গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ফেসবুক বন্ধু গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২০

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ফেসবুক বন্ধু গ্রেফতার

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক♦ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ ছাত্রী তিথি সরকারকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মালিবাগ সিআইডি অফিসের চারতলা থেকে উদ্ধার-এমন গুজব ছড়ানোর অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

 

 

 

গ্রেফতারকৃতের নাম নিরঞ্জন বড়াল। তার বিরুদ্ধ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সিআইডি কার্যালয়ে সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি জামিল আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

 

 

 

এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী তিথি সরকার ২৫ অক্টোবর পল্লবী থানাধীন উত্তর কালশী এলাকার বাসা থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের ঘটনায় তার বড় বোন ২৭ অক্টোবর পল্লবী থানায় একটি জিডি করেছেন। এখনও তিথি সরকারের কোনো খোঁজ মিলেনি।

 

 

 

ডিআইজি জামিল আহমেদ জানান, ২ নভেম্বর নিরঞ্জনকে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিরঞ্জন ওই পোস্ট দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। পেশায় নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ী নিরঞ্জন নিজে থেকেই এই পোস্ট দিয়েছেন, নাকি কারও উসকানিতে করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিআইডির সাইবার ইউনিট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি করতে থাকে। গত ৩১ অক্টোবর দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে একটি পোস্ট সিআইডির চোখে পড়ে। ওই পোস্টে লেখা ‘মালিবাগ সিআইডি অফিসের চারতলা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী…হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার। আমি হতবাক।’

 

 

 

ওই পোস্ট খুব দ্রুত শেয়ার ও ভাইরাল করা হয়। পোস্টের উৎস খুঁজতে গিয়ে তারা নিরঞ্জন বড়ালকে খুঁজে পায়। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ২ নভেম্বর সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে নিরঞ্জন বড়ালকে বনশ্রী থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি।

 

 

 

সিআইডি জানায়, অনেক দিন ধরেই নিরঞ্জন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়ে আসছিলেন। মূলত ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত বা উস্কানি দেওয়ার মতো কাজ করে আসছিলেন তিনি। ফেসবুকে তার বন্ধুসংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। নিখোঁজ ওই ছাত্রী তার বন্ধু। নিখোঁজ হওয়ার দুই সপ্তাহ আগেও নিরঞ্জনের সঙ্গে তার কথা হয়।

 

 

 

ফেসবুকে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ তিনি।

 

 

 

ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২৩ অক্টোবর তিথি সরকারের ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়। এ বিষয়ে তিথি সরকার পল্লবী থানায় অবহিত করেন। পুলিশ তাকে ডিবির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে। এ বিষয়ে ২৪ অক্টোবর পুলিশ সহায়তা করতে গিয়ে দেখে তিথি সরকারের মোবাইল ফোনটি বন্ধ। ২৭ অক্টোবর তিথি সরকারের বড় বোন স্মৃতি সরকার পল্লবী থানায় গিয়ে তার বোন হারিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত একটি জিডি করেন।

 

 

 

এ ব্যাপারে পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, উত্তর কালশী এলাকায় তিথি সরকারের বাড়ি। নিখোঁজ হওয়ার পরপর পুলিশ বিষয়টি তদন্তে নামে। তার বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। তাকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 30
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ