কিশোরী ‘মা’কে নিয়ে দিশেহারা পরিবার

প্রকাশিত: ১:২৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২০

কিশোরী ‘মা’কে নিয়ে দিশেহারা পরিবার

প্রতিনিধি, মাগুরা:

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়নে ধর্ষণের শিকার এক স্কুলছাত্রী মা হয়েছে। শনিবার দুপুরে মাগুরা সদর হাসপাতালে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছে সে। তবে নতুন অতিথি নিয়ে যেখানে সবার আনন্দে থাকার কথা সেখানে মা ও নবজাতককে নিয়ে দিশেহারা পরিবার।

ওই কিশোরীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে শনিবার সকালে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তির পর দুপুরে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয় সে।

এদিকে ওই কিশোরীর বাবা বলছেন, ‘আমি কী করব ভেবে পাচ্ছি না।’

এ ঘটনার সব আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন মহম্মদপুর উপজেলা ও মাগুরা জেলা শহরে একাধিকবার মানববন্ধনসহ নানান কর্মসূচি পালন করলেও প্রভাবশালী আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়নের অষ্টম শ্রেণির এক কিশোরীর সঙ্গে সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের ভাঙ্গুড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শাহাবুল ইসলামের (১৯) দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। এ ঘটনায় গত ১৬ জুলাই মেয়ের বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শহিদুলের নামে থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। ওই দিনই পুলিশ শহিদুলকে গ্রেপ্তার করে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা আরও বলেন, মামলা দায়েরের আগে ১০ জুলাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নহাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা সিদ্দিকী লিটন স্থানীয় একটি বাড়িতে সালিশ করেন। ওই বৈঠকে মোস্তফা সিদ্দিকী লিটন সমাধান দেয়ার বদলে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে কিশোরীর পরিবারকে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। যা দেয়ার জন্য ১০ দিনের সময় বেধে দেয়া হয়। পাশাপাশি ওই কিশোরীর পরিবারকে ছয় মাসের জন্য এলাকায় একঘরে ঘোষণা করা হয়।

নির্ধারিত সময়ে টাকা দিতে ব্যর্থ হন পেশায় ভ্যানচালক ওই কিশোরীর বাবা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোস্তফা সিদ্দিকী লিটন, নহাটা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ওবায়দুর রহমানসহ একদল দুর্বৃত্ত গত ২০ জুলাই বাড়ি থেকে একটি গরু, চারটি ছাগল, একটি বাইসাইকেল, ভ্যানসহ মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ২৭ জুলাই মহম্মদপুর থানায় মোস্তফা সিদ্দিকী লিটনসহ ১৬ জনের নামে মামলা করেন।

এ ব্যাপারে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারক নাথ বিশ্বাস বলেন, মামলার পরপরই ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি শহিদুলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে। অবিলম্বে পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 4
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ