শুভেচ্ছা শুভাশীষেও ভেঁজাল

প্রকাশিত: ১:২৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০১৭

শুভেচ্ছা শুভাশীষেও ভেঁজাল

নতুন বছর ভাল কাটুক। শুভ কামনা সবার প্রতি। মুছে যাক পুরাতন বছরের সব গ্লানি দুঃখ বেদনা। গত বছরের সকল অপ্রাপ্তি পূর্ণতায় ভরে উঠুক নতুন বছরে। প্রত্যাশার স্বপ্নগুলো যেন ডানা মেলে উড়তে পারে নীল আকাশে এই নতুন বছরে।
চিরাচরিত নিয়মেই আমাদের কামনা। সৃষ্টির কল্যাণ আর শুভ কামনা মনুষ্য প্রকৃতির অন্যতম বৈশিষ্ঠ্য।
যদিও আধুনিক সভ্যতার এই স্বর্ণযুগে আমরা মানুষের কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণ সাধনেই ব্যস্ত থাকি বেশী। বিশেষ সময় কিংবা দিবসে আমাদের মাঝে মনুষ্যত্ববোধের চেতনা জাগ্রত হয়। আমরা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাই। শুভ কামনা করি। আধুনিক প্রযুক্তির আশির্বাদে এই কাজে আমাদের সময় ও অর্থব্যয় হয় খুব স্বল্প। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন আসে এস শুভেচ্ছা শুভাশীষের মূলে আন্তরিকতার ভিত্তি কতটুকু।
দেখা যায় চেনা নাই জানা নাই কেউ একজন আপনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানালেন প্রাঞ্জল ভাষায়। অথচ ঐদিন আপনার জন্মদিনই না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক একাউন্ট খুলতে একটি জন্ম তারিখ দিতে হয় তাই দিয়েছিলেন। লুক্সেমবার্গ এর আশির্বাদে বহুজন তাই জানল আর আপনাকে শুভেচ্ছা জানাল। সুতরাং তা যে খাঁটি নয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরেক শ্রেণী আপনার পরিচিত। চেনাজানা। কিন্তু এরা আপনার ভাল চাননা। কল্যাণ কামনা করেন না। সুযোগ পেলে আপনাকে কৌশলে আঘাত করেন (বাঁশ দেন)। অবশ্য প্রকাশ্যে না। সামনে এরা এমনভাবে গুণকীর্তণ করেন তা শুনে আপনি কাঁদবেন না হাসবেন ভাবনায় পড়তে হয়। সামনে থেকে প্রস্থানের পরই ঐ ব্যক্তিই আপনার সম্পর্কে এমন নেতিবাচক উপস্থাপন করে যা শুনে এদের কাছে হেরে যাবার শঙ্কায় পড়ে স্বয়ং শয়তান। অথচ এই শ্রেণীই আপনার জন্ম কিংবা বিশেষ দিনে সবার আগে শুভেচ্ছা জানাতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে।
এই যে আত্মপ্রবঞ্চনা বা আত্মপ্রতারণা তা কোন অবস্থাতেই কল্যাণকর হতে পারে না। এটা একধরনের পাপাচার। মিথ্যাচার পাপাচার আর ভেঁজাল আচরণে অভ্যস্ত মানুষ শুভেচ্ছা শুভাশীষেও ভেঁজালের আশ্রয় নেয়। আমরা এ ধরনের আচার আচরণ থেকে বিরত থাকার আহবান জানাই। আমাদের প্রত্যেককেই প্রতিটি কর্মের হিসাব দিতে হবে এটা ভুলে গেলে চলবে না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ