দশ বছরেই কোটিপতি চেয়ারম্যান বিল্লাল : তদন্তে দুদক

প্রকাশিত: ১:৩৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১

দশ বছরেই কোটিপতি চেয়ারম্যান বিল্লাল : তদন্তে দুদক

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:

মাত্র দশ বছরের ব্যবধানে শূন্য থেকে কোটিপতি হয়েছেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আলোচিত-সমালোচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক বিল্লাল আহমদ । নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেনে অবৈধ অর্থের পাহাড় । টিআর, কাবিখা, এলজিএসপি প্রকল্পসহ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি, ভূয়া প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতসহ হাজারো অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ।

চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদের অবৈধ সম্পদ অর্জন, দুনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নির্দেশে সুনামগঞ্জ জেলা ডিসি জেনারেল শরিফুল আলম এ তদন্ত শুরু করেছেন। মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা, এলজিএসপি ইত্যাদি প্রকল্পের কাগজপত্র যাচাই-বাচাই তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে টিআর, কাবিখা, এলজিএসপি ইত্যাদি প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন বিল্লাল আহমদ। ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থও লুটপাট করার অভিযোগ রয়েছে।

ভুয়া প্রকল্পগুলোর অন্যতম হচ্ছে ধারণ বাজার থেকে আমেরতল রাস্তায় প্রতি বছর একাধিক প্রজেক্ট, মানিকগঞ্জ থেকে ফুরকাননগর, ছাতক-জাউয়াবাজার রাস্তা থেকে ডুবির ভাঙা, বৈঠাখালী, পলিরটুক রাস্তা । এমপির বিশেষ বরাদ্দের চাল, গম উত্তোলন করে নামে-বেনামে লাখ লাখ টাকার প্রকল্প ‘কাগজে আছে বাস্তবে নেই’ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত।

চেয়ারম্যান বিল্লাল বিলাসবহুল একটি গাড়ি নিয়ে চষে বেড়ান পুরো উপজেলা, যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন? । মামলা বাণিজ্য, বিরোধীদের হয়রানি, চাঁদাবাজিসহ অসংখ্য অভিযোগে অভিযুক্ত তিনি ।

জানা গেছে, উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আমেরতল গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারে বিল্লাল আহমদের জন্ম। ২০১১ সালে প্রথম চেয়ারম্যান ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০১৫ সালে তিনি উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এর পর দলীয় প্রতীক নৌকা পেয়ে তিনি ২০১৬ সালে আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাকে আর পেছন ফিরে থাকাতে হয়নি। দলীয় প্রভাব আর চেয়ারম্যানের ক্ষমতার দাপটে অর্জিত টাকায় তিনি এখন বিলাসবহুল বাড়ি- গাড়ি, জায়গা-জমির মালিক। তার নানা অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারপিট ও হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন নিজ দলের অনেক নেতাকর্মী।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় সুনামগঞ্জ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উত্তর খুরমা ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে সচেতন উত্তর খুরমা ইউনিয়নবাসী গত বছরের ৩০ জানুয়ারি অভিযোগের সূত্র ধরে দুদক ঢাকা প্রধান কার্যালয় চেয়ারম্যানের সম্পদের হিসাব অনুসন্ধানে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় সুনামগঞ্জকে তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশনা মোতাবেক তাকে তলব করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে এ ব্যাপারে উত্তর খুরমা ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য তার বিরুদ্ধে একটি চক্র মিথ্যা অভিযোগ করেন।

তার বিরুদ্ধে কি বিষয় নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছেন তা তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন একটি চক্র।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা ডিসি জেনারেল শরিফুল আলম জানান, চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নির্দেশে তার বিরুদ্ধে ভুয়া প্রকল্প টিআর, কাবিখা, এলজিএসপি বিশেষ বরাদ্দের কাজ না করে আত্মসাৎ ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনার তদন্ত চলছে।

এ অভিযোগের ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 198
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ