সুনামগঞ্জে লাখো মানুষ পানিবন্দি

প্রকাশিত: ২:২১ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

সুনামগঞ্জে লাখো মানুষ পানিবন্দি

 

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:

 

কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বাড়তে থাকায় সুনামগঞ্জের জেলা শহরের নতুন নতুন এলাকাসহ জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ,দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই ও শাল্লা এই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ ।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের ষোলঘর পয়েন্টস্থ সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে , যা গতকালের চেয়ে আজ রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ সেন্টিমিটার বেশী বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ছাতক-সুনামগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ-সিলেটের রাস্তা বিভিন্ন জায়গা পানির নীতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

 

এদিকে আমাদের ছাতক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিতে রয়েছে ছাতক উপজেলা। ছাতকের সুরমা নদীতে গত ২৪ ঘণ্টায় বিপদসীমার ১৭৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই উপজেলায় ইতিমধ্যে তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন।

 

সুনামগঞ্জ শহরের কাজির পয়েন্ট, উকিলপাড়া, নতুনপাড়া, বড়পাড়া সাহেববাড়ি ঘাট, ষোলঘর হাজিপাড়া, জামতলাসহ অধিকাংশ এলাকার বাসাবাড়ি রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল নেই বলইে চলে। ফলে মানুষজন চরম বিপাকে পড়ে খাদ্য সংকটে ভুগছেন।

 

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলা শহরের সাথে -বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর, দিরাই শাল্লা ও ছাতক সিলে সুনামগঞ্জ সড়কগুলোতে পানি উঠে যাওয়ায় সড়ক পথে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এক কথায় বলা চলে বর্তমানে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের সাথে ১১টি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

 

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায় সূত্রে জানা যায়,যেভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে তাতে বন্যার আশঙ্কা থেকে জেলার প্রতিটি উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং বন্যায় কতহাজার পরিবার ঘরবন্দি হয়েছেন তাদের সঠিক পরিসংখ্যান এখনো জানা না গেলে ও প্রায় লাখ মানুষ পানিবন্দি হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এদিকে জেলায় রোপা আমন, সবজি ক্ষেত ও পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ও জানা যায়।

 

জেলা প্রশাসন জেলায় বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজনের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৪১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২৯ লাখ টাকা বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের হাতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সহিবুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে গত কয়েকদিনের টানা অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে জেলা শহর সহ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যেভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে তাতে বন্যার একটি আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান।

 

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, এই বৃষ্টিপাতের ফলে বিভিন্ন জায়গাতে বাসাবাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে এজন্য জেলায় ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ১৪৮টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ১১০টি। জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ইতিমধ্যে ৪১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২৯ লাখ টাকা বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাহী অফিসারের নিকট পাঠানো হয়েছে।

 

প্রভাতবেলা/এমএ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ