৬৭৭ কোটি ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে পানি গবেষণাগার

প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

৬৭৭ কোটি ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে পানি গবেষণাগার

 

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

 

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিকমানের পানি গবেষণাগার। এই গবেষণাগারে দেশীয় শিক্ষার্থীর পাশাপাশি বিদেশিরাও সুযোগ পাবেন। পানি বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষা, জ্ঞান, পরামর্শ ও নির্দেশিকার মাধ্যমে পানি ও পানি বিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণার বিশাল পরিসর সৃষ্টির লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার।

 

 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) সূত্রে জানা গেছে, পানি গবেষণাগারের মাধ্যমে হাইড্রোলজিক্যাল শিক্ষা, বাঁধ সংক্রান্ত শিক্ষা, ভেজিটেশন, জীববৈচিত্র্য, অ্যাকুয়াকালচার ইত্যাদি সমন্বয় করার মাধ্যমে জ্ঞানের চর্চা করা হবে।

 

সরকারি-বেসরকারিসহ সবাই এই গবেষণাগারে গবেষণার সুযোগ পাবে। ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশের শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে গবেষণাগার নির্মাণ করা হবে।

 

 

বাপাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) এএম আমিনুল হক বলেন, ‘১০০ বছরের বদ্বীপ পরিকল্পনা সফল করাসহ পানি ব্যবস্থাপনার জন্য দেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিকমানের পানি গবেষণাগার নির্মাণ করা হবে।’

 

 

‘আন্তর্জাতিক পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৬৭৭ কোটি ৬ লাখ টাকা। প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বাধিক উন্নয়নের জন্য বৈজ্ঞানিক তৎপরতা চালাতে রাজধানীর খিলক্ষেতে এটা নির্মাণ করা হবে।

 

 

বিভিন্ন ডিপ্লোমা এবং হায়ার ডিপ্লোমা কোর্সের মাধ্যমে পড়ানো হবে পানিসম্পদ উন্নয়ন এবং পরিকল্পনা বিষয়ক শিক্ষা। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত পরিবেশ বিদ্যা এবং ভূতত্ত্ব বিভাগ বিষয়ক শিক্ষা, উপকূলীয় সেডিমেন্টেশন এবং নদী সংস্থান বিদ্যা বিষয়ক শিক্ষা দেওয়া হবে। ড্রেজিং টেকনোলজি ইনস্টিটিউট এবং টাইডাল ফ্লুম অর্থাৎ টার্বুলেন্স সিমুলেশন ওয়েভপুলের মাধ্যমে এরোশন এবং ইনোভেশন সিমুলেশন ল্যাব, টাইডাল এবং মনসন স্টাডি এরিয়া ল্যাব চালানো হবে। এর মাধ্যমে যেন ১০০ বছরের বদ্বীপ পরিকল্পনা সফল করতে পারে সরকার।

 

 

ড্রেজিং টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে মেকানিক্যাল এবং ড্রেজিং বিষয়ে পড়ানো হবে। শুধু তাই নয় আন্তর্জাতিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট বায়োডাইভারসিটি এরিয়া ল্যাব, স্যালাইনিটি এবং সিল্টেশন সিমুলেশন এরিয়া ল্যাব, ডেভেলপমেন্ট স্কিম মডেল স্টাডি এরিয়া ল্যাব, ওয়াটার কোয়ালিটি মনিটরিং ল্যাব ইত্যাদি বাস্তবায়ন করা হবে যেন পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ একটি উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হতে পারে।

 

 

প্রকল্পের আওতায় ১৬টি ভবন নির্মাণ করা হবে। এগুলোর মোট আয়তন হবে ৬৪ হাজার ১৩ বর্গমিটার। এর মধ্যে ১০টি দুই তলা, একটি তিন তলা, দুইটি নয় তলা, একটি ১২ তলা এবং দুইটি এক তলা। প্রকল্পের আওতায় ১৩টি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এগুলোর মোট আয়তন হবে ৬১ হাজার ৭৭৯ বর্গমিটার। এর মধ্যে একটি তিন তলা, দুইটি চারতলা, তিনটি ছয় তলা, একটি ১০ তলা, দুইটি ১২ তলা, তিনটি ১৫ তলা এবং একটি এ টাইপ ভবন।

 

 

প্রভাতবেলা/এমএ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ