জালিয়াতি মামলায় জামায়াত নেতা এডভোকেট সিরাজ কারাগারে

প্রকাশিত: ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২২

জালিয়াতি মামলায় জামায়াত নেতা এডভোকেট সিরাজ কারাগারে
 জালিয়াতি মামলায় জামায়াত নেতা এডভোকেট সিরাজ কারাগারে।
সিলেটে গির্জা ও কবরস্থানের জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কারণে আলোচিত আইনজীবী ও জামায়াত নেতা সিরাজুল ইসলাম এবার দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের মামলায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। রোববার বিকালে মামলার শুনানী শেষে সিলেট মহানগর দায়রা জজ মো. আব্দুর রহিম তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আদালত প্রতিবেদক♦
এর আগে চেক ডিজঅনার ও প্রতারণা মামলায় দুইবার জেল খাটেন এই জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। নগরীর রিকাবিবাজারের পুলিশ লাইন্স লুসাই গির্জা সমিতির জায়গা ও তাদের কবরস্থানের ভূমি জালিয়াতি করে সাফকাবালা দলিল সৃষ্টি, জমির শ্রেণি পরিবর্তনও নামজারি করার অভিযোগে ২০২১ সালের ২৯  জুন মামলা করেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক ইসমাইল হোসেন।
মামলায় জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম ছাড়াও সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার, ভূমি অফিসের কানুনগো ও তহশিলদারকে আসামি করা হয়। সাবরেজিস্ট্রার সিলেট থেকে বদলী হওয়ার পর পলাতক থাকলেও মামলায় জামিনে ছিলেন সিরাজসহ অপর দুইজন। সম্প্রতি পুলিশ লাইন্স গির্জা সমিতির চেয়ারম্যান জমিংথাংগা লুসাই হুমকীরঅভিযোগে সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন।পাশাপাশি আদালতে জামিন বাতিলেরও আবেদন করেন। রোববার জামিন আবেদন শুনানী শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী নাহিদা।
প্রসঙ্গত, রিকাবিবাজারের সিলেটে জেলা স্টেডিয়ামের সামনে গির্জার জায়গাও কবরস্থান দখল করে ইম্পালস টাওয়ার গড়ে তুলেন আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম। সিরাজুল ইসলাম সাক্ষি সেজে ছাফিয়া আহমদ নামের এক মহিলার নামে ৯৭ সালের
২৩ জানুয়ারি গির্জার ১৫ শতক জায়গা ইজারার জন্য একটি বয়নাপত্র সম্পাদন করেন। ওই বায়নাত্র রেজিস্ট্রি না করে সিরাজুল ইসলাম ২০০৬ সালে ২৪ ডিসেম্বর ইজারা বলবৎ থাকাবস্থায় গীর্জা সমিতির অবশিষ্ট ৮০ শতক জায়গা একটি সাফকাবালা দলিল (নং ১৮৫২২/০৬) নিজে সম্পাদন করেন। এতে ক্ষুব্দ হয়ে উঠেন ইজারাদার ও গির্জা সমিতির লোকজন। এ নিয়ে মামলা হলে ২০১৪ সালের ২৮ অক্টোবর আদালত ওই দলিল বাতিল করেন। পরবর্তীতে টাওয়ারে বিনিয়োগকারীসহ গির্জা সমিতির সাথে সিরাজুল ইসলামের একাধিক মামলা হয়। পাশাপাশি গির্জা সমিতির আবেদনের প্রেক্ষিতে দুদক সিরাজুল ইসলামসহ ৪ জনের
বিরুদ্ধে মামলা করে। সেই মামলায় তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
জাল জালিয়াতিতে সিদ্ধহস্ত এই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে দলীয় নেতা কর্মীর অন্তহীন অভিযোগ। বহু পাওনাদারের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ  জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল সাবেক সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এর কাছে দায়ের রয়েছে বলে জানা গেছে। অনেক অভিযোগের সত্যতা পেয়ে পাওনা পরিশোধের নির্দেশনা দলীয় ফোরাম থেকে দেয়া হলেও এডভোকেট সিরাজ তার কোন তোয়াক্কা করেননি।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ