সোনার পাথর বাটির পরশে আকবর

প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

সোনার পাথর বাটির পরশে আকবর
প্রভাতবেলা প্রতিবেদক♦ আকবর। পুরো নাম আকবর হোসেন ভূঁইয়া। সুদর্শন পুলিশ। নায়কী চেহারা। ‘শিখে নেই’ ‘বদলে দেই’ এমন নীতি শ্লোগানে নাটকে অভিনয় করতো এসআই(বরখাস্তকৃত) আকবর। তাও সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় সংস্কৃতি চর্চার প্রতিষ্ঠান গ্রীন বাংলা প্রোডাকশনের নায়ক হয়ে। ইতোমধ্যে আত্মগোপনে চলে গেছে আকবর। কেউ বলছেন পুলিশেরই উর্ধতনরা আকবরকে পালিয়ে যাবার সুযোগ দিয়েছেন।
আকবর সিলেট ত্যাগের সময় দুই বস্তা টাকা নিয়ে গেছে এমন কথা লোকমুখে। আকবরের অন্ধকার জগতের নানা চিত্র বেরিয়ে আসছে। রায়হান হত্যা ঘটনাই যেন আকবরের মুখোশ উন্মোচন করে দিচ্ছে। সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র বন্দরবাজারেই আকবর চালাতো তার অপারেশনের স্টীম রোলার। নিরীহ, নিরপরাধ পথচারী টার্গেট করতো রায়হানের লেলিয়ে দেয়া বাহিনী। নগরীর যেকোন জায়গা থেকে ধরে এনে মাদক , অস্ত্র , চুরি, ছিনতাই মামলায় ফাঁসিয়ে দেবার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের উৎকোচ দাবী করতো। সক্ষমরা ভয়ে আত্মীয় স্বজন ডেকে আকবরের চাহিদা পূরণ করে রেহাই পেত। অস্বচ্ছল নীরিহদের ওপর চালাতো অমানবিক নিযাতন। অভিযোগ রয়েছে, ভোর বেলা সিলেটে আসা বাস-ট্রেনের যাত্রীদের আকবর টার্গেট করতো। এক্ষেত্রে বাপ-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী কাউকে ছাড় দিতোনা। নানান অভিযোগে হেনস্থা করতো। টাকা নিয়ে ছেড়ে দিতো, না হয় আজগুবি  মামলায় জড়িয়ে দিত।
আকবর নিজে কামিনী কাতর। নগরীর উপশহরের চিহ্নিত একটি বাসায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই বাসায় দেহব্যবসা চলতো।
আকবর এর বাড়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ এর বেড়তলা বগইর গ্রামে। এই এলাকার সবচেয়ে প্রাসাদোপম বাড়ির  মালিক সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্তকৃত ইনচার্জ আকবর হোসেন ভূঁইয়া। মাত্র  ৬ বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক আকবর। সিলেটে  আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ পেয়ে যায় আকবর।

২০১৪ সালে এসআই পদে যোগ দেয় আকবর। এরপর থেকেই নাকি  পরিবারের দিন ফিরতে শুরু করে। বাড়ি, গাড়ি করেছে, প্রতিবছর নতুন নতুন জায়গা, প্লট কেনে। এলাকায় যেই জায়গা বিক্রি করতে চান, কিনে নেয় আকবর। স্কুলশিক্ষক পিতা সি গ্রেডে এসএসসি পাশ করা আকবর নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ছিলেন সেই ছেলের হাতেই এখন সোনার পাথর বাটি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 2
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ