ডা. সাবরিনার অন্ধকার জগতের রহস্যময় কাহিনী

প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০

ডা. সাবরিনার অন্ধকার জগতের রহস্যময় কাহিনী

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক, ঢাকা: অবশেষে পুলিশের জালে আটকে গেলেন ডাক্তার পরিচয়ের কলংক সাবরিনা। ডাক্তার পরিচয়েই তার অন্ধকার জগতে বসবাস। রুপ যৌবন নেশা সব তার অন্ধকার পথেই । বল্গাহীন জীবন যাপনকারী সাবরিনা ইয়াবাসেবী। অন্ধকার জগতের এমন কোন পথ নেই যে পথে সে হাটেনি।

রোববার ( ১২ জুলাই) দুপুরে তাকে তেজগাঁও ডিসির কার্যালয়ে ডেকে নেয়া হয় ডা. সাবরিনাকে। করোনা ভাইরাসের ভুয়া নমুনা পরীক্ষার ঘটনায় জেকেজি’র চেয়ারম্যান ডা সাবরিনাকে তেজগাঁও ডিসির কার্যালয়ে জিঞ্জাসাবাদ করা হয় ঘন্টাখানেক। উপচে পড়া যৌবন কিংবা শরীরের ভাঁজ আর কাজে আসেনি। পুলিশের প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি রাতকাঁপানো এ রমনী। অবশেষে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

করোনা পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে গ্রেফতার হওয়া জেকেজি হেলথ কেয়ারের সিইও আরিফ চৌধুরীর প্রতারণার নেপথ্যে ছিলেন তার স্ত্রী ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। তাদের এক ল্যাপটপেই পাওয়া গেছে ১৫ হাজারেরও বেশি করোনার ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক সাবরিনার দাপটেই আরিফ চৌধুরী করোনা পরীক্ষার অনুমতি বাগিয়ে নেন স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে। জেকেজির চেয়ারম্যান হিসেবে সব যোগাযোগ রক্ষা করতেন সাবরিনাই। কিন্তু অপকর্ম ধরা পড়ার পর গা বাঁচিয়ে চলেছেন সাবরিনা। গ্রেফতার হয়েছেন জেকেজির আরিফসহ ছয়জন। প্রায় তিন সপ্তাহ  ডা. সাবরিনা ছিলেন বহাল তবিয়তে। অফিস করেছেন নিয়মিত। বিভিন্ন লাইন ঘাট করতে তদ্বির প্রচেষ্ঠা কম করেননি। কিন্তু অন্ধকার জগতের সহযোগী কেউ এগিয়ে আসেনি।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে চাকরিতে থেকেই জেকেজির চেয়ারম্যান পদে ছিলেন ডা. সাবরিনা। কীভাবে, কার মাধ্যমে তিনি এ কাজ হাতিয়েছেন, সে ব্যাপারে চলছে অনুসন্ধান। তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো তথ্য রহস্য বেরিয়ে আসবে।
পুলিশও বলছে, জেকেজির প্রতারণা থেকে সাবরিনার কোনোভাবেই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ তার স্বামী আরিফ চৌধুরী জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাবরিনার সক্রিয় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ