ফখরুল মহানগর আমীর: জুবায়ের, হারুন কেন্দ্রে

প্রকাশিত: ১:১৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২০

ফখরুল মহানগর আমীর: জুবায়ের, হারুন কেন্দ্রে

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক♦ সিলেট জামায়াতের অভ্যন্তরে সব জল্পনা কল্পনার অবসান । অবশেষে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীরের আসনে বসছেন মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর আলহাজ মু. ডা. শফিকুর রহমানের ছোট ভাই। নগর জামায়াতের আমীর পদ নির্বিঘ্ন করতে সব ধরণের প্রতিবন্ধকতা নিরসন করা হয়েছে ইতোমধ্যে।

মহানগরীর বর্তমান আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও সিনিয়র নায়েবে আমীর হাফিজ আব্দুল হাই হারুনকে কেন্দ্রে কো-অপ্ট করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। মহানগরীর রুকনদের তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে । আমীর নির্বাচনে জুবায়ের, হারুনকে ভোটের বাইরে রাখা হয়েছে। সঙ্গত কারণেই একমাত্র নায়েবে আমীর ফখরুল ইসলামই আমীর নির্বাচিত হচ্ছেন সময়ের ব্যবধানে। জামায়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলসুত্র প্রভাতবেলাকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

সুত্র জানায়,গত সপ্তাহকাল ধরে সিলেট মহানগর জামায়াতের ৭টি সাংগঠনিক থানায় আমীর নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় গোপন ব্যালটের মাধ্যমে। জামায়াতের সাংবিধানিক বিধি ও রীতি অনুযায়ী কোন পদের জন্য কেউ নিজে প্রার্থী হতে পারেননা। রুকনদের যে কাউকে ভোট প্রদান করা যায়। তবে কেন্দ্রীয় সংগঠন বা উর্ধতন সংগঠন কোন শাখায় দায়িত্বশীল নির্বাচনে তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারে।

এক্ষেত্রে কাউকে সরিয়ে নেয়া হয় অথবা কাউকে যুক্ত করে দেয়া হয়। পরোক্ষভাবে তা রুকন(ভোটাররা)রা তা বুঝে নেন। জুবায়ের ও হারুনকে সরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে ফখরুলকে আমীর করার কেন্দ্রীয় ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। প্রভাতবেলা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন নগর জামায়াতের একাধিক রুকন।


সিলেট জামায়াতের এক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রভাতবেলাকে বলেন, এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে কেন্দ্রীয় এসিসট্যান্ট সেক্রেটারী জেনারেল করা হচ্ছে। তাছাড়া বর্তমানেও তিনি সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীরের পাশাপাশি কেন্দ্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। ঐ নেতা জানান, জুবায়ের মুলত: প্রবাসে জামায়াতের বিভিন্ন শাখা তদারকির দায়িত্ব পালন করেন। অপরদিকে মহানগরীর সিনিয়র নায়েবে আমীর হাফিজ আব্দুল হাই হারুনকে কেন্দ্রের কোন্ শাখায় বা পদে বসাবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি। জামায়াত ঘনিষ্ট অপর এক সুত্র জানায়, আব্দুল হাই হারুনকে সিলেট আঞ্চলিক টিমের সচিব করা হতে পারে। আবার অপর এক সুত্রমতে, তাকে কেন্দ্রীয় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কোন দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।
মহানগর জামায়াতের ৬ শতাধিক রুকন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রভাতবেলার অনুসন্ধানে জানা যায়, অধিকাংশ রুকনই ফখরুল ইসলামকে ভোট দিয়েছেন। তারা বলছেন, কেন্দ্রের ‘হিকমতের’ বাইরে যেতে চাননি। তবে কেউ কেউ মাওলানা সোহেল আহমদকে ভোট দিয়েছেন বলে জানান। রুকনদেও ব্যালট ইতোমধ্যে আঞ্চলিক দায়িত্বশীল অধ্যাপক ফজলুর রহমানের কাছে পৌছে গেছে। তিনি সুবিধাজনক সময়ে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রে পৌছাবেন। ডিসেম্বরে কেন্দ্র ঘোষণা করবে নতুন আমীরের নাম।

ফখরুল ইসলাম মহানগর জামায়াতের আমীর হোন এর বিপক্ষে অনেক থাকলেও কেন্দ্রিয় জামায়াতের আমীরের ভাই এই প্রভাবে মুখ খুলতে নারাজ তারা। তাছাড়া জামায়াতের সাংগঠনিক নিয়মেও ফোরামের বাইরে কোন মন্তব্য করা যায়না।

তবে থানা পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীলের মতে, এটা জামায়াতের আভ্যন্তরীণ সিস্টেম। সংগঠন বাড়ছে, দায়িত্বশীল সংকট আছে। নতুনদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে। তাছাড়া জামায়াত তার যে ছকে চলে তাতে যে কেউ আমীর হলে দায়িত্বপালনে অসুবিধা হবেনা। জামায়াতের কর্মী, সহযোগী সদস্যরা এখবর জানেন না। কয়েকজন জামায়াত কর্মীকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, সাংগঠনিক কাজে তেমন অসুবিধা হবেনা। তবে পারিপাশির্^ক অনেক বিষয়, প্রতিপক্ষ সংগঠন ও সামাজিক কাজে হোচট খেতে পারেন ফখরুল। তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। অনেকটা একরোখা প্রকৃতির এই নেতা সার্বজনীন নেতৃত্ব দানে জুবায়ের এর মত সমর্থন না-ও পেতে পারেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ