‘স্বাধীনতা’ আমাদের শ্রেষ্ট  অর্জন

প্রকাশিত: ২:২৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০২১

‘স্বাধীনতা’ আমাদের শ্রেষ্ট  অর্জন

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উদযাপনে প্রস্তুত বাংলাদেশ। আর কয়েক ঘন্টা পর বাংলাদেশ নামক ভূ-খন্ডের স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পূর্তি হবে। জাতি এ মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়। রাজধানী ঢাকা, বিভাগীয় নগরী, জেলা শহর, উপজেলা সদর সহ প্রত্যন্ত জনপদে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উদযাপনের ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত শ্যামল বাংলাদেশ। রাজধানীতে বিদেশী অতিথি ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছেন। সমৃদ্ধ বর্ণিল আয়োজনে রাজধানীতে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উদযাপন হচ্ছে। অন্য এক চেহারায় ঢাকা। চমৎকার মনোমুগ্ধকর রাতের ঢাকা। আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উদযাপনের সামগ্রিক সফলতা কামনা করি।

 

‘স্বাধীনতা’ অমাদের শ্রেষ্ট  অর্জন। বাঙালীর অনবদ্য অর্জন। ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। ১৯৭১ এর ২৬ মার্চ পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বিধৌত এই বাংলার পূর্ব দিগন্তে সে সূর্য আবার উদিত হয়। বৃটিশ, ভারত আর পাকিস্তানের প্রায় সোয়া দুইশ’ বছরের গোলামী থেকে মুক্তি লাভ করে বাঙালী জাতি। লাভ করে স্বাধীন স্বত্তা –স্বকীয়তা । আপন পরিচয়,নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি নিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে বাঙালীর নবযাত্রা শুরু হয়। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে তার অস্তিত্বের জানান দেয়। বাংলা আর বাঙ্গালীর প্রতিনিধিত্বশীল রাষ্ট্র বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্তি লাভকারী স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এ স্বাধীনতা অর্জিত হয়। ৩০ লক্ষ প্রাণ , ২ লক্ষ মা- বোনের ইজ্জত সম্ভ্রম আর বহু রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই স্বাধীনতা। স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী সকল শহীদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

আমরা বিশ্বাস করি, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি চাট্রিখানি কথা না। যে কোন দেশ বা জাতির জন্য তা নি:সন্দেহে গৌরবের। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উদযাপন করতে পারাটাও আনন্দের, সম্মানের। বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উদযাপন করছে।এটা পুরো দেশ ও জাতির জন্য আনন্দের, গৌরবের।

 

আমাদের আফসোস,স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উদযাপনে আমাদেরকে হোচট খেতে হচ্ছে। প্রধানত দুটি কারণে। প্রথমত: প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা করোনা মহামারী। বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ ভাইরাসের মহামারীর ঢেউয়ে আক্রান্ত বাংলাদেশও। যার কারণে সুবর্ণ জয়ন্তি উৎসবে, অনুষ্ঠানেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে উদযাপন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

দ্বিতীয়ত: রাজনৈতিক বিভক্তি। মুক্তিযুদ্ধে, স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতি যেভাবে ইস্পাত কঠিন ঐক্য নিয়ে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে নেমেছিল। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূ্র্তিতে আমাদের মাঝে কী সেই ঐক্য আছে? স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি জাতীয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে উদযাপন করতে পারছিনা। এক ব্যানারে, এক মঞ্চে এক শামিয়ানার নীচে এক অনুষ্ঠানে উদযাপন করতে পারছিনা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি। জাতি হিসেবে এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। মুক্তিযুদ্ধে তো আমাদের দলীয় পরিচয়ের ছেলে বড় পরিচয় ছিল জাতীয় পরিচয়। তাহলে সুবর্ণ জয়ন্তি উদযাপনে আমরা কেন দলীয় পরিচয়ের উর্ধে উঠতে পারলাম না? এটা আমাদের জাতীয় নেতৃত্বের ব্যর্থতা, আমরা মনে করি।

আমরা মনে করি , জাতীয় বিভাজন কোন জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনা। তা-ও কোন জাতীয় ইস্যুতে এ বিভক্তি নয়। কেবলি ক্ষমতায় যাবার না হয় ক্ষমতায় থাকবার হীন মানসিকতাই এ বিভক্তির অন্যতম কারণ। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি লগ্নে স্বাধীনতার পক্ষের আর বিপক্ষের বলে জাতীয় বিভক্তি আমাদের কাম্য নয়।

আমরা জাতীয় ঐক্য চাই। জাতীয় স্বার্থে আমরা এক ও ঐক্যবদ্ধ। এটা হবে আমাদের জাতীয় মূলনীতি। এখানে দল, মত, পেশা ,গোষ্ঠী, আদর্শ, চিন্তা, চেতনা বলে বিভক্তি সৃষ্ঠিকারী কোন কিছুর উপস্থিতি থাকবেনা। একটাই পরিচয় আমরা বাঙালী, আমরা বাংলাদেশী।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ