বছর শেষে আসবে করোনার টিকা?

প্রকাশিত: ৪:১৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০

বছর শেষে আসবে করোনার টিকা?

 

বিশ্বভূবন ডেস্ক:

 

মার্কিন সংস্থা মডার্না আইএনসি এবং ফাইজার আইএনসি করোনা ভাইরাসের টিকা তৈরির শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে । মার্কিন সরকারের সমর্থনে গবেষণার তৃতীয় পর্যায়ে ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর উপর টিকার চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু করেছে তারা।

স্থানীয় সময় সোমবার সকালে জর্জিয়ার সাভানায় এক ব্যক্তির উপর এই টিকা পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করা হয়। আগামী দিনে আমেরিকার ৮৯টি জায়গায় এই পরীক্ষা হবে। তাতে সাফল্য এলে চলতি বছরের শেষ দিকে করোনভাইরাসের টিকা বাজারে আনতে পারবে ওই দুই সংস্থা।

তৃতীয় পর্যায়ে মানবশরীরের উপর টিকার এই পরীক্ষামূলক প্রয়োগকে ফেজ থ্রি কোভ স্টাডি বলা হচ্ছে। এর আগে কখনও কোনও টিকা তৈরির অভিজ্ঞতা নেই মডার্নার। তবে মার্কিন সরকারের কাছ থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলার অর্থসাহায্য পেয়েছে তারা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করোনার টিকা বাজারে আনতে নতুন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে তারা। তার জন্য গবেষণাগারে তৈরি কৃত্রিম এমআরএনএ দিয়ে টিকা তৈরি করা হচ্ছে।

এমআরএনএ হল এক ধরনের জেনেটিক কোড, যার নির্দেশে কোষগুলি প্রোটিন তৈরি করে, যেগুলি কিনা আবার করোনার জীবাণুর প্রোটিনের মতোই দেখতে। করোনার জীবাণুদের খুঁজে বার করে তাদের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে এই এমআরএনএ। এই পরীক্ষা সফল হলে ২০২১-এর মধ্যে ৫০ থেকে ১০০ কোটি ডোজ বাজারে আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মডার্নার চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার স্টেফান বানচেল।

কিন্তু কৃত্রিম এমআরএনএ দিয়ে তৈরি টিকা মানবশরীরের পক্ষে আদৌ নিরাপদ কি না, প্রাপ্তবয়স্কদের পক্ষে এই টিকা কতটা উপযোগী এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই বা কী হতে পারে, তৃতীয় পর্যায়ে তা-ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরীক্ষা সফল হলে চুক্তি অনুযায়ী ২০০ কোটি ডলারের বিনিময়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ৫ কোটি ডোজ সরকারকে দিতে বাধ্য ফাইজার। তারা জানিয়েছে, পরীক্ষা সফল হলে অক্টোবরের মধ্যে ৫ কোটি করোনা রোগীর উপর টিকা প্রয়োগে অনুমতি চাইবে তারা। ২৮ দিন অন্তর দু’টি করে ডোজ দেওয়া হবে ওই রোগীদের। ২০২১ শেষ হওয়ার আগে তারা ১৩০ কোটি ডোজ তৈরি করে ফেলবে বলে দাবি ফাইজারের।

করোনার প্রকোপ রুখতে এই মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সব মিলিয়ে ১৫০টি সম্ভাব্য টিকা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। মানবশরীরের উপর টিকার প্রয়োগ শুরু করে দিয়েছে একাধিক সংস্থা। চলতি সপ্তাহে আমেরিকায় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করছে জনসন অ্যান্ড জনসন। সেপ্টেম্বর নাগাদ ব্যাপক ভাবে তারা পরীক্ষা শুরু করে দিতে পারে।

অক্সফোর্ডের গবেষকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ওষুধ সংস্থা অ্যাস্ট্রোজেনেকা যে টিকা তৈরি করছে, খুব শীঘ্রই তারাও আমেরিকায় ব্যাপক ভাবে পরীক্ষা শুরু করতে চলেছে। প্রথম পর্বে, গত এপ্রিল ও মে মাসে ব্রিটেনের পাঁচটি হাসপাতালে ১৮-৫৫ বছর বয়সি প্রায় ১ হাজার সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রতিষেধক প্রয়োগ করে তারা। প্রতিষেধক দেওয়ার ৫৬ দিন পর তাদের শরীরে শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

দ্বিতীয় পর্বে ১০০ জন শিশু এবং বয়স্ক মানুষকে দু’টি আলাদা দলে ভাগ করে প্রতিষেধকের প্রয়োগও সফল হয়। এই মুহূর্তে তৃতীয় ধাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে অক্সফোর্ড। এই পর্বে এক হাজার মানুষের দেহে করোনার প্রতিষেধক প্রয়োগ করা হবে। সূত্র: আনন্দবাজার।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 6
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ