লাইনম্যান মনোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় || হাটহাজারী পৌরবাসী জিম্মি

প্রকাশিত: ২:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

লাইনম্যান মনোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় || হাটহাজারী পৌরবাসী জিম্মি

লাইনম্যান মনোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় || হাটহাজারী পৌরবাসী জিম্মি।

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো♦ মোটর সাইকেল চালিয়ে তিনি দাপিয়ে বেড়ান দাপুটে অফিসারের মত। চাল চলনে তার ‘নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটে’র হাবভাব। পৌরসভার নাগরিকদের যেকোন ছুঁতো ধরে হয়রানি করাই তার নেশা। মানুষকে জিম্মি করে বেআইনী টাকা আদায় করাই তার ধ্যানজ্ঞান বলে ভ‚ক্তভোগী পৌরবাসীর অভিযোগ। অভিযুক্ত এ ব্যাক্তি হলেন হাটহাজারী পৌরসভার বিদ্যুৎ লাইনম্যান মনোয়ার হোসেন।

পদবী লাইনম্যান হলেও দীর্ঘ ৯ বছরে তাকে কোনদিন পৌরসভার বিদ্যুতের কাজ করতে দেখেনি কেউ। সবাই তাকে অফিসার মনে করেন। তার চাল-চলনে দেখে কেউ বুঝতে পারবেনা তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা পৌরসভার কর্মকর্তা নাকি কর্মচারী। আর বুঝবই বা কি করে যারা বুঝার এবং জানার তারা নিরব? কেন এমন তা স্পষ্ট প্রতিয়মান বলে জানান পৌর নাগরিকরা। অভিযোগে প্রকাশ পৌরসভার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় থাকায় মনোয়ার কাউকেই তোয়াক্কা করেনা।

 

দীর্ঘ ৯ বছর ধরে অষ্টম শ্রেণি পাশ বিদ্যুৎ লাইনম্যান মনোয়ারকে দিয়েই চলছে হাটহাজারী পৌরসভার বিদ্যুত বিভাগ। ডিজিটাল যুগে মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হল বিদ্যুৎ বিভাগ। প্রতিটি পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগে ২ জন উপ সহকারী প্রকৌশলী থাকলেও হাটহাজারী পৌরসভায় নেই কোন প্রকৌশলী এমন অভিযোগ পৌরবাসীর।দুর্নীতিবাজ মনোয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এলাকাবাসি মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিলেও বহাল তবিয়তে আরও দাপুটে হয়ে উঠে এ মনোয়ার এমন অভিযোগ বাসিন্দাদের।

 

একাধিক সুত্রে জানা যায়, হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিমে ফায়ার সেন্টারের পশ্চিমে লাইনম্যান মনোয়ার, পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বেলাল আহমেদ খান এবং হাটহাজারীর বাসিন্দা ও সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নিয়াজ মোরশেদসহ তাদের অবৈধ সিন্ডিকেটের আরো কয়েকজনে মিলে দূর্নীতির টাকায় কিনেছেন জায়গা। কোন জনবসতি না থাকলেও রিজার্ভ ফরেষ্ট এলাকায় তাদের কেনা সে জায়গাতে যাওয়ার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের সরকারি অর্থায়নে দুর্নীতির প্রকল্প দিয়ে করা হয়েছে অর্ধ কোটি টাকা খরচে ব্রিজ এবং পৌরসভার পৌনে এক কোটি টাকা ব্যায়ে সেখানে যাওয়ার জন্য করেছেন মজবুত করে রাস্তা।

 

সুত্রে জানা গেছে, ১৬তম গ্রেডে অষ্টম শ্রেণি পাশ বিদ্যুৎ লাইনম্যান মনোয়ার ৯৩০০টাকা মূল বেতন সহ সব মিলে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা পায় প্রতি মাসে। তিনি পৌর সদরের কামাল পাড়া এলাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে। বিদ্যুৎ গ্যাস বিল মিলে এ ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া ১৫ হাজার টাকা। এরপর বাজার সদাই, ছেলে মেয়ের স্কুল বেতন ও পরিবারের আয়েশি ভোগ বিলাসে আনুষাঙ্গিক সব খরচ মিলে দাড়ায় ৬০ হাজার টাকার ও বেশি। ছেলে মেয়েদের পড়ান ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে যে স্কুলের পড়াশোনার খরচ অধিক। প্রতি সপ্তাহে পরিবার নিয়ে বেড়ানো ও রেষ্টুরেন্টে খাওয়া মনোয়ারের ফ্যাশন।
মনোয়ারের বিলাসী জীবন যাপন নিয়ে আক্ষেপ করে পৌরসভার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারী বলেন, আমরাও তো একই গ্রেডে চাকরি করি কিন্তু চলতে কিছুটা হলে কষ্ট হয়। কিন্তু মনোয়ার প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে বিলাসিতা করে। এত টাকা সে পায় কোথা থেকে? কেবল তা নয় মনোয়ার প্রতিদিন পৌরসভার ৭ নং কক্ষে সুসজ্জিত অফিসে বসে অফিস করে। এখানে বসে সে দুর্নীতির হিসাব করে। আমরা তার কক্ষে গেলে কিংবা দেখলে তাড়িয়ে দেয়। মনোয়ার দম্ভ করে সহকর্মীদের বলে, সে যা বলে পৌরসভায় সেটাই হবে, প্রশাসক কিংবা সচিব সবাই তার হাতে পুতুল। এমন কথা বললেন পৌরসভার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী।

 

অভিযোগে প্রকাশ, রাতে কিংবা সরকারি বন্ধের দিনেও মনোয়ার অফিসে বসে আড্ডা দেয়। তার বিরুদ্ধে অফিসে নারী নিয়ে আড্ডা দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। কিছুদিন পুর্বে সরকারি বন্ধের দিনে সুনসান পৌরসভা কার্য্যালয়ে মনোয়ার একা এক নারীকে নিয়ে আড্ডা দেয়ার সময় এলাকাবাসির কাছে হাতে নাতে ধরা পড়ে যায়। এ ঘটনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় তোলপাড় হয়। কিন্তু পৌরসভার শীর্ষ এক কর্মকর্তার আশির্বাদের কারনে মনোয়ার বহাল তবিয়তেই থাকে। তার দাপট আরো বেড়ে যায়।পৌরসভা কার্যালয় এলাকায় মনোয়ার সুপারভাইজার হিসেবে পরিচিত। তার দাপটে পৌরবাসীরা তটস্থ থাকেন। এতে পৌরসভার নাগরিকদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এমন অভিযোগ সেবাপ্রার্থীদের।
মনোয়ার মোটরসাইকেল নিয়ে সারাদিন পৌরসভার এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে দাপিয়ে বেড়ান শুধুই তা নয় কর্মরত সকল কর্মচারীরা তাকে স্যার বলেও সম্বোধন করেন এমন অভিযোগ ব্যক্ত করেন নাম প্রকাশে একাধিক যুবক। এলাকায় চলাফেরার সময় তার হাবভাব থাকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রের্টে মত। যে কোন সময় যে কোন মানুষকে ছুতোঁ ধরে হয়রানি করে টাকা আদায় করা তার পেশা , এমন অভিযোগ পৌরসভার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভ‚ক্তভোগীর ।

 

পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ঠিকাদার হিসেবে মনোয়ার মাঠে প্রকল্পের সাইটে ব্যস্থ থাকেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন। সরকারি চাকরি করেও মনোয়ার কীভাবে ঠিকাদারী কাজ করেন এ প্রশ্ন অভিযোগকারীদের।শুধু তাই নয়, অষ্টম শ্রেণি পাস বিদ্যুৎ লাইনম্যানও জায়গা কিনেছেন এ পৌরসভায়। দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে পৌরসভা এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন। পৌরসভা কার্যালয়ের সামনের ফুটপাত থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার অধিক নিয়ে সিন্ডিকেট করে ভাগ বন্টন করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কাচারি সড়কে আমির এরশাদ প্লাজা মার্কেটের পার্শ্বে ছড়ার জায়গা ভরাট করে চলাচলের রাস্তা করে দিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের থেকে ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও আছে। চট্টগ্রাম বারের আইনজীবি মো: খোরশেদ আলম সহ একাধিক এলাকাবাসী পৌরসভার সরকারি কর্মচারিদের এসব অনিয়ম দুর্নীতি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

পৌরসভায় কর্মরত এক ব্যক্তি জানান, পৌরসভার সব কাজের বেশির ভাগ বিল মনোয়ারের নামে হয়। বিল বই কিংবা ক্যাশ বই দেখলেই বুঝবেন বিলে তার স্বাক্ষর। যদি মনোয়ার কে ম্যানেজ করা যায় অন্যায় করলেও ছাড় পাওয়া যাবে। ধরতে গেলেই তিনিই সব এ পৌরসভায়। মনোয়ার লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব কাজিরহাট গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে। এলাকায় তিনি বিএনপি জামাতের লোক হিসেবে পরিচিত। মনোয়ারর গ্রামের বাড়ীতে কোটি টাকা ব্যায়ে তৈরী করেছেন সুরম্য দালান । বাড়ির দালানের জন্য মনোয়ার হাটহাজারী থেকে কয়েক লক্ষ টাকার টাইলস কিনে নিয়ে গেছেন। আমরা এটাও শুনেছি তার নাকি কক্সবাজারে জায়গা আছে। চট্টগ্রাম শহরে ২টা প্লটের উপর বহুতল ভবন নির্মানের কাজ চলছে তন্মধ্যে নগরীর ফয়েজলেক আব্দুল হামিদ সড়কে স্বপ্নছায়া ও স্বপ্নধারা নামে ফ্ল্যাট ব্যবসা করছেন বলে জানা গেছে। মনোয়ারের সিন্ডিকেটে তাঁর যোগানদাতা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বেলাল, প্রধান সহকারী সাহাব উদ্দিন, আক্রাম হোসেন ও নকশাকার মুমিন ।

 

পৌরসভার বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগের নেতা উদয় সেন নিজের ফেসবুকে লিখেছেন “হাটহাজারীর মানুষকে বোকা বানিয়ে কিছু দালাল সৃষ্টি করেছে, তার মধ্যে পৌরসভার লাইনম্যান মনোয়ারের মাধ্যমে অনেক টাকার ধান্দাবাজি করেছে। তার একটি প্রমাণ হল আনোয়ার কোম্পানি থেকে মনোয়ার ৫ লাখ টাকা নেন সাবেক ইউএনওকে ম্যানেজ করতে। কাজ না করেই মনোয়ার সে টাকা আত্মসাৎ করে। সে ৫ লাখ টাকা থেকে আড়াই লাখ টাকা আনোয়ার কোম্পানিকে দিলেও বাকি টাকা সে এখনও দেয়নি”।

 

সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার বিভিন্ন উৎস থেকে সদ্য বিদায়ী ইউএনও’র কথা বলে টাকা তোলেন এ মনোয়ার। এ সুযোগে মনোয়ার হয়ে উঠে সবার কাছে স্যার। পৌরসভার সন্দীপ পাড়া স্কুলের দুইটি দোকান সে ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া দিয়ে নিজেই ভোগ করে বলে জানা যায়।পৌর সহায়ক কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সদস্য জানান, আমরা নামমাত্র সদস্য। কারণ বিভিন্ন অনিয়ম আর দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলি তার জন্য আমাদের কে তেমন ডাকেন না । পৌরসভা প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই গত ৯ বছর যাবত হাটহাজারীতে সহকারী প্রকৌশলী বেলাল আর মনোয়ারসহ যারা চাকরিতে যোগদান করেছেন অদ্যবধি পর্যন্ত তারা কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন অবস্থানের কারনে সহকারী প্রকৌশলী বেলালের ছত্রছায়ায় লাইনম্যান মনোয়ার , নকশাকার মোমিন, একজন সাবেক পিআইও ও কয়েকজন চিহ্নিত পৌরসভার সহায়ক সদস্য নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এ সিন্ডিকেট পৌর প্রশাসককে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মন দুর্নীতি করে চলেছে। যা দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক তদন্ত করলেই বেরিয়ে পড়বে। বর্তমানে নতুন প্রশাসক যোগ দেয়ার পর থেকে এ দুর্নীতিবাজরা কিছুটা চাপে রয়েছে।

 

সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার বিভিন্ন উৎস থেকে সদ্য বিদায়ী ইউএনও’র কথা বলে টাকা তোলেন এ মনোয়ার। সদ্য বিদায়ী ইউএনও’র সাথে ছিল তার খুবই সখ্যতা। সে সখ্যতা গড়ে তুলার জন্যে ইউএনও’র কন্যার জন্মদিনে ও পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ১ভরি স্বর্ণের চেইন,আংটি সহ বিলাসবহুল আরও অনেক উপহার হিসেবে থাকতো এই মনোয়ারের পক্ষ থেকে। এ সুযোগে মনোয়ার হয়ে উঠে সবার কাছে স্যার।পৌরসভার বিদ্যুৎ লাইনম্যান মনোয়ার হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে এ প্রতিবেদককে জানান, এখানে আসলে কেবলমাত্র সিভিল বিভাগে প্রকৌশলী আছেন। বিদ্যুৎ বিভাগে কোন প্রকৌশলী নেই। শুধু আমি একজন লাইনম্যান আছি এবং মাস্টার রুলে ৩ জন হেল্পার আছেন। আমার ব্যাপারে কে কি বলে তা বলতে পারব না। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষই ভাল জানেন। তবে আমি সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করি।

 

ফেসবুকে পৌরসভার বিদ্যুৎ লাইনম্যান মনোয়ারকে নিয়ে করা কমেন্টস এর বিষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি উদয় সেন গনমাধ্যম বলেন, যেটা লিখেছি সেটা খুবই সামান্যটা লিখেছি। আনোয়ার কোম্পানি থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে তা নয়। এ মনোয়ার পৌরসভার সব কাজেরই ঠিকাদারী করে। আপনি আরও শুনলে অবাক হবেন। পৌরসভার হিসাব সহকারী সাহাব উদ্দীন,একরাম ও মনোয়ারসহ মিলে ফয়েস লেকে ফ্ল্যাটের ব্যবসা করে। তারা এখানে চাকরি করে কিভাবে আবার ফ্ল্যাটের ব্যবসা করে। আরেকটি কথা বলি পৌরসভার যতগুলো পাবলিক টয়লেট আছে। সবগুলোর কাজ ও পরিচালনা করে এই মনোয়ার। এসব টয়লেট পরিচালনায় লোক নিয়োগ দিয়ে তাদের থেকেও টাকা নেয় মনোয়ার। মনোয়ার সরকারি চাকরি করে পৌরসভার ঠিকাদারী কাজ করে কিভাবে।

 

জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন নোমান গণমাধ্যমকে বলেন, মনোয়ার কেন সবাই তো পৌরসভাকে চুষে খেয়ে ফেলছে। এখানে অনেক সাংবাদিক আছে কেউ এ সব বিষয় নিয়ে কোন কথাই বলে না কিংবা লেখে না। কেন লিখে না তা শুধু আমরা না সকল পৌরবাসীরাই জানেন। আমাদের পরে গঠিত হওয়া সব পৌরসভায় নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ৯ বছর ধরে আমাদের পৌরসভায় নির্বাচন না হওয়ার কারণে নাগরিকরা কাংঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না। এ সুযোগে মনোয়ার গংরা লুটেপুটে খেয়ে যাচ্ছে। তারপরও পৌরসভায় যারা সহায়ক কমিটিতে আছে, তাদেরকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে বিদায় করে দেয়। তাই প্রতিবাদ করার কেউ নেই। কেবল আমিই সব কিছুতেই প্রতিবাদ করেই যাচ্ছি।
পৌর সচিব বিপ্লব চন্দ্র মুহরী গণমাধ্যমকে বলেন, জনবল সংকট থাকায় মনোয়ার হোসেন সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করে। এখন পর্যন্ত পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগে কোন প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়া হয়নি। তবে একজন বিদ্যুৎ লাইনম্যান আছে। এছাড়াও মাস্টার রুলে ৩ জনকে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে মনোয়ার কি করে তা আমার জানা নেই।

 

এ বিষয়ে জানতে হাটহাজারীর নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো: শাহীদুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, আমি আসার পর থেকে আশাকরি পৌরসভায় বিদ্যুৎ বিভাগের তেমন সমস্যা হয়নি। এর আগে কি হয়েছে সেটা আমার জানা নেই। পৌরসভার যেখানে লাইটের সমস্যা সেটা তাৎক্ষনিকভাবে সমাধান করা হয়েছে। যদি পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগে কোন সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগের সুযোগ থাকে, তাহলেই সেটাই আমি দেখব। আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে কে কি করেছে তা আমার জানা নেই।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    13
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ