জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী কারা ?

প্রকাশিত: ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২০

জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী কারা ?
জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী কারা হবেন?পবিত্র ‘কুরআনের সুরা ‘আল মুমিনুন’ (২৩) এর প্রথম ১১ টি আয়াতের মধ্যে আল্লাহ তা’আলা মুমিনদের ৭ টি গুনের কথা বলেছেন। আর বলেছেন, যারা এই গুণগুলির অধিকারী হবে, তাঁদেরকে আল্লাহ তা’আলা ‘জান্নাতুল ফিরদাউসের’ উত্তরাধিকারী করে দেবেন।
মু’মিনের প্রথম গুন :
“যারা নিজেদের নামাজে বিনয়ী-নম্র”। নামাজে ‘খুশু’ তথা বিনয়ী-নম্র হওয়া। শরীয়তের পরিভাষায় ‘খুশু’ এর অর্থ অন্তরে স্থিরতা থাকা :অর্থাৎ আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কোন কিছুর কল্পনাকে অন্তরে উপস্থিত না করা, এবং অংগ প্রত্যঙ্গে  স্থিরতা থাকা, অর্থাৎ অনর্থক নড়াচড়া না করা। নবী করীম (সা:) আনাস (রা:) কে নির্দেশ দেন : “সিজদার জায়গার দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ রাখ এবং ডানে বামে ভ্রুক্ষেপ করো না।”
[বায়হাকী, মাযহারী]
মু’মিনের দ্বিতীয় গুন :
“যারা অনর্থক বিষয় থেকে দূরে থাকে”। অর্থ, অনর্থক কথা ও কাজ যাতে ধর্মীয় উপকার তো নেই-ই বরং ক্ষতি বিদ্যমান।
অনেক সময় গুনাহও হয়ে যায়। এ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব।রাসুলাল্লাহ (সা:) বলেন, ‘মানুষ যখন অনর্থক বিষয়াদি ত্যাগ করে, তখন তার ইসলাম সৌন্দর্যময় হতে পারে’।
মু’মিনের তৃতীয় গুন :
“যারা যথাযথ ভাবে যাকাত আদায় করে”। এর আভিধানিক অর্থ পবিত্র করা।যাকাত যে মু’মিনের জন্য অপরিহার্য ফরজ, তা বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না।পক্ষান্তরে যাকাতের অর্থ আত্নশুদ্ধি নেওয়া হলেও তা ফরজই।কেননা শিরক, রিয়া, অহংকার, হিংসা, শত্রুতা, লোভ-লালসা, কৃপণতা,ইত্যাদি থেকে নফসকে পবিত্র রাখাকে আত্নশুদ্ধি বলা হয়।এগুলো সব হারাম ও কবীরা গুনাহ। নফসকে এগুলো থেকে পবিত্র করা ফরজ।
মু’মিনের চতুর্থ গুন :
“যারা নিজেদের যৌন অংগকে হেফাজত করে, বিবাহিত স্ত্রী বা শরীয়তসন্মত দাসী ছাড়া”। শরীয়তের বিধি মোতাবেক কাম-বাসনা পূর্ণ করা ছাড়া, অন্য কোন পথ অবলম্বন করা হারাম, কবীরা গুনাহ।
মু’মিনের পঞ্চম গুণ :
“আমানত যথাযথ ভাবে রক্ষা করা”। ‘আমানত’ শব্দের আভিধানিক অর্থে এমন প্রত্যেকটি বিষয় শামিল,যার দায়িত্ব কোন ব্যক্তি বহন করে এবং সে বিষয়ে কোন ব্যক্তির উপর আস্থা স্থাপন ও ভরসা করা হয়।যা আল্লাহ’র হক সম্পর্কিত হোক বা বান্দার হক সম্পর্কিত হোক।আল্লাহ’র হক সম্পর্কিত আমানত হচ্ছে,শরীয়ত আরোপিত সকল ফরজ ও ওয়াজিব,পালন করা এবং যাবতীয় হারাম ও মাকরুহ বিষয় থেকে আত্নরক্ষা করা।বান্দার হক সম্পর্কিত আমানতের মধ্যে, কারও কাছে টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত, দলিল-দস্তাবেজ, ইত্যাদি গচ্ছিত রাখলে তা তার আমানত।প্রত্যার্পণ না করা পর্যন্ত এর হিফাজত করা তার দায়ীত্ব ও ওয়াজিব।
এছাড়া কারও কোন গোপন কথা, গোপন রাখা, মজুর বা কর্মচারীর ন্যায্য বেতন দেওয়া, চুক্তিবদ্ধ কাজে ফাঁকি না দেওয়া।
সবই আমানতের অন্তরভূক্ত। ধর্মীয় দৃষ্টিতে একে পুর্ণ করা ওয়াজিব ও খেলাফ করা গুনাহ।
মু’মিনে’র ষষ্ঠ গুণ :
“অংগীকার রক্ষা করা”। অংগীকার বলতে প্রথমত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বোঝায়, যা কোন ব্যাপারে উভয় পক্ষ অপরিহার্য করে নেয়।
এরুপ চুক্তি পুর্ণ করা ফরজ এবং এর খেলাফ করা বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা, হারাম ও গুনাহ।দ্বিতীয় প্রকারকে ওয়াদা বলা হয়।
অর্থাৎ একতরফাভাবে একজন অন্যজনকে কিছু দেওয়ার অথবা কোন কাজ করে দেওয়ার ওয়াদা করা। এরুপ ওয়াদা পুর্ণ করাও শরীয়তের আইনে জরুরী ও ওয়াজিব।
মু’মিনে’র সপ্তম গুন :
“যারা নিজেদের নামাজের হেফাজত করে”। অর্থাৎ, নামাজে যত্নবান হওয়া, প্রত্যেক নামাজ মুস্তাহাব সময়ে পা’বন্দি সহকারে আদায় করা, শরীয়তসন্মত নিয়মে রুকু, সিজদা আদায় করা।
এখানে লক্ষ্যনীয় যে, এই সাতটি গুন শুরু করা হয়েছে নামাজ দ্বারা এবং শেষও করা হয়েছে নামাজ দ্বারাই।এতে ইংগিত আছে যে, নামাজকে শরীয়তী পন্থায় আদায় করলে অবশিষ্ট গুণগুলো নামাজীর মধ্যে আপনা-আপনি সৃষ্টি হতে থাকবে।
উল্লিখিত সাতটি গুনের মধ্যে,আল্লাহতালার হক এবং বান্দার হক সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিধি-বিধান অর্ন্তভূক্ত হয়ে গেছে।
যে ব্যক্তি এসব গুনে শতভাগ গুনান্বিত হয়ে যায় এবং এতে অটল থাকে, সে হবে কামিল মু’মিন এবং ইহকাল ও পরকালের সাফল্যের হকদার।
এই সকল মু’মিনদেরকে ‘আল্লাহতালা’ ওয়াদা দিয়েছেন,”জান্নাতুল ফিরদাউস” এর উত্তরাধিকারী করে দেবেন।
“বিশ্বপ্রতিপালক”, “সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান” দয়াময় ‘আল্লাহ তা’আলার চেয়ে, অধিক ওয়াদা পালনকারী আর কে আছে ?
 সুত্র- তাফসীরে মাআরেফুল কোরআন
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 14
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ