নারী চোরচক্রের রয়েছে দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক

প্রকাশিত: ৩:১৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩, ২০২০

নারী চোরচক্রের রয়েছে দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক

বাসার বেডরুমে নারী চোর ঢুকে জিনিষপত্র হাতিয়ে নেবার সময় আটক ও পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড়। ২৯ নভেম্বর এ ঘটনায় প্রভাতবেলায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি ভাইরাল হয়ে যায় সাথে। সংবাদটির ভিউয়ার্স এ পর্যন্ত ৯ লাখ ছাড়িয়েছে । প্রভাতবেলা প্রতিবেদক

এদিকে জনমনে প্রশ্ন, হাতেনাতে ধরার পরও পুলিশ কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি? প্রভাতবেলা’য় ফোন করে সিলেট নগরীর অনেকেই বলছেন, তাদের ভাষায়ও এমন চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভিডিওচিত্র দেখে কেউ বলছেন তার বাসা থেকে চুরি করে পালিয়ে যাওয়া মহিলার চেহারা ঐ মহিলার মত।

মাহমুদা কুমকুম জানান, এই মহিলা সত্যি চুরি করার উদ্দেশ্য গেছে। আমার বাসায় এই মহিলার মতো একজন মহিলা চুরি করে মোবাইল নিয়ে গেছে। কোনো ভাবে ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

রঞ্জন চৌধুরী বলেন, এই মহিলা আমার অফিস থেকে ও ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে গেছে। আমি তার ভিডিও ফুটেজ দিয়ে বনানী থানায় জিডিও করেছি।

ঘটনার সময় মহিলা কিছুটা অসংলগ্ন তথ্য দেয়। খিলগাঁও চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এর পাশে তার বাসা জানায়। এটা প্রতারণামূলক তথ্য।  তার নাম ও স্বামীর নাম প্রকাশেও সে সঠিক কথা বলেনি।

অপূর্ব আহমদ লিখন জানানা, মহিলার নাম সেলিনা তার স্বামীর নাম ‘চোরা সপন’ আর তার মার নাম মমতাজ বেগম,বাপের নাম সেলিম, আর সে ঢাকার সবুজবাগ থানার বাসাবোএলাকার  ৮৪ নম্বর বাসায় (ওহাব কলোনিতে) থাকে। লিখন বলেন, সে শীর্ষচোর  তার স্বামী চোরদের লিডার। 

সিলেটে বাসায় প্রবেশ করে জিনিষপত্র হাতিয়ে নেবার ভিডিও চিত্র দেখে অনেকেই এই মহিলার নানা তথ্য দিচ্ছেন। প্রভাতবেলা’র অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। আন্ত;জেলা নারী চোর সিন্ডিকেটের সদস্য এই মহিলার বিরাট একটা গ্যাং রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের আওতায় তারা দেশব্যাপী চুরি ছিনতাই ডাকাতি কার্যক্রম চালায়।

প্রসঙ্গত: গত ২৮ নভেম্বর বিকেলে সিলেট নগরীতে অভিনব কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। বাসার বেডরুমে ঢুকে মোবাইল, ল্যাপটপ নিয়ে পালিয়ে যাবার সময় নারী চোরকে আটক করা হয়। বাড়ীর মালিকসহ স্থানীয় জনগণ ৯৯৯-এ পুলিশ ডেকে আনেন। নারী চোরকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। কিন্তু পুলিশ এ নারী চোরকে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে মানবিক বিবেচনায় ছেড়ে দেয়।

 

 

 

ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর মীরাবাজার খারপাড়ার শফিক মিয়ার বাসায় শনিবার বিকেল ৪টার দিকে। শফিক মিয়া নগরীর সবুজ বিপনীর ‘অনুপম’ এর স্বত্বাধিকারী। প্রত্যক্ষদর্শী ওমর ফারুক ইমন (তার ফেসবুক টাইমলাইনে) জানান, শফিক এর খারপাড়াস্থ বাসায় ২৮/৩০ বছরের এক মহিলা ঢুকে পড়ে। মেইন গেইট দিয়ে ঢুকে বাসার ড্রয়িং রুম হয়ে একে একে দুটি বেডরুমে ঢুকে। দ্বিতীয় বেডরুম থেকে একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল মহিলা তার ব্যাগে ঢুকিয়ে নেয়।

 

 

 

এরপর সে তৃতীয় বেডরুমে ঢুকে। ঐ রুমে জনাব শফিকের ভাগনা ঘুমিয়ে ছিলেন। ঐ মহিলা যখন বেরিয়ে যাবে হঠাৎ করে ঘুম ভাংগে ভাগনার। অপরিচিত মহিলা দেখে সে চিৎকার চেঁচামেচি করলে বাসার লোকজন জড়ো হন। হাতেনাতে আটক করেন নারী চোরকে।

 

 

 

তার ব্যাগ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল উদ্ধার করেন। আটককারী লোকজন ঐ মহিলার পরিচয় জানতে চান এবং সে কেন কিভাবে বাসায় ঢুকেছে তা জানতে চান। তখন ঐ মহিলা বলে,“আমি ভুল করে চলে আসছি ভাই। সরি আমি চলে যাই।”

 

 

সে জানায় তার বাড়ি ঢাকার খিলগাও।  নাম সোনিয়া ইসলাম, স্বামীর নাম তুষার ইসলাম, দুই ছেলে তার ছায়মন ও ছাকিব, স্বামী সৌদি আরবে থাকেন।

 

 

 

 

ওমর ফারুক বলেন, এসময় তিনি নিজে প্রথমে তার পরিচিত এসআই খালেদকে কল করেন। এসআই খালেদ জানান তিনি সিটিতে নেই। পরে তিনি

 

 

৯৯৯ এ কল করেন। ৯৯৯-এ কল করার আনুমানিক ২০ মিনিটের মধ্যেই ৫ জন পুলিশের একটা টিম অকুস্থলে এসেপৌঁছায়। পুলিশ আসার পর মহিলার কান্নাকাটি শুরু করে। তাকে ছেড়ে দেবার অনুরোধও করতে থাকে। পুলিশও বললো আপনারা তাকে ক্ষমা করলে আমাদের আপত্তি নেই।এক পর্যায়ে তাকে ছেড়েদেয়া হয়।

 

 

ওমর ফারুক বলছেন ক্ষমা করার একটা বিশেষ কারণ হচ্ছে ঐ মহিলা ৪/৫ মাসের  গর্ভবতী।  যেহেতু সে গর্ভবতী সে বিবেচনায়  তাকে  পুলিশ প্রহরায় এলাকা থেকে বের করে দেয়া হয়।

 

 

ওমর ফারুকের ভাষ্যমতে, মহিলার পোশাক এবং চেহারা দেখে মনে হয় উনি গরিব নন, তবে পেশাদার চোর। শুধু তাই নয় তিনি খুব স্মার্ট এবং উচ্চ শিক্ষিতা। মহিলার বয়স আনুমানিক ২৮/৩০ বছর হবে।

 

 

ঘটনার আদ্যপান্তে এই মহিলা নারী চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য তাতে সন্দেহ থাকার কোন অবকাশ নেই। তাকে আইনের আওতায় নিয়ে এই অপরাধী চক্রের রহস্য উদঘাটন করাই ছিল পুলিশের কাজ। তা না করে প্রহরা দিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে দিয়ে পুলিশ কি করলো?

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখুন

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 22
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ