সড়কে নতুন আতঙ্ক অজ্ঞাত যানের ধাক্কায় মৃত্যু

প্রকাশিত: ৩:২০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১

সড়কে নতুন আতঙ্ক অজ্ঞাত যানের ধাক্কায় মৃত্যু

সড়কে নতুন আতঙ্ক অজ্ঞাত যানের ধাক্কায় মৃত্যু। পরিবহন থেকে পড়ে গিয়ে বা ফেলে দিয়ে প্রাণহানির মত নির্মমতাও ঘটছে। তার চেয়ে বেশী উদ্বেগের বিষয় হলো এসব যান এবং চালক মূহুর্তেই লাপাত্তা হয়ে যায়। আইন শৃংখলা বাহিনীও খুঁজে পায়না। বা খুঁজতে চায়না।

 

বাংলাদেশের সড়কে নিরাপত্তা নেই। ফিটনেসবিহিন গাড়ী, অদক্ষ আনাড়ী চালক আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লাগামহীন দুর্নীতির কারণেই সড়কে নিয়ন্ত্রণ আনা যায়নি আজো। নিরাপদ সড়কের দাবী অক্ষির অগোচরেই নিরবে নিভৃতে কেবল কাঁদছে। এটা একটা জাতীয় বড় সমস্যা। সমাধানে প্রয়োজন জাতীয় উদ্যোগ।

 

সাম্প্রতিক সময়ে একটা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ অজ্ঞাত যানের ধাক্কা’। মোটরসাইকেল আরোহী, পথচারী এবং সিএনজি চালিত অটো রিকশা এই ‘ অজ্ঞাত যানের ধাক্কা’র বলি হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা এসব ঘটনা ঘটছে বেশী। অপেক্ষাকৃত বড় পরিবহনগুলো ছোট ছোট এসব পরিবহনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দ্রুত সটকে পড়ে। ধাক্কা খাওয়া যানের অরোহীরা বাঁচলো না মরলো এইটুকু দেখার মানবিকতাও নেই তাদের।

 

গত ১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে  ৯টার দিকে বিয়ানীবাজারের জলঢুপ এলাকায় অজ্ঞাত কোন পরিবহনের ধাক্কায় মোটর সাইকেল থেকে সিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বিশিষ্ট রাজনীতিক ও শিক্ষক মাওলানা আইয়ুব আলী ।

 

খবরে প্রকাশ, রাত ১০টার দিকে রাস্তার পাশে  রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা বিয়ানীবাজার থানা পুলিশকে খবর দেন। মরদেহের পাশে একটি লাল রঙের পালসার মোটরসাইকেল (সিলেট-ল ১১-৪৮৭০) পড়ে থাকতে দেখা যায়।

 

পুলিশের বলছে, অজ্ঞাত যানবাহন মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে মাওলানা আইয়ুব আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল উদ্ধার করলেও   দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের খোঁজ আজো পায়নি।

 

 

এটা একটি ঘটনার উল্লেখমাত্র। সড়ক মহাসড়কে এমন ঘটনা ঘটছে অহরহ। সবকটির খবর সংবাদ মাধ্যমে আসছেনা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ আঞ্চলিক সড়কগুলোতে বড় পরিবহনের ধাক্কায় কত মোটর সাইকেল আরোহীর প্রাণ সড়কে গেছে তার পরিসংখ্যানও এই মূহুর্তে নেই।

 

 

 

আরেকটি আতঙ্ক যানেই মৃত্যু। না হয় যান থেকে ছিটকে পড়ে সড়কে মৃত্যু। অত:পর যানসহ চালক গা-ঢাকা। এ ঘটনাটি ঘটছে বেশীরভাগ সিএনজি চালিত অটোরিকশায়। লাইসেন্সবিহিন আনাড়ি চালক বেপরোয়াভাবে তিন চাকার এ গাড়ী চালায়। ইচ্ছেমত সামনে পেছনে যাত্রী উঠায়। ড্রাইভিং বা মোটরযান রীতির কোন তোয়াক্কা না করে এই অটোরিকশা চলে বড় পরিবহনের সাথে পাল্লা দিয়ে। সড়কে যা দুর্ঘটনা ঘটে তার ৮০ ভাগ এই অটোরিকশাকে কেন্দ্র করেই ঘটে।

 

 

বেপরোয়া অটোরিকশা চালক কখনো বড় গাড়ীর পেছনে গিয়ে ঢুকে। কখনো সামনে পিস্ট হয়। কখনো যান ছিটকে পড়ে খাদে, খালে, জমিনে। আবার কখনো যাত্রী ছিটকে পড়ে সড়কে। এসব ঘটনায় অধিকাংশ সময় চালক কিংবা গাড়ীসহ চালক পালিয়ে যায়। কে পড়লো, কে মারা গেল তার কোন তোয়াক্কা তারা করেনা।

 

 

এমনি এক মর্মন্তুদ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন  জুড়ী মডেল সরকারী উচ্চ  বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক কবির উদ্দিন আহমদ ।

 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী ২৮ আগস্ট শনিবার মৌলভীবাজারের জুড়ী-কুলাউড়া সড়কের রামপাশা এলাকায় জুড়ী মডেল সরকারী উচ্চ  বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক কবির উদ্দিন আহমদ অটোরিকশা ধাক্কায় অথবা অটোরিকশা থেকে সিটকে পড়ে  মারাত্মক আহত হন। আহতবস্থায় তাঁকে সড়কের পাশে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে চালক পালিয়ে যায়।

 

 

গুরুতর আহতবস্থায় তাঁকে সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর অবস্থার অবনতি  ঘটলে  ১ সেপ্টেম্বর, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন স্বজনরা। পথিমধ্যে মাধবপুর নামক এলাকায় রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

 

ঘাতক অটোরিকশা কিংবা চালকের কোন সন্ধান আজো মেলেনি।

 

 

সড়কে নতুন আতঙ্ক কেন উদ্বেগজনকভাবে ঘটছে? কে নেবে এর দায়? কি তার প্রতিকার?  স্বাভাবিকভাবেই এ প্রশ্নগুলো আসে মোটা দাগে।

 

আমরা মনে করি, সড়কে প্রাণহানি নাগরিক জীবনে বড় ধরনের আতঙ্ক। আবার অজ্ঞাত যানের ধাক্কায় মৃত্যু আরো বেশী উদ্বেগের। এসব ঘটনার জন্য প্রথমত দায়ী আনাড়ি , লাইসেন্সবিহিন, মদ্যপ ড্রাইভার। দ্বিতীয়ত আইনশৃংখলা বাহিনী। সড়কে কাগজপত্র দেখার নামে পুলিশ যে চাঁদাবাজি হয়রানি করে তার সিঁকিভাগ সময় যান ও জীবন রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতো তবে ঘটনা কমে আসতো অনেক। নিদেনপক্ষে ঘাতক পরিবহন ও চালক অন্তত অজ্ঞাত থাকতো না।

 

 

তিন চাকার অটোরিকশা। যা সিএনজি নামেই জনপরিচিত। এ পরিবহনটির লাগাম টেনে এখনি না ধরলে একসময় সড়কে চলাচল বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।

 

 

শুধুমাত্র প্রশিক্ষিত চালকের হাতে এ পরিবহন থাকলেই সড়কে নিরাপত্তা চলে আসবে অর্ধেক। ট্রাফিক পুলিশ, বিআরটিএ সহ সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তর গুলোর দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলেই এই অটোরিকশা আতঙ্ক শূণ্যের কোঠায় চলে আসবে। এ আমাদের বিশ্বাস।

 

আর নাগরিক দায়িত্ব রয়েছে এক্ষেত্রে মোটা দাগে। নাগরিক সচেতনতা ছাড়া কোন সমস্যারই সমাধান সম্ভব না। অটোরিকশা পরিবহনে নাগরিকদের বুঝতে হবে এটা তিন চাকার পরিবহন। এটা দুরপাল্লার যান না। নিদ্ধিষ্ট আসনের অতিরিক্ত যাত্রী এ পরিবহনে আরোহন করা মানে আত্মহত্যার পথে চলা।এ বাস্তবতা সাধারণ নাগরিককে বুঝতে হবে, মানতে হবে।

 

সড়কে আতঙ্ক, সড়কে মৃত্যু, পরিবহনে আতঙ্ক, পরিবহনে প্রাণহাণি কারো কাম্য নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবার আগেই সংশ্লিষ্ট মহল এ সমস্যা রোধকল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন এটাই  সময়ের  দাবী।

 

কবীর সোহেল♦ ১০ সেপ্টেম্বর,২০২১।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    9
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ