সিলেট ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২৬
শঙ্কায় বিএনপি, সম্ভাবনায় জামায়াত♦
বিএনপি’র কাছে সর্বশেষ চমক ছিল ‘তারেক রহমান’। ‘তিনি’ দেশে ফিরবেন। গণজোয়ার সৃস্টি হবে। এই জোয়ারে নির্বাচনী বৈতরনী পার। না এ জোয়ার কাজে লাগেনি। জোয়ার থেমে গেছে পুরান ঢাকায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রথম ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ‘তারুণ্যের অহঙ্কার’ বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। সেই থেকে এখনো তারেক রহমানের ‘চমক’ দৃশ্যমান হচ্ছেনা। এমনকি আপসহীন নেত্রী বেগম জিয়ার বিয়োগান্তক ঘটনার সিম্পেথিও কাজে লাগাতে পারছেনা বিএনপি। উপরুন্ত ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিক প্রার্থীর পক্ষে দলটির অবস্থান জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। নির্বাচনী এই পরিস্থিতিতে আজ ২০ জানুয়ারী অনুষ্টেয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিতের পক্ষে বিএনপি ও ছাত্রদলের অবস্থান শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজে বিএনপি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিয়েছে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নির্বাচনী বিজয়ে শঙ্কার মুখে বিএনপি।
বিএনপি ঘরানায় এই যখন অবস্থা। ঠিক তখন জামায়াত ঘরানায় সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল (অব) অলি আহমদের এলডিপি এবং জুলাই যোদ্ধাদের দল এনসিপি এবং সংখ্যা গরিস্ট ইসলামী দল নিয়ে নির্বাচনী ঐক্য জামায়াতকে এগিয়ে নিযেছে অনেক দূর। ২৪ এর জুলাই পরবর্তী জামায়াতের ‘ওয়েলফেয়ার পলিটিক্স’, সবাইকে নিয়ে ঐক্যের রাজনীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ছাত্রসংসদ নির্বাচনে শিবিরের সিরিজ বিজয় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের বিজয়ে সম্ভাবনার আলো ছড়াচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনী ডামাঢোল। মাঠের রাজনীতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায় সব জায়গাতেই জোরালো আলোচনা চলছে নির্বাচনকে ঘিরেই। কে জিতবে আসন্ন নির্বাচনে? কারা যাচ্ছেন ক্ষমতার মসনদে?
প্রধানত: বিএনপি ও জামায়াতকে নিয়েই মানুষের আলোচনা। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধের পর এই দুটি দল ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে দেশের মানুষ। ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লবের পরপর তরুণ ছাত্রসমাজ এবং পরবর্তীতে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি নিয়ে জনমনে কিছুটা স্বপ্নের সঞ্চার হলেও জনগণের আস্থা ভরসা অর্জন করতে ক্রমান্বয়ে ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছে তরুণদের গড়া এই দল।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতন পরবর্তী গত প্রায় দেড় বছরের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সাংগঠনিক সংকট ও কৌশলগত অস্থিরতায় শঙ্কার মধ্যে আছে। আগামী নির্বাচনে দলটির বিজয় অনিশ্চয়তার দোলাচলে।
অন্যদিকে ’২৪ এর জুলাই বিপ্লব উত্তর বাংলাদেশে জামায়াত ইসলামী দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। গত দেড় বছরের কল্যাণমূখী জনবান্ধব কর্মসূচি দলটিকে গণসংগঠনে পরিণত করেছে। পরিবর্তনে তৃষ্ণার্থ জাতি জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। দেশজুড়ে অস্বাভাবিক রকম এক ধরনের জনজোয়ার জামায়াতের পক্ষে। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচনে জামায়াতের বিজয়ের শক্তিশালী সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
জেতা ম্যাচ হারা’র মত অবস্থায় বিএনপি:
২০১৬ বিশ্বকাপ ভারত বনাম বাংলাদেশ (বেঙ্গালুরু)। ম্যাচের শেষ ওভার।বাংলাদেশের জয় পেতে দরকার ১১ রান, শেষ ৬ বলে। মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ সেট ব্যাটসম্যান। পরিস্থিতি পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। শেষ ওভার । বোলার হার্দিক পান্ডে। ১ম বলে ১ রান। ২য় বলে চার মারলেন মুশফিক। ৩য় বলে আবারও চার হাকালেন মুশফিক। বাংলাদেশের প্রয়োজন এখন ৩ বলে ২ রান। দর্শক, কমেন্টেটর সবাই ধরেই নিয়েছিল বাংলাদেশ জিতে গেছে।
তারপর শুরু ট্র্যাজেডি!
৪র্থ বল: মুশফিক অনর্থক ফ্লিক করে উড়িয়ে মারেন। বিলাসী ব্যাটিংয়ের খেসারত ক্যাচ আউট।
৫ম বল: মাহমুদুল্লাহও অভার কনফিডেন্স নিয়ে একই ভুল করে খেলেন উচু শট । ফলাফল ক্যাচ আউট।
এখনও ১ বলে ২ রান দরকার।শেষ বলে এক রান নেওয়ার চেষ্টা । সাব্বির রান আউট। হেরে গেল বাংলাদেশ।
১ রানে পরাজিত বাংলাদেশ!
বাংলাদেশ ক্রিকেটের এমন পরাজয়ের বহু ঘটনা আছে। তবে এই ম্যাচটিকে বাংলাদেশের ‘জেতা ম্যাচ হারা’র সেরা উদাহরণ বলা হয়।
না , আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে কোন বিশ্লেষণ করছি না। শুধু স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি ২০১৬ সালের এই ম্যাচটিকে ? তা-ও না।
তাহলে? বাংলাদেশের বিরাজমান রাজনীতি এবং আগামী নির্বাচনে এমনি এক ফলাফলের পূর্বাভাস থেকেই এই ম্যাচটির শেষ দৃশ্যের উপস্থাপন।
বিএনপি’র পরিণতি অনেকটা এই ম্যাচটির মতো হতে যাচ্ছে। ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লব উত্তর বাংলাদেশে বিএনপিই ছিল মানুষের আশা ভরসার ঠিকানা। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগহীন রাজনীতির ময়দানে বিএনপির কাছে জনপ্রত্যাশা ছিল বেশি। জনগণ মনে করেছিল বিপ্লব উত্তর বাংলাদেশে মজলুম দল হিসেবে নিজেদের ভুলত্রæটি শোধরে নিয়ে জনকল্যাণধর্মী রাষ্ট্র গঠনে মনযোগ দিবে বিএনপি। জনগণের সে পাল্স বুঝতে ব্যর্থতার পরিচয় দেয় দলটি। জনস্বার্থ ও জনপ্রত্যাশার বিপরীতে সচেতন ও অবচেতনভাবে বিএনপি অবস্থান নেয়। দলীয় বক্তব্য বিবৃতি কর্মসূচি থেকে শুরু করে নেতাকর্মীর কার্যক্রম জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করে এবং করছে। মোটা দাগে সংঘটিত বিষয়গুলো যদি আমরা তুলে ধরি; * অন্তর্বতি সরকার দায়িত্ব নেয়ার ৭২ ঘন্টার মধ্যে পল্টনে সমাবেশ করে বিএনপি ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন দাবি করে। দাবিটি অযৌক্তিক না হলেও অন্তর্বর্তি সরকারের প্রতি তখনো মানুষের হৃদয়ভরা আবেগ বিদ্যমান। বিএনপি’র এমন দাবিকে মানুষ মনে করলো, অন্তর্বর্তী সরকারকে বিব্রত ও অস্থিতিশীল করে তুলতে চায় বিএনপি। বিএনপি নির্বাচনের দাবি এমনভাবে করতে শুরু করলো যা দেশবাসীর কাছে ‘বিএনপি ক্ষমতায় যেতে অস্থির’ এমনভাবে ফুটে উঠলো।
*জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের চিকিৎসায় জনপ্রত্যাশার নূন্যতম দায়িত্ব বিএনপি পালন করেনি। এমনকি নিজ দলের এবং অঙ্গ সংগঠনের নিহত বা আহতদের ব্যাপারে বিএনপি ছিল উদাসিন।
* বিপ্লব উত্তর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবি সংগঠনসহ নানা মত ও শ্রেণিপেশার মানুষকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে বিএনপি ব্যর্থ হয়। উপরুন্তু বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টিতে বিএনপি’র কোন কোন নেতার ভ‚মিকা ছিল চোখে পড়ার মত।
* বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন এই তিন বিষয়ে অঘোষিত জাতীয় ঐকমত্য হলেও বিএনপি অধিক সোচ্চার ছিল নির্বাচন নিয়ে। নিজ দলের গুম হওয়া নেতাকর্মীর অভিযোগ দায়ের কিংবা বিচার প্রক্রিয়ায় গড়িমসি জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করে। এমনকি ইলিয়াস আলীর মত জননেতার গুম বিষয়ে এখনো কোন সুস্পষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি বিএনপি।
* বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকায় যে পর্যন্ত চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি, দখল ও আওয়ামী ব্যবসায় ভাগ বাটোয়ারা বসিয়েছে তা বিস্ময় নেত্রে দেশবাসী দেখছে। একই সাথে ভরসার স্থান থেকে বিএনপিকে মুছে দিচ্ছে জনগণ।
* বিএনপি’র জন্য ভয়াবহ বিষয় দলের অন্তকোন্দল। গত দেড়বছরে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠন গুলোর মধ্যকার অন্তকোন্দলে এবং ছাত্রদল যুবদলের হামলায় প্রতিপক্ষ, নিরিহ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষসহ দুই শত জনের প্রাণহানি ও সাত সহস্্রাধিক আহতের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। যা জনমনে বিএনপি সম্পর্কে বিরূপ ধারনা সৃষ্টি হয়েছে এবং হচ্ছে।
* ইসলামী অনুশীলন ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিষয়ে বিএনপি’র দোদুল্যমানতা জনগণ ভালভাবে নিচ্ছে না। বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুলের ‘বিএনপি শরীয়া আইনে বিশ^াসী নই’Ñএমন বক্তব্য সম্প্রতি বিএনপি’র একজন মহিলা সংসদ সদস্য প্রার্থী পুরুষের চার বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে অহেতুক অমূলক অবান্তর বক্তব্য ইসলাম প্রিয় মানুষ থেকে বিএনপিকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে। দলীয় এসব কার্যক্রমের বাইরে প্রতিপক্ষ ও প্রতিদ্বন্দি রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির সাথে বিএনপি পেরে উঠছেনা। জাতির কাছে আগামীর কোন স্বপ্ন দেখাতে পারছে না। এখনকার জেনারেশন গতানুগতিক ধারার রাজনীতি পছন্দ করছে না।
* বিপ্লব উত্তর বাংলাদেশে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে না আসা বা আসতে না পারা জাতীয় নেতৃত্বে বৈশিষ্ট্যের মানানসই না এটাই দেশের মানুষ মনে করে। একই সাথে বুলেট প্রæফ গাড়ি চড়ে রাজনীতি করার খায়েশ কে ‘ভীরুপুরুষের” খায়েস বলে অভিহিত করছে জনগণ।
* বেগম জিয়ার ইন্তেকাল জনগণের একটা বিরাট অংশকে হতাশ করেছে। এরা মনে করে বেগম জিয়া ছাড়া বিএনপি নেই।
* ৬০ বছর বয়স্ক তারেক রহমানকে দলীয় নেতাকর্মী ‘তারুণ্যের অহঙ্কার” বললেও তরুণ সমাজ জাতীয়তাবাদী আদর্শের ধারক বাহকদের প্রত্যাখান করেছে। ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্রগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের করুণ পরাজয় আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি’র জন্য বড় একটি শঙ্কা। উল্লেখিত বিষয়গুলো মোটা দাগে বিএনপি’র জন্য বড় ধরনের আশঙ্কা বা অনিশ্চয়তা। আগামী নির্বাচনে দলের প্রতীক দেখেই ভোট দিয়ে দেবে মানুষ এমন ধারনা থেকে বের হতে না পারলে বিএনপি’র কপালে শনির দশা।
* তরুণ সমাজ সহ জনগণের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ মনে করছে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠন ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগেই রূপ নিচ্ছে বা নিবে। মানুষের এমন মনে করার জন্য বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর আচার আচরণ চলন বলনই দায়ী। মানুষের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে যুবদল, ছাত্রদলের কর্মকান্ড নিয়ে। তাদের কার্যক্রম চিন্তা ভাবনায় মানুষ কোন পরিবর্তন দেখছেনা, পাচ্ছেনা কোন নতুনত্ব কিংবা আগামীর বাংলাদেশের সম্ভাবনা। এসব কারণে বিএনপি থেকে ক্রমাগত বিমূখ হচ্ছে জনগণ। যার খেসারত আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে ভোগ করতে হবে, এমন আশঙ্কা রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের।
সম্ভাবনায় জামায়াত :
ঠিক উল্টো চিত্র জামায়াতে। দলটির পালে হাওয়া। দুরন্ত দুর্বার দুর্দান্ত গতিতে চলছে দলের কার্যক্রম। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত জনপদে মানুষের মুখে এখন জামায়াত। কল্যাণমূখী জনবান্ধব কর্মসূচি দিয়ে মানুষের মন আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে দলটি। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবার সম্ভাবনা দেখছে দেশের মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে সমমনা ৮ দল নিয়ে জামায়াতের পথচলা ও আগামী নির্বাচনে সমঝোতা ক্ষমতারোহনের সম্ভাবনাকে আরো শাণিত করে তুলেছে। ২০১৮ সালে জামায়াত ৩০ সালা কর্মসূচি গ্রহণ করে। সে কর্মসূচি অনুযায়ী ২০৪৮ সালে জামায়াত ক্ষমতায় যাওয়ার পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। ২০২৪-এ প্রাক্তন কিছু নেতার সমন্বয়ে শিবির ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতনের ভিন্ন পরিকল্পনা নেয়। সে পরিকল্পনা বিস্ময়কর সফলতা পায়। খুনী হাসিনার পতন হয়। সম্ভিত ফিরে পায় জামায়াত। ৪৮ নয়, ২৬শেও ক্ষমতায় যাওয়া যায়। চোখ ছানাবড়া স্বপ্ন। সে আলোকে কাজ। জনকল্যাণমূখী কর্মসূচি নিয়ে পথচলা। অবিশ্বাস্য জনসম্পৃক্ততা আর সফলতায় জামায়াত নেতাদের যেন পেছনে থাকানোর সময় নেই।
২০২৪ এর ৩৬ জুলাই’র পরপরই বেদখল হয়ে যাওয়া সবকটি অফিসে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। ৭২ ঘন্টার মধ্যে গুম হওয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) আবদুল্লাহিল আমান আযমী এবং ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) কে ফেরত পায় বা মুক্ত করতে সক্ষম হয়।
দলকে নিষেধাজ্ঞামুক্ত করা হয়। দলের নিবন্ধন ফেরত পায় জামায়াত। দলের প্রতিক দাঁড়িপাল্লা পুনর্বহাল হয়। মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যূদন্ডপ্রাপ্ত দলের সিনিয়র নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে আইনী প্রক্রিয়ায় মুক্ত করে আনে জামায়াত তার দলীয় শক্তিমত্তার জানান দেয় জোরালোভাবে।
২০২৪ এর জুলাই বিপ্লবের পর জামায়াতের কার্যক্রমকে বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই:
* বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমমনা ৮ দল নিয়ে জাতীয় ঐক্যের একটা প্লাটফরম গঠন করেছে। এই ঐক্যে আরো কয়েকটি দল যোগ দেবার সম্ভাবনা রয়েছে। ৮দল অন্তর্বর্তী সরকারের অসঙ্গতি তুলে ধরছে জনগণের কাছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘গণভোট’ অনুষ্ঠানসহ ৫ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে। দেশবাসী এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।
* বিচার ও সংস্কার বিষয়ে জামায়াতের বক্তব্য ও ভ‚মিকা সুস্পষ্ট ও দৃঢ়। যা জনপ্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
* চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখল, ছিনতাই, রাহাজানি, লুটপাট, চুরি-ডাকাতি ইত্যাকার কোন অপকর্মের সাথে জামায়াত বা শিবিরের কারো কোন সম্পৃক্ততা দেখছেনা দেশবাসী। সঙ্গত কারণে জামায়াত-শিবিরকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ মনে করছে দেশের মানুষ।
* দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনও জামায়াতকে অধিক নিরাপদ হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে। প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জামায়াত প্রধানের সাথে সাক্ষাত করে তাদের দাবি দাওয়া জানান দিচ্ছে।
* আন্তর্জাতিক মহলের শুধু দৃষ্টি আকর্ষণ নয়, আস্থা অর্জনে যথেষ্ট পারদর্শিতার পরিচয় দিচ্ছে জামায়াত। ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত ৫১ টি রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি জামায়াতের আমীরের সাথে সাক্ষাত তা-ই প্রমাণ। মূলত: বিদেশী শক্তি জামায়াতকে বিবেচনা করছে গুরুত্ব সহকারে।
* ৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভ‚মিধ্বস বিজয় স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে শিবিরের শ্রেষ্ঠ অর্জন। এ বিজয়ের মাধ্যমে তরুণ সমাজের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনে অভ‚তপূর্ব সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে শিবির। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে আগামী জাতীয় নির্বাচনে।
* জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের গণমূখী নেতৃত্ব বিপ্লব উত্তর বাংলাদেশে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। তাঁর ডায়নামিক ও উন্মুক্ত নেতৃত্ব জামায়াত সম্পর্কে মানুষের বদ্ধমূল ধারণা পাল্টে দিয়েছে। ব্যাপকহারে মানুষের গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে জামায়াত।
* বন্যা, খরা, অগ্নিকান্ড যেকোন দুর্যোগ দুর্বিপাকে আমীরে জামায়াত ছুটে চলেছেন অকুস্থলে। ৫৬ হাজার বর্গমাইল তিনি চষে বেড়িয়েছেন এবং বেড়াচ্ছেন। অভিজাত শ্রেণীর নেতৃত্বকে জনগণের দোরগোড়ায় নেতৃত্বে উপস্থিতি দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে অভিভ‚ত করে তুলেছে। জামায়াতে আকৃষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
* ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে দেড় সহস্রাধিক শহীদ পরিবারে সরাসরি আমীরে জামায়াত বা তাঁর প্রতিনিধির উপস্থিতি নূন্যতম ২লক্ষ টাকা অনুদান দেশবাসীকে অনেকটা চমকে দিয়েছে। শুধু শহীদ পরিবারে নয়, অহতদের চিকিৎসায় আহতদের পরিবারের আপদে বিপদে জামায়াতের অবস্থান যুগান্তকারী। সত্যিকার অর্থেই জনমনে এর প্রভাব পড়েছে অত্যন্ত গভীরভাবে।
* ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ রচনার মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে জামায়াত। যে কাজ রাষ্ট্র করার কথা । সেটা করেছে জামায়াত। জুলাই শহীদদের ইতিবৃত্ত নিয়ে ১২ খন্ডে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ প্রকাশ করেছে জামায়াত। ইংরেজী ও আরবী ভাষাসহ এর অনলাইন সংস্করণ করেছে জামায়াত। ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই কাজ জামায়াতকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছে।
* আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতোপূর্বে ১০ দলীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। যার মধ্যে সবার আগে ১৭৯ আসনে প্রার্থী নাম ঘোষণা করে জামায়াত। বাকী ৪৭ আসনেও প্রার্থী চুড়ান্ত করে নিয়েছে জামায়াতসহ ১০ দল। ২০৬ আসনে জামায়াত নিজ দলের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সেসব প্রার্থী চষে বেড়াচ্ছেন তাদের নির্বাচনী এলাকায়। এলাকার উন্নয়নসহ জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছেন জামায়াত প্রার্থীরা। জনগণ খুব কাছে থেকে অবলোকন করছে জামায়াতকে। মানুষের মাঝে এ ধারণার সঞ্চার হয়েছে বিএনপি আওয়ামীলীগে কোন পার্থক্য নেই। সব দল দেখা হয়েছে। বাকী রয়েছে জামায়াত। দখলবাজি- চাঁদাবাজি মুক্ত সৎ ও যোগ্য জামায়াত নেতারা জনমনে সাড়া ফেলতে দারুণভাবে সফল হচ্ছেন। এ ধারা নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে সম্ভাবনা জাগানিয়া জামায়াত সব হিসেব নিকেশ পাল্টে দিতে পারে।
কবীর আহমদ সোহেল, সম্পাদক, দৈনিক প্রভাতবেলা, www.dailyprovatbela.com/
Facebook.com/The Daily Provatbela

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি