পুলিশের অপরাধ প্রবণতা || সিএমপিতে ৩৭ পুলিশ চাকুরীচ্যুত,শতাধিক দন্ডিত

প্রকাশিত: ৪:১৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০২১

পুলিশের অপরাধ প্রবণতা || সিএমপিতে ৩৭ পুলিশ চাকুরীচ্যুত,শতাধিক দন্ডিত

পুলিশের অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় ২০২১ সালের ১০ মাসে সিএমপির ২৭ পুলিশ সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ২০২০ সালে সিএমপির ৫০ সদস্যকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ সদস্য চাকরিচ্যুত হয়েছে আর ৪০ জন গুরুদন্ডে দন্ডিত হয়েছে। চট্রগ্রাম ব্যুরো♦

 

চট্টগ্রাম চলতি বছরের গত ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত গত ১০ মাসে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, জবরদখল, শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়ানোর অভিযোগে সিএমপির মোট ২৭ পুলিশ সদস্যকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

 

এরমধ্যে ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ মেলায় স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত হন সিএমপির ৬ কনস্টেবল। অন্য ২১ জন নানা অপরাধে চাকরি হারান। তবে এসব অপরাধে জড়িয়ে চাকরি হারাদের র‌্যাংক কনস্টেবল থেকে সাব ইন্সপেক্টরেই সীমাবদ্ধ।

 

২০১৮ সালের ৩০ জুলাই রাতে বাকলিয়ায় একটি ভাড়া বাসার দরজা ভেঙে ১৩ হাজার ৫শ’ পিস ইয়াবা জব্দ করে র‌্যাব। পরে জানা যায়, এসব ইয়াবার মালিক বাকলিয়া থানার চাকতাই পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই খন্দকার সাইফ উদ্দিন। এ ঘটনায় তাকে পুলিশ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

 

পরে ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি  আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করে। এরপর এসআই খন্দকার সাইফ উদ্দিনকে স্থায়ীভাবে পুলিশ বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বিষয়টি প্রভাতবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিএমপির উপ-কমিশনার (সদর) আমীর জাফর।

 

তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ দশ মাসে ডোপ টেস্টে ৬ জনের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধে মোট ২৭ পুলিশ সদস্যকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, এরা ছাড়াও এক বছরে পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অপরাধে জড়িত প্রমাণিত হওয়ায় চাকরিচ্যুতসহ শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন অন্তত ৫০ সদস্য। গুরুদন্ড পেয়েছেন অন্তত ৪০ সদস্য। অপরাধের ধরণ বুঝে কখনো পুলিশ সদর দপ্তর, কখনো সিএমপি থেকে তদন্ত করা হয়।

 

 

অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী দায়ী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। দায়ীদের বিরুদ্ধে অনেকের চাকরি না গেলেও পদাবনতি করা হয়েছে, কারো বেতন বৃদ্ধি রহিত করা হয়েছে, আবার কারও সার্ভিসবুকে ব্ল্যাক পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সিএমপির উপ কমিশনার (সদর) আমীর জাফর।

 

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জনা গেছে, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে মাসে দশটির বেশি অভিযোগ জমা পড়ে । অনেকে সাহস করে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও বেশিরভাগই ভয়ে সেই পথে পা বাড়ায় না। এসবের মধ্যে কয়েকটির সত্যতা মিললেও বেশির ভাগই অভিযোগকারীর সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আপোষ হয়ে যায়।

 

মূলত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে অনেকেই নানা উপায়ে দ্রুত আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে, আবার অনেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে বেপরোয়া হয়ে নানা অপরাধ করছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ, পোস্টিং ও পদোন্নতির কারণেই এমনটা হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

 

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা পর্যবেক্ষণে দেখতে পাই, এখন এমন কোনো অপরাধ নেই যাতে পুলিশ জড়িয়ে পড়ছে না। এটার ব্যাপ্তি খুব গভীর, বি¯ৃত এবং সব পর্যায়ে। কেউ কেউ যেমন সততার দৃষ্টান্ত দেখাচ্ছেন, তাদের সংখ্যা কম আবার অবস্থানও দুর্বল হয়ে আসছে।’ ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘একদিকে যেমন ব্যক্তিগতভাবে নৈতিক অবক্ষয়ের ঘটনা আছে।

 

অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে পুলিশকে ব্যবহার করার যে প্রবণতা, সেখান থেকেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দুর্নীতি এত বিস্তৃত হওয়ার কারণ এর সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ। এর ফলে যেমন অনেকে জবাবদিহিতার বাইরে থাকার সুযোগ পান। আবার অনেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে বাধ্য হওয়ার পর নিজেও ব্যক্তিগতভাবে অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে অর্থ উপার্জনের পথ ধরছেন। বাহিনীর মধ্যে যেমন দুর্নীতি-অনিয়ম-অপরাধের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

 

 

 

সিএমপির উপ-কমিশনার (সদর) আমীর জাফর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অপরাধ করে কোনও পুলিশ সদস্যই পার পেয়েছে এরকম নজির নেই। আমাদের নজরে এলেই তা তদন্ত করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত ২০২০ সালে সিএমপির ৫০ সদস্য শাস্তির আওতায় আসছে। এদের মধ্যে দশ সদস্য চাকরিচ্যুত হয়েছে আর ৪০ জন গুরুদন্ডে দন্ডিত হয়েছে। তাদের অনেকের পদাবনতি করা হয়েছে, কারো বেতন বৃদ্ধি রহিত করা হয়েছে, আবার কারও সার্ভিসবুকে ব্ল্যাক পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, আমাদের কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসা মাত্রই আমরা কিন্তু তাদের শাস্তি নিশ্চিত করছি। কারো কারো ক্ষেত্রে বিভাগীয় মামলা হচ্ছে, আবার কারো ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলাও দেয়া হচ্ছে। আমরা শাস্তির মাধ্যমে তাদের বোঝাতে চাই, অপরাধ করলে পার পাওয়া যাবে না।

 

জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশের যারা দুর্নীতিতে জড়াচ্ছেন, সেটা সংখ্যা হিসেবে খুব বেশি নয়। তবে কম-বেশি যেটাই হোক, এরকম অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে শক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়। আকাম করে কেউ পার পায়নি, পাবেও না। যেই অপরাধী হবে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 15
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    15
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ