চানাচুর-বাদামেই চলে জীবিকা

প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২৩

চানাচুর-বাদামেই চলে জীবিকা
প্রভাতবেলা ডেস্ক: ষাটোর্ধ্ব শান্ত চন্দ্র সাহা। একটি বড় পাত্রে চানাচুর-বাদাম নিয়ে শান্ত ঘুরছেন শহরের অলিগলি। সকাল থেকে বিকেল পযর্ন্ত বিক্রি করেন চানাচুর বাদাম। জীবন সংগ্রামে হাসিমুখে টানা ১৫ বছর ধরে তিনি ওইসব বিক্রি করছেন। ওইসব বিক্রি করে যে টাকা আয় হয়, তা দিয়ে চলে তার সংসার।

শান্ত চন্দ্র সাহা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের রাধানগর এলাকার বাসিন্দা। তার পরিবারে স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে।

শান্ত চন্দ্র সাহা বলেন, এক সময় তার মুদির দোকান ছিল। নানা কারণে এই ব্যবসা বেশি দিন ধরে রাখতে পারেননি। এরপর চানাচুর বাদাম বিক্রি করা শুরু করেন। এতে তিনি এলাকায় মানুষের ভালো সাড়া পান। এরপর তিনি রেলওয়ে স্টেশন, পৌর শহরের সড়ক বাজার, লালবাজার, রাধানগর এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছেন। বাদাম চানাচুরে দেওয়া হয় মরিচ, লেবু, টমেটোসহ নানা জাতের মসলা। ওইসব দিয়ে নিচে ১০ টাকা উপরে ২০ টাকায় বিক্রি করছেন। স্থানীয়দের কাছে তার বাদাম-চানাচুরের বেশ সুনাম রয়েছে।

 

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদে গ্রামীণফোন সেন্টার উদ্বোধন

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন আমি সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই বাদাম-চানাচুর নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে পড়ি। একটানা দুপুর পযর্ন্ত স্টেশনসহ শহরের বিভিন্ন জায়গাতে ঘুরে ওইসব বিক্রি করা হয়। তারপর বাসায় চলে আসি। বিকেল ৪টায় পুনরায় বিক্রি করতে বের হয়। গড়ে প্রতিদিন চানাচুর ৭ কেজি ছোলা বাদাম ৫ কেজির ওপর বিক্রি হয়। ভ্রাম্যমাণ ওইসব বিক্রি করে যাবতীয় খরচ বাদে দৈনিক আমার পাঁচশ থেকে ছয়শ টাকার ওপর আয় হয়। এতেই চলে আমার সংসার। সংসারে কোনো অভাব-অনটন নেই। আর এই ব্যবসা করেই আমি মরতে চাই।

পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আবু কালাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে দেখছি, তিনি শহরে ঘুরে ঘুরে চানাচুর-বাদাম বিক্রি করছেন। চানাচুর-বাদামের সঙ্গে যে একটা মসলা দিয়ে মিক্স করে তৈরি করে দিচ্ছেন। যে মসলা দেওয়া হয় সেটার স্বাদ আর গন্ধ অন্য রকম। সময়-সুযোগ হলে তার কাছ থেকে প্রায় সময় মিক্স করা বাদাম-চানাচুর খাওয়া হয়।

 

আরও পড়ুন  রাজশাহীতে গির্জায় আদিবাসী কিশোরীকে ধর্ষণ, যাজক গ্রেফতার

শ্রমিক ফরিদ মিয়া বলেন, আমরা রোদ বৃষ্টিতে ভিজে নিয়মিত পরিশ্রমের কাজ করে থাকি। নানা জাতের মসলায় চানাচুর-বাদাম খেলে অনেক ভালো লাগে।

 

স্থানীয়রা জানান, জীবন বাঁচানোর তাগিদে মানুষ যে কতো কঠিন পরিশ্রম করতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ তিনি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে প্রতিদিন হেঁটে শহরের বিভিন্ন জায়গাতে ঘুরে ঘুরে ওইসব বিক্রি করছেন।

 

উপজেলা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সহসভাপতি মুসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, শান্ত চন্দ্র সাহা আসলেই একজন অসহায় মানুষ।জীবিকার জন্য দিন রাত এতো কষ্ট করলেও সে আত্মমযাদা নিয়ে চলতে শিখেছে। কারো কাছে কখনো তিনি মাথা নত করেননি তিনি। তাছাড়া তার চানাচুর-বাদামের মান ভালো হওয়ায় প্রায় সময় কেয়ে থাকি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

সর্বশেষ সংবাদ