মাঠে নেমেই জিতে গেলেন আরিফ || মাঠ কাঁপানো ক্যারিশমা

প্রকাশিত: ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২২

মাঠে নেমেই জিতে গেলেন আরিফ ||  মাঠ কাঁপানো ক্যারিশমা
কবীর আহমদ সোহেল♦ কেউ খেলতে খেলতে হেরে যায়। কেউ মাঠে নেমেই  জিতে যায়। সিসিক মেয়র ও বিএনপি নেতা আরিফ চৌধুরী মাঠে নেমেই জিতে গেলেন। ‘আবারো ক্যারিশমা’ দেখালেন। তবে এবার ‘ক্যারিশমা’ মাঠ কাঁপানো। বিপক্ষ বলয়ের ঘুমকে হারাম করে দিয়েছিলেন আরিফ। কেন্দ্রিয় নেতৃত্বের নির্দেশনায় জেলা সভাপতি পদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আরিফ। মঙ্গলবার ২২ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আরিফুল হক চৌধুরী। ২১ মার্চ সিলেট জেলা বিএনপি’র কাউন্সিল হবার কথা ছিল। ‘আরিফ জয়’ ঠেকাতে ২০ মার্চ সম্মেলন ও কাউন্সিল স্থগিত করা হয়। সেদিনিই প্রভাতবেলায় প্রকাশ হয় ‘ কি ক্যারিশমা দেখাবেন আরিফ’ শিরোনামে বিস্তারিত এক প্রতিবেদন।

 

বিএনপি ঘনিষ্ট সুত্রমতে, সিলেট বিএনপির  একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন কমিটি  তাঁর ইশারায়ই হয়। এর বাইরে আরেকটি অংশের নেতৃত্বে আছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। মুক্তাদিরের আধিপত্য কমাতেই আরিফুল জেলা বিএনপির সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। অতি সম্প্রতি যুবদল, ছাত্রদলের বড় অংশ মুক্তাদির বলয় ছেড়ে আরিফুল হক চৌধুরীর বলয়ে যোগ দেয়।

আরো পড়ুন:

আরিফুল হক চৌধুরী  ছাড়াও সভাপতি পদে আরও দুজন প্রার্থী হয়েছেন। তাঁরা হচ্ছেন মুক্তাদির বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত ও বিগত কমিটির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম এবং বিএনপির ‘নিখোঁজ’ নেতা এম ইলিয়াস আলীর বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তবে আরিফুল হক প্রার্থী হওয়ার পরপরই দলের বহুধাবিভক্ত স্থানীয় রাজনীতিতে মূলত উত্তাপ ছড়ায়। আরিফুলের জয়ের ব্যাপারেও অনেকেই নিশ্চিত হয়ে ওঠেন। এরপর আরিফুলকে ঠেকাতে শুরু হয় তাঁর প্রতিপক্ষ নেতাদের নানামুখী তৎপরতা। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের চাপেই আরিফুল প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

 

 

আরিফের প্রত্যাহারের ঘোষণায় তাঁর বিরুদ্ধ পক্ষ ‘বগলদাবা’ করছেন আপাত:। কিন্তু সুদুরপ্রসারী জয় আরিফেরই। এক সপ্তাহ মাঠে নেমে দেখিয়েছেন খেলা কাকে বলে। খেলতে হয় কেমনে?

আরিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল দলে তিনি সক্রিয় নয়। সক্রিয়তা কাকে বলে তা লন্ডন পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন আরিফ।

সিলেট বিএনপি’র নেতৃত্ব নিয়ে মূলত: আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-১ আসনে নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরী করতে চেয়েছিলেন। সভাপতি প্রার্থী ঘোষণায়ই তা আদায় করে নিয়েছেন আরিফ। কেন্দ্রিয় নেতৃত্ব আরিফকে এ কমিটমেন্ট দিয়েই প্রত্যাহার করার নির্দেশনা দিয়েছেন, সুত্র এমনটাই বলছে।

আরো পড়ুন:

http://সরে দাঁড়াচ্ছেন আরিফ!

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের বাইরে আরিফ কোন কথা বলেননি। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,আমি বিএনপি নামক ফুল বাগানের মালি ।

তিনি বলেন, গােটা দেশের মানুষ যখন বলে সিলেটের মেয়র বিএনপির আরিফুল, তখন বাগানে ফুটে বিএনপি নামক ফুল! আমি সেই বাগানের মালি হয়ে আমার সারা রাজনৈতিক জীবন চালিয়ে যেতে দৃঢ়সংকল্পে বলীয়ান।
মেয়র আরিফ, সিলেট জেলা বিএনপির কাউন্সিলের সভাপতি পদ থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে
 বলেন, ‘আমার অতীত ভালােমন্দ আপনাদের ও প্রিয় বিএনপি নেতাকর্মী সাথে নিয়েই। সর্বোপরি সিলেটের সকল পর্যায়ের জনতাকে সাথী করেই অতিক্রম করেছি সকল ক্রান্তিলগ্ন। তাই আজ এবং ভবিষ্যতেও এর ব্যতিক্রম হবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ’র সময় হতে ছাত্র দল থেকে শুরু করে আজ তিলে তিলে ভালােমন্দ, চড়াই-উতরাই পার করে চলা এক বিএনপি কর্মী। আমার চলার সাথী সিলেটের তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষা, দলীয় শৃঙ্খলা ও আপােষহীনভাবে কমান্ড মেনে চলার দৃঢ়তা আমার পাথেয়।
আরো পড়ুন:

http://ইহাকেই বলে বিএনপি

সারাদেশে যখন বিএনপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দল গঠনে দিনরাত অতিবাহিত করছে, তখন গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা হরণকারী ফ্যাসিস্ট বাকশালি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরােধ লড়াইয়ে শামিল থাকা এক খাটি বিএনপি কর্মী হিসেবে আমি সভাপতি পদে নির্বাচন করতে সিদ্ধান্ত নেই।
মাত্র এক সপ্তাহের পদচারণায় সিলেট জেলার আঠারােটি সাংগঠনিক অঞ্চলে প্রাণচাঞ্চল্যে তৈরী করতে সক্ষম হই। এমতাবস্থায় তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মী যেভাবে আমার প্রতি সাড়া দিয়েছেন, তা এককথায় বর্ণনা দিলে শুধু বলতে হয় – অপূর্ব, যেন অগ্রহায়ণে নবাহ্ন উৎসব। আমি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলছি- এর ঋণ শােধ করা অসম্ভব। আমি বিনীতচিত্তে তাঁদের কাছে ঋণী হয়ে রইলাম।’
বিএনপি নেতা আরিফ আরও বলেন, ‘বিএনপি দেশের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। সেই দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে আমার কাছে নীতিনির্ধারণী বহুজাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় একজন ব্যক্তির চেয়ে অবশ্যম্ভাবীভাবে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আদর্শিক চেতনার নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়া বলে গেছেন- ব্যাক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ।
তাই সেই মতের সিপাহী হয়ে এর বাইরে আমার এক কদমও নেই এবং চলতে পারে না। এমতাবস্থায় দলের হাইকমান্ড মনে করেছেন একজন মেয়র হয়ে সিলেটের যে প্রভুত উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আপনাদের সহযােগিতায় নগরবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পরিশ্রম করার চেষ্টা করছি -সেই লক্ষ্যে আরও মনােনিবেশ করে আগামীতে দলের স্বার্থে বড় কোনো কাজের জন্য প্রস্তুত থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এমন আলােকে আমি মনে করি- বিএনপি আমাকে অনেক দিয়েছে, একজন ছাত্রদল কর্মী করে আজকের মেয়র আরিফ। আমি কখনাে ভুলে যাই না দু-দুবার মেয়র হতে ভােট লড়াইয়ে আমার প্রিয় নেতাকর্মী এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কী মরণপণ লড়াই করেছেন এবং সেটি কেবল বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীর জন্যে করেছেন, শুধু আরিফের জন্যে নয়।
আমার শক্তি ও সাহসের বাতিঘর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমান। এমতাবস্থায় বিএনপি হাইকমান্ডের নির্দেশনার আলােকে আসন্ন সিলেট জেলা বিএনপির কাউন্সিলে সভাপতির পদ হতে আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিতে আমি অকুণ্ঠভাবে ঘােষণা করছি।
এই ঘােষণার সাথে সাথে আমার সঙ্গে পথচলা সকল নেতাকর্মী তথা বিএনপির প্রাণ-সিলেট জেলার প্রত্যেক তৃণমূল নেতাকর্মীদের বুকে ঠাই পাওয়া আরিফ নিঃসঙ্কোচে স্বীকার করছি, জানান দিচ্ছি – আমি আপনাদের ভালােবাসায় সিক্ত, আপ্লুত। মাত্র এক সপ্তাহে পথে পথে, রাত গভীরে, উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে যে অভূতপূর্ব মমতার নিদর্শন আপনারা দেখিয়েছেন-তাতে আমি বিমুগ্ধ এবং আমার পরিবার আজীবন কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ।
এই ভালােবাসার প্রতিদান নেই, হতে পারে না। তথাপি এর উত্তরে আমার বার্তা হলাে- বিএনপি ছাড়া আমার কোনো রাজনৈতিক দল নেই, বিএনপি কর্মী হয়ে আপনাদের মনিকোঠায় সারাজীবন বেঁচে থাকতে চাই। এই আমার ব্রত, এই আমার তপস্যা।। আসন্ন সিলেট জেলা বিএনপির সম্মেলন গনতান্ত্রিক, সার্থক ও সফল করতে আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে উদাত্ত আহ্বান জানাই।’
আরিফ বলেন- ‘শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া এ জমিনকে সবুজ করতে এখনাে অক্লান্ত লড়াই করে যাচ্ছেন চলমান আন্দোলনের সর্বাধিনায়ক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গণতান্ত্রিক এই আন্দোলনের ফসল তুলে সাদামাটা মানুষের হরণ করা ভােটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক দেশনায়ক তারেক রহমান। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট থেকে আন্দোলন আরও শাণিত করতে হবে নব্বইয়ের মতাে, তবেই ফিরে আসবেন দেশনায়ক তারেক রহমান এবং সেদিনের অর্পিত যে কোনো দায়িত্ব মাথায় তুলে জীবন উৎসর্গ করতে কুণ্ঠিত নই আমি।’
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ