সেই বদরুলের দিনরাত যেভাবে কাটছে

প্রকাশিত: ৬:৪৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০২০

সেই বদরুলের দিনরাত যেভাবে কাটছে

মাসরুর রাসেল♦  কেমন আছেন সেই বদরুল? ২০১৬ থেকে ২০২০। সুরমা কুশিয়ারায় গড়িয়েছে অনেক জল। ঘটনার পর ঘটনার জন্ম হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়েছে ভইরাল। আবার পড়েছে চাপা।

 

২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজে স্নাতক পরীক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে আলোচনার তুঙ্গে উঠেছিলেন ছাত্রলীগ নেতা।

 

সময়ের ব্যবধানে তুখোড় এই নেতা বেশীরভাগ সময় থাকেন নীরব। বদরুল আলমের আবাস এখন সিলেট কেন্দ্রিয় কারাগারের কারা হাসপাতালের ৪ নং ওয়ার্ডে। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত বদরুল সফেদ শাদা কয়েদী পোষাকে সাজাভোগ করছেন ২০১৭ সাল থেকে।

 

কারা অভ্যন্তরে এই প্রতিবেদকের সাথে এক ফাঁকে দেখা হয় বদরুলের। কথা হয় তার সাথে। খুব স্বল্প কথা বলেন বদরুল। খাদিজাকে কুপানোর ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত নন। আদালত তার যে সাজা দিয়েছেন তাতেও বদরুলের তেমন কোন প্রতিক্রিয়া নেই। উচ্চ আদালতে আপিল করারও ইচ্ছে নেই বদরুলের। জানান বদরুল। 

 

 

কারা কর্তৃপক্ষ সুত্র মতে, কয়েদি হিসেবে বদরুলকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা তিনি ভালভাবে পালন করছেন। এরফলে তার শাস্তি কিছুটা কমে আসবে কারাবিধি অনুযায়ী।

বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতালের ফার্মেসী বিভাগে ডিসপেন্সারীরর দায়িত্ব পালন করছেন বদরুল। অত্যন্ত  নিষ্ঠার সাথে কাজ করছেন বদরুল।

 

কারান্তরীণ অনেক বন্দীর বদরুলের কাজের প্রশংসার করেন। নীরব নির্জীব বদরুল খুব বেশি কথা বলেন না। সারাক্ষণ কারা কর্তৃপক্ষের হুকুমে রোগীদের সেবা দিতেই ব্যস্ত দেখা যায়। সকাল ৯ থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত টানা ডিউটি করেন বদরুল।  ডাঃ পরামর্শ অনুযায়ী কারাগারের রোগীদের ঔষুধ সরবরাহ করাই বদরুলের কাজ।

 

২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর সিলেট এমসি কলেজে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের নৃশংস হামলার শিকার হন সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের স্নাতক শ্রেণীর ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস। খাদিজাকে কোপানোর দায়ে ঘটনাস্থল থেকে শাহজালাল বিশ্ববদ্যিালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা। বদরুলের চাপাতির আঘাতে খাদিজার মাথার খুলি ভেদ করে মস্তিষ্কও জখম হয়। খাদিজাকে কোপানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

 

 ২০১৭ সালের ৮ মার্চ  খাদিজা বে হত্যাচেষ্টা মামলায় একমাত্র আসামি বদরুল আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।একই সঙ্গে বদরুলকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাঁকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বদরুল। পরে তাঁকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই থেকেই কারাগারেই কাটছে বদরুলের দিনরাত।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 75
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ