আনা আনা নয়, সিলেটের ৪ খেয়াঘাটে ৫ গুণ ভাড়া

প্রকাশিত: ২:০৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

আনা আনা নয়, সিলেটের ৪ খেয়াঘাটে ৫ গুণ ভাড়া

কবীর সোহেল♦

“ সব সখিরে পার করিতে নেব আনা আনা/ তোমার বেলায় নেব সখি তোমার কানের সোনা … ’’ বাংলা ছায়াছবি সুজন সখি’র জনপ্রিয় একটি গান। কালজয়ী সঙ্গীত শিল্পী এন্ড্র কিশোর ও সাবিনা ইয়াসমিনের কন্ঠে লিপ্সিং করেন ঢাকাই চলচ্ছিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ আর নন্দিত নায়িকা শাবনুর। চিরায়ত বাংলার প্রেম ভালোবাসা আর যাপিত জীবনে খেয়াঘাট আর খেয়া নৌকার অপিহার্যতা ফুটে উঠে ’৯০ দশকের এ ছবিতে। হাটতে চলতে গুনগুনিয়ে এ গানের কলি জপ না করা মানুষের সংখ্যা তখনকার সময়ে বা পরবর্তী দুই দশকে খুঁজে পাওয়া দুস্কর ।

 

বদলেছে সময়। বদলে গেছে মানুষের জীবন আচার। এখন বাংলা ছবি মানুষ দেখেনা। ছবির হলও বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সেই প্রেম ভালোবাসাও বদলে গেছে। হারিয়ে যাচ্ছে সেই খেয়াঘাট বা খেয়ানৌকা। আধুনিক সড়ক আর সেতু সভ্যতার যাঁতাকলে নিস্পিস্ট মাঝি শ্রেণী আর নাও বাইয়ে জীবিকা নির্বাহের সাহস পাননা বুকে। এই হারিয়ে যাওয়ার মিছিলের প্রতিকূলে সুরমার বুকে বেঁচে আছে কয়েকটি খেয়াঘাট। এগুলোতে পারাপরের যাত্রীদের নিস্পেসিত করা হয়। খেয়া পারাপারে নেই ভালোবাসা বা চিরায়ত বাংলার কোন রুপ। নগরীর মাঝখানে বিদ্যমান তোপখানা খেয়াঘাট, কাজির বাজার খেয়াঘাট, কলাপাড়া খেয়াঘাট ও বেতের বাজার খেয়াঘাট। এই ঘাটগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার ৫গুণ ভাড়া নেয়া হয় যাত্রীদের কাছ থেকে।

 

 

সুত্র জানায়,খেয়াঘাটের ইজারা এখন আর মাঝিশ্রেণীর লোকজন নিতে পারেনা। এটা রাজনৈতিক দলের নেতারা নেন। পরে হাত বদল হয়ে আসে মাঝিদের হাতে। জেলা পরিষদ প্রদত্ত ইজারা নীতিমালার কোন তোয়াক্কা করেন না সংশ্লিষ্টরা।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে ভুক্তভোগীমহলের স্মারকলিপি

জেলা পরিষদ প্রদত্ত খেয়াঘাট ইজারা নীতিমালা ও ভাড়ার তালিকা

খেয়া পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অনিয়ম দূর্নীতি, চাঁদাবাজি ও খেয়ানৌকায় ইভটিজিং এর অভিযোগ এনে  প্রতিকার দাবী করেছেন  ভুক্তভোগীমহল। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রদত্ত স্মারকলিপিতে দ্রুত এ সমস্যা নিরসনের দাবী জানান হয়। ডা. তায়েফ আহমদ, সৈয়দুর রহমানসহ প্রায় অর্ধশত মানুষ স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন।

 

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর অহিদুর রব ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর টাইমলাইনে এ প্রসংগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি স্ট্যাটাস আপলোড করেন।

খেয়াঘাটে পাঁচগুণ মাশুল আদায় শিরোণামে প্রফেসর অহিদুর রব বলেন,খেয়াঘাট ইজারা দেয় জেলা পরিষদ। তোপখানা খেয়াঘাট, কাজির বাজার খেয়াঘাট, কলাপাড়া খেয়াঘাট ও বেতের বাজার খেয়াঘাটে ২০২০ সালের মে মাস থেকে জনপ্রতি ৫ টাকা সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে পাঁচগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ইজারাদারগণ ইজারার শর্ত মানছেন না। আগেই প্রতি ব্যক্তির কাছ থেকে ২ টাকা নেয়া হতো,যদিও ১ টাকা নেয়ার কথা। জনসাধারণ তা-ও মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু গত ষোল মাস যাবত তারা রীতিমতো জুলুম শুরু করেছেন।

জেলা পরিষদ প্রদত্ত খেয়াঘাট ইজারা নীতিমালা ও ভাড়ার তালিকা

জেলা পরিষদ প্রদত্ত খেয়াঘাট ইজারা নীতিমালা ও ভাড়ার তালিকা

তিনি বলেন, আমাদের কথা হলো, ঘাট রেখে না পোষালে কেউ কি কাউকে বাধ্য করছে ইজারা নিতে। প্রতিযোগিতা করে ঘাট রেখে গরীব সাধারণ মানুষের উপর জুলুম করার অধিকার তাদেরকে কে দিয়েছে? সেদিন দেখলাম, এক ভিখারিনী একটাকা ও দুই টাকার কয়েন মিলিয়ে পাঁচ টাকা দেয়ায় তা নিচ্ছেনা, বলছে পাঁচ টাকার কয়েন বা নোট দিতে। ছাত্র ছাত্রীদের যে সুবিধা দেয়ার কথা তা-ও দেয়া হয়না।

 

ইজারাদাতা প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদের উচিত ঘাটে ঘাটে টোল চার্ট টানিয়ে দেয়া এবং নৌকায় একটি লেমিনেশন করা টোল চার্ট প্রদর্শন করতে বাধ্য করার  দাবী জানান অহিদুর রব।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 18
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    18
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ