রঙিন ফুলকপি চাষে সফল কৃষক

প্রকাশিত: ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৪

রঙিন ফুলকপি চাষে সফল কৃষক
প্রভাতবেলা ডেস্ক: পাশাপাশি দুই উপজেলার মাঠে ফুলকপির দুইটি ক্ষেত। সেই ক্ষেতে সবুজ পাতার ফাঁকে উকি দিচ্ছে বিভিন্ন রঙের ফুল। না এগুলো ফুল নয়, এক ধরনের ফুলকপি। একটি ক্ষেতের ফুলকপির রঙ বেগুনি, অপরটির হলুদ। বাহারি রঙের ফুলকপি দুইটির নামও সুন্দর। বেগুনি রঙের ফুলকপির নাম ভ্যালেন্টিনা আর হলুদ রঙের ফুলকপির নাম ক্যারোটিনা।

নতুন জাতের এই রঙিন ফুলকপি চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক শাহিন আলম ও বাবুল খলিফা। শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন চর খোড়াতলা গ্রামে বাড়ি শাহিন আলমের। আর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের চর গয়ঘর গ্রামে বাড়ি বাবুল খলিফার। খোড়াতলা ও গয়ঘর মাঠে তারা এই ফুলকপির চাষ করেছেন।

জেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, দুইটি জাতের ফুলকপির মধ্যে বেগুনি রঙের ফুলকপির নাম ভ্যালেন্টিনা ও হলুদ রঙের ফুলকপির নাম ক্যারোটিনা। জাজিরা ও সদর উপজেলার এবার দেড় একর জমিতে এই দুই জাতের ফুলকপি চাষ হয়েছে। সাদা ফুলকপির চেয়ে এই দুই জাতের রঙিন ফুলকপিতে পুষ্টিগুণ বেশি। দেখতেও সুন্দর। গতানুগতিক সাদা রঙের ফুলকপির চেয়ে রঙিন ফুলকপির বাজারমূল্য বেশি।

রঙিন ফুলকপির ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে, কিছুটা লম্বা সবুজ পাতার আড়ালে ফুটে আছে রঙিন ফুলকপি। ক্ষেতে ফুটে আছে বেগুনি ও হলুদ রঙের ফুলকপি।

আরও পড়ুন  পেঁয়াজ বীজ চাষে ৬ মাসে কোটিপতি

কৃষক শাহিন আলম জানান, তিনি গত বছর বেসরকারি সংস্থা শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস) থেকে ভ্যালেন্টিনা ও ক্যারোটিনা জাতের ফুলকপির বীজ সংগ্রহ করেন। গত বছর তিনি দুই জাতের বীজ থেকে ছয়শ চারা উৎপাদন করেন। পরীক্ষামূলকভাবে ১০ শতক জমিতে চারাগুলো লাগান। সব মিলিয়ে ১০ শতক জমিতে তার ছয় হাজার টাকা খরচ হয়। তিনি ৪০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেন।

তিনি আরো জানান, এবার তিনি ৪০ শতক জমিতে ২ হাজার ভ্যালেন্টিনা এবং ক্যারোটিনা জাতের ফুলকপির চারা লাগিয়েছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ভ্যালেন্টিনা জাতের ফুলকপি বেগুনি দুই থেকে সোয়া দুই কেজি এবং ক্যারোটিনা জাতের হলুদ ফুলকপি এক কেজি থেকে এক কেজি ২০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন হয়েছে। তিনি প্রতি কেজি রঙিন ফুলকপি বিক্রি করেছেন ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

কৃষক বাবুল খলিফা বলেন, এ বছর প্রথম ১০ শতক জমিতে হলুদ ও গোলাপি রঙের ফুলকপি চাষ করেছি। বাজারে বিক্রি শুরু করেছি। চাহিদাও অনেক। বাজারে চাহিদা থাকায় আগামী বছর আরো বেশি জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করব।

এই দুই জাতের ফুলকপি চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে এসডিএসের সমন্বিত কৃষি ইউনিটের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. খাজি আলম জানান, ভ্যালেন্টিনা ও ক্যারোটিনা জাতের ফুলকপি সাধারণ সাদা ফুলকপির মতোই পরিচর্যা করতে হয়। অল্প জমিতে এই ফুলকপি চাষ করে বেশি লাভ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, আমাদের কাছ থেকে চারা নিয়ে এলাকায় আরো কয়েকজন কৃষক এবছর অন্তত দেড় একর জমিতে এই দুই জাতের রঙিন ফুলকপি চাষ করছেন।

আরও পড়ুন  পদ্মার চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন

এসডিএসের নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম বলেন, এসডিএস কৃষি সেক্টর থেকে গত বছর এক কৃষকের মাধ্যমে বেগুনি ও হলুদ জাতের ফুলকপির চাষ করানো হয়। তাতে ওই কৃষক সাদা ফুলকপির চেয়ে রঙিন ফুলকপিতে বেশি লাভবান হয়েছেন। কৃষক লাভবান হওয়ায় এ বছর রঙিন ফুলকপির চাষ বেড়েছে বহুগুণ। এসডিএস কৃষি সেক্টর রঙিন ফুলকপি চাষ পদ্ধতিসহ বিভিন্নভাবে কৃষকদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ফুলকপির জাত দুইটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। হলুদ ফুলকপির মতো বেগুনি ফুলকপিতেও সাদা ফুলকপির তুলনায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অনেক বেশি থাকে। বেগুনি ফুলকপি প্রদাহ উপশম, কার্ডিওভাসকুল্যার সমস্যা এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে উপকারী।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

সর্বশেষ সংবাদ