আয়ের মানুষের চেয়ে বেশি আয়ের মানুষদের ব্যক্তিগত আয়ের ওপর অধিক রেয়াত প্রদান, কালো টাকা সাদা করার মাধ্যমে সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করা এবং বিদেশে টাকা পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পরিবর্তে শুধুই কিছু জরিমানার প্রস্তাব অর্থবান ও ক্ষমতাবানদের প্রতি সরকারের নমনীয়তা ও আত্মসমর্পণের প্রমাণ।

 

২০ দল বাজেট অনুমোদনের আগেই এসব বিষয় সংশোধন করে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে সারাদেশে দৈনিক অন্তত ৫০-৬০ হাজার মানুষের কোভিড টেস্ট’র সুযোগ সৃষ্টি, উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত টেস্ট, চিকিৎসা ও রোগের বিস্তার প্রতিরোধের সামর্থ সৃষ্টির লক্ষ্যে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, সকল কর্মহীন পরিবারকে স্বাস্থ্য সম্মতভাবে বেঁচে থাকার মতো ত্রাণসামগ্রী রেশনকার্ডের মাধ্যমে যতদিন প্রয়োজন ততদিন সরবরাহের এবং গার্মেন্টসসহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পে যাতে কাউকে ছাঁটাই করা না হয় সেই শর্তে প্রয়োজনীয় ঋণ/সহায়তা প্রদানের জোর দাবি জানায়।

 

বিবৃতিদাতারা হলেন, জোটের সমন্বয়কারী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, বীরপ্রতীক (অব.), জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রকিব, মুসলিম লীগের সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খসরু, বাংলাদেশ পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ ভাসানী চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের, সাম্যবাদী দলের সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহম্মদ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ক্বারী আবু তাহের, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এহসানুল হুদা ও বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান শাওন সাদেকী।

 

প্রভাতবেলা/এমএ

  • 12
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ