‘তদন্ত করতে গিয়ে বুঝলাম, সাহেদ বিশ্ব চিটার।’

প্রকাশিত: ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২০

‘তদন্ত করতে গিয়ে বুঝলাম, সাহেদ বিশ্ব চিটার।’

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক,ঢাকা♦ একের পর এক বিস্ময়কর তথ্য দিচ্ছেন রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান ও রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদ। তার প্রতারণার তথ্য গোয়েন্দা  কর্মকর্তারা যত জানছেন, ততই বিস্মিত হচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, এমন প্রতারক তাঁরা জীবনে আর একটিও দেখেননি। পুরো মিথ্যা একটি বিষয়কে এমনভাবে সত্য বানিয়ে চালাতেন যা ধরার সুযোগ থাকত না।

গাফ্ফারুল আলম বলেন, “যেদিন সাহেদকে আদালতে তোলা হয় সেদিন তিনি আদালতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘আমি দেড় মাস ধরে করোনায় আক্রান্ত।’ অথচ তিনি কিন্তু করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। করোনার কথা ঘোষণা করা তাঁর একটি প্রতারণার অংশ ছিল।”

পরিদর্শক গাফ্ফারুল বলেন, ‘এই ব্যাপারে পরে রিমান্ডে নিয়ে সাহেদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। সে সময় তিনি পূর্বে করোনা হওয়ার কথা জানান। কিন্তু বর্তমানে তিনি করোনা আক্রান্ত না হওয়ার কথা জানান। তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। আমরা জানতে পেরেছি তিনি মূলত আমাদের ফাঁকি দিতে এসব কথা আদালতে বলেছিলেন।’

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. শফিকুল আলম বলেন, ‘সাহেদ তো প্রতারক। প্রতারণা করাই তার একমাত্র কাজ। সেজন্য সে নানা ছলতাতুরির আশ্রয় নিয়েছে। হয়তো করোনা হওয়ার কথা বলে তদন্ত বা রিমান্ডের হাত থেকে বাঁচতে চেয়েছিল। কিন্তু সেটা কি আর হয়? আমাদের প্রয়োজনে আমরা তদন্ত করব, এটাই স্বাভাবিক।’

করোনাভাইরাসের টেস্ট নিয়ে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গত ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই মামলায় রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজের ১০ দিন ও জনসংযোগ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলীর সাত দিন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

১৬ জুলাই ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ নিজের করোনা হওয়া নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি দেড় মাস ধরে করোনায় আক্রান্ত।’ অথচ এক মাস আগে গত ১৬ ও ১৭ জুন সাহেদ তাঁর ফেসবুক পেজে করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

এক মাস আগে যা বলেছিলেন সাহেদ

গত ১৬ জুন সাহেদ তাঁর ফেসবুকে লিখেন (হুবহু), ‘শ্বাসরুদ্ধকর ১২ দিন।

প্রথমদিন প্রচন্ড কোমরে ব্যাথা, সাথে জ্বর। সাথে সাথে করোনা টেস্ট করালাম। ফলাফল পজেটিভ আসলো। যেহেতু আমি নিজে ০২টি হাসপাতাল পরিচালনা করি তাই বাসায় না গিয়ে অফিসে আইসোলেশনে চলে গেলাম। মনোবল একটুও নষ্ট হয়নি। প্রচন্ড মনোবল নিয়ে করোনা জয়ের জন্য নামলাম। যেদিন শ্রদ্ধেয় নেতা নাসিম ভাই, শ্রদ্ধেয় আব্দুল্লাহ্ চাচা ও স্বাস্থ্য সচিবের স্ত্রী মৃত্যুবরণ করলেন, সেদিন মনোবল একটু হারিয়ে ফেলেছিলাম। যেহেতু অহ রহই ব্লাড থমবোসিস ও রক্তে জমাট বাঁধার মতো ঘটনা ঘটছে। কিন্তু আমার সহকর্মীদের, আমার ডাক্তারদের পরিচর্যা আমার মনোবলের দৃঢ়তা ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। এর মধ্যে পরিবার ও আত্বীয় স্বজনদের থেকেও পেয়েছি পূর্ণ সহযোগীতা। সকলের ফোন ধরেছি, সবার সাথেই কথা বলেছি, কাওকে নিজের ভেতরটা বুঝতে দিইনি। আজ দীর্ঘ ১২ দিন পর রিপোর্ট আসলো নেগেটিভ। দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে স্বস্তি পেলাম। সবাই দোয়া করবেন আমি যেনো পুণরায় আমার করোনা ডেডিকেটেড রিজেন্ট হাসপাতাল লিঃ কে সাথে নিয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পারি।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 26
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ