নোয়াখালীতে বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় অভিযান শুরু: কাদের

প্রকাশিত: ৫:৪০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২১

নোয়াখালীতে বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় অভিযান শুরু:  কাদের

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নোয়াখালীতে কিছুদিন ধরে যে বিশৃঙ্খলা চলছিল, সে বিশৃঙ্খলার ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে অভিযান শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে প্রায় ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারাই জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সকালে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব বলেন। তিনি তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলনে যুক্ত হন।

 

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দল করলে দলের শৃঙ্খলা মানতে যত বড় নেতা, যত বড় জনপ্রতিনিধি হোন, দল ছাড় দেবে না। দল করলে দলের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।’

‘পরিষ্কারভাবে বলতে চাই কোনো অবস্থাতেই শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো তৎপরতায় লিপ্ত হলে তাদের অবস্থায় দলীয়ভাবে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অনুযায়ী তাদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো অবস্থায় কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো কারণ নেই।’

 

শেখ হাসিনার সরকার দলের মধ্যে যারা অপকর্ম করছে, অনিয়ম করছে, দুর্নীতি করছে কাউকে কিন্তু আমাদের নেত্রী ছাড় দিচ্ছেন না। বাংলাদেশে আজ আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিরাও দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হচ্ছে, এখানে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না।

‘অনিয়ম দুর্নীতি যারাই করবে, প্রশাসনকে বলে দেওয়া হয়েছে—দুর্নীতি দমন কমিশনকে বলে দেওয়া হয়েছে, সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না, কে কোন পরিচয়ের সেটি দেখবে না। যারাই বিশৃঙ্খলা করবে, অপকর্ম করবে, অনিয়ম করবে, দুর্নীতি করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক-সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ বলেন ওবায়দুল কাদের।

 

বিশৃংখলা করবে, অপকর্ম করবে। অনিয়ম করবে, দুর্নীতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক-সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীতে কিছুদিন ধরে যে বিশৃঙ্খলা চলছিল, সে বিশৃঙ্খলার ব্যাপারেও সরকার ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারাই জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সাংগঠনিক তদন্ত চলছে। সাংগঠনিক ব্যবস্থাও অচিরে নেওয়া হবে। কাজেই প্রশাসনিক সাংগঠনিক দুধরনের ব্যবস্থাই নিতে হবে। যারাই বিশৃংখলা করবে, অনিয়ম করবে, দুর্নীতি করবে, অপকর্ম করবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

 

নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগীদের কমিটিতে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিতর্কিত ব্যক্তি, বসন্তের কোকিলদের দলে টেনে ত্যাগী কর্মীদের উপেক্ষা করবেন না। যারা সুসময়ে দলে আছে, যারা মৌসুমী পাখি, বসন্তের কোকিল, সুসময়ে আসবে। দুঃসময় যখন দল পড়ে যাবে, তখন এই বসন্তের কোকিল-অতিথি পাখিদের আর দেখা যাবে না। কাজেই ত্যাগী নেতারাই আওয়ামী লীগের প্রাণ।’ তাই তাদেরকে কমিটিতে যোগ্যতার আসনে বসার আহ্বান জানান

পকেট ভারি করার জন্য বসন্তের কোকিলদের দলে না টানতে জেলা ও উপজেলার নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

 

নিজেদের ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপাতে বিএনপি সিদ্ধহস্ত, তাই তারা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে জনগণ ও পুলিশকে দাঁড় করিয়েছে বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। অব্যাহত ব্যর্থতা আর ক্ষমতার রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে বিএনপি এখন দিশেহারা পথিকের মতো বলেও মন্তব্য করেন।

 

আগামীদিনের রাজনীতি উন্নয়ন আর সমৃদ্ধিকে ঘিরে হবে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অন্যদিকে বিএনপির অপরাজনীতিতে জনগণের আস্থা নেই,তাই বিএনপিকে অপপ্রচার আর অপরাজনীতি ছেড়ে ইতিবাচক রাজনীতিতে ফিরে আসাই জরুরি।’

 

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন ঐক্যবদ্ধের বিকল্প নেই, মতভেদ ভুলে দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

 

আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী সভাপতি মো. মোকসেদ আলী মণ্ডলের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এস এম কামাল হোসেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানাসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা-উপজেলার নেতারা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ