লাগামহীন চিনির বাজারঃ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

প্রকাশিত: ৩:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২

লাগামহীন চিনির বাজারঃ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

লাগামহীন চিনির বাজারঃ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম♦ বাজারে বেড়ে চলেছে চিনির মূল্য। গত এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রামের পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জে চিনির দাম বেড়েছে মণপ্রতি ১৫০ টাকা। একই সময়ের ব্যবধানে খুচরা বাজারে চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন ৮৮ টাকায়। পাইকারী চিনি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চিনির আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। এছাড়া সম্প্রতি আবার বেড়েছে ডিজেলের দাম। ফলে পরিবহন খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারী বাজার বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে বেশি দামে চিনি বিক্রি করতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের বাজারে চিনিসহ সব ধরনের পণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতাদের নাভিস্বাস উঠেছে।

 

চট্টগ্রামের বনেদি পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পাইকারীতে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ১০০ টাকা। গত এক মাস আগে যা ছিল ২ হাজার ৯৫০ টাকা। অন্যদিকে খাতুনগঞ্জের কয়েকজন চিনি ব্যবসায়ী জানান, খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে যুগ যুগ ধরে কিছু প্রথা চালু আছে। নিজেদের সুবিধার অনেক প্রথা আছে যেগুলো আবার আইনগতভাবেও স্বীকৃত নয়। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) ।

চিনি কিংবা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে। দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই ওই স্লিপটিই বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি বাজার থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও কিনে নেয়। যে দরে ডিও কেনা হয়, তার বাজার দর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্যটি ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্যই আসেনি কিন্তু ডিও কিনে রেখেছেন অনেক বেশি। এর ফলেও কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। ফলে এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এক্ষেত্রে চিনির ডিও বেচাকেনা বেশি হয়।

 

দিকে নিত্য পণ্যের দাম লাগামহীন বৃদ্ধিতে ক্রেতাদের নাভিস্বাস উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রেতা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন ব্যবসায়িরা ইচ্ছামাফিক পণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছে কিন্তু এসব দেখার যেন কেউ নেই।

 

এদেশের পণ্যের বাজার যেন মঘের মুল্লুক হয়ে গেছে। রেয়াজউদ্দীন বাজার এলাকার খুচরা বিক্রেতা সিরাজুল হক বলেন, চিনির দাম গত এক মাসে কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। আমরা পাইকারী বাজার থেকে এক দুই বস্তা চিনি কিনে এনে বিক্রি করি। পাইকারী বাজার থেকে বেশি দামে চিনি ক্রয় করতে হচ্ছে, তাই আমরাও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছি।
জানতে চাইলে চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘসময় ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির বুকিং দর উঠানামা করছে। এছাড়া ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে। এসব কারনে তাই চিনির দাম বেড়ে গেছে বলে তিনি জানান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ