” আমার সন্তান যেন ডাক্তার হয়, ইন্জিনিয়ার হয়- এ দোয়া করবেন না”

প্রকাশিত: ৪:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২১

♦কবীর আহমদ সোহেল♦ ” আমার সন্তান যেন ডাক্তার হয়, ইন্জিনিয়ার হয়- এ দোয়া করবেন না” ।
বক্তব্য টা আমার না। বাংলাদেশের হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ ব্রিগেডিয়ার ডা. আবদুল মালেক স্যার’র বক্তব্য এটা। ২০০৯ বা ২০১০ সাল। সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসএসসি ও দাখিল উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। ব্রিগেডিয়ার মালেক স্যার প্রধান অতিথি। আমি সর্ব কনিষ্ঠ বিশেষ অতিথি। শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক সহ ডজনখানেক গুণীজন ছিলেন বিশেষ অতিথি।
প্রঢৌকল অনুযায়ী প্রথম বক্তা আমি। সুযোগ পেয়ে আমিও হৃদয় মন উজাড় করে একখানা বক্তব্য দিলাম। পরবর্তী বক্তারা কেবলি আমার কথামালার পুনরাবৃত্তি করলেন। বাহবাও দিলেন আমাকে।
আমি ঠায় বসে রইলাম প্রধান অতিথির বক্তব্য শুনবার জন্য।
ব্রিগেডিয়ার ডা. আবদুল মালেক তার সারগর্ভ বক্তব্যে উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্যেশে উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি বলেন, সন্তান ডাক্তার, ইন্জিনিয়ারি হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন না। দোয়া করবেন আমার সন্তান যেভাবে পরিণত হলে মানুষের উপকার হয়, ইহকাল- পরকালের কল্যান হয় সেভাবে গড়ে উঠবার সাহায্য চাই।
শুধু ডাক্তার ইন্জিনিয়ার এর দোয়ার ফলে যদি আপনার সন্তান ডাক্তার ইন্জিনিয়ার হয়েও যায়। তার দ্বারা মানুষের কল্যাণ হবেনা। মানুষ তাকে বলবে কসাই, ডাকাত।
কত গভীর কথা। আজ ১০ বছরের বেশী সময় পর স্যারের কথাটি মনে হলো। কিন্তু কেন?
ঐ যে মানুষ বলবে ডাকাত, কসাই। ঠিক এরকম না হলেও দরজা বন্ধ করে এক ডাক্তারের চেম্বারে কিছু কথা বলে আসলাম গত সন্ধ্যায়( ২১ জুন)।
নগরীর অভিজাত হাসপাতাল। অধ্যাপক মর্যাদার চিকিৎসক। কলোরেক্টাল, জেনারেল ও ল্যাপরোস্কপি সার্জন। ১৪ জুন আমার খালাত বোনকে চেকআপ করিয়েছি। Ct Urogram টেস্ট ও পরামর্শপত্র দেন। ঐ টেস্টের রিপোর্ট পাই ১৭ জুন। ঐদিন ও পরেরদিন ( বৃহস্পতি ও শুক্রবার) তিনি ছিলেন হবিগঞ্জ চেম্বারে। শনিবার আমি রিপোর্ট নিয়ে যাই। রিপোর্ট দুশ্চিন্তামুক্ত বলে কিছু পরামর্শ দেন চিকিৎসক মহোদয়। বলেন রোগীকে নিয়ে আসবেন।
তার কথামত আজ রোগী সমেত হাজির।। চেম্বারে ঢুকবো ঐসময় ডাক্তারের এসিস্ট্যান্ট ৫শ’ টাকা ফি চাইলো। রিপোর্ট দেখাতে ফি লাগবে? তাও৷ ১৪ থেকে ২১ জুন এক সপ্তাহের মধ্যে? আমার কোন কথাই শুনছে না ডাক্তারের ঐ মাস্তান। ভাবখানা এমন টাকা না দিলে ঢুকতে দেবেনা। অগত্যা দিয়েে দিলাম। পথ ছাড়লো। চেম্বারে ঢুকলাম। ডাক্তার সাব আজ আর রিপোর্ট তেমন দেখলেন না। শনিবার আমাকে যা বলেছিলেন আজও তাই বল্লেন। একটি শব্দ ও বেশীনা।
রোগী দেখা শেষ। বোন কে বাইরে দিয়ে দরজা বন্ধ করলাম।
আমার পরিচয় দিলাম। This is Kabir Ahmed Sohel. এই নগরীতে সাংবাদিকতা করি ২৫ বছর ধরে। রিপোর্ট দেখাতে ফি নেন কোন বিধিতে? তাও সপ্তাহের মধ্যে?
আমার ধীরভাষ্য আর রুদ্রমূর্তি। ডাক্তার সাহেব মাস্ক খুলে নিলেন। সুন্দর চেহারার মুখখানি বানরের পশ্চাদপদের মত দেখালো। বলতে চাইলেন, না মানে এটা রিপোর্ট দেখার নয়, রোগী দেখার। বল্লাম রোগী কি দেখলেন? বিপিটাও চেক-আপ করেননি। একটা ঔষধের নামও লিখেননি। কল বেল চাপলেন। এসিস্ট্যান্ট কে ডাকলেন। বল্লেন উনার টাকা দিয়ে দাও।
আমি বল্লাম,
আমার টাকা নেব কেন? আর মানুষের কাছ থেকে নেবেন কেন? উত্তর না দিয়ে বল্লেন, না আপনার রোগী কে তো তেমন দেখিনি। নিয়ে নেন।
কথা বাড়ালাম না। Ct urogram টেস্ট নিয়ে এ হাসপাতালে তুলকালাম ঘটিয়েছি ১৫ জুন। এই ডাক্তারের কাছে রেফার করেছেন আমার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু।
১৫ জুনের সোচ্চার প্রতিবাদে কর্তৃপক্ষ কিছু বিহিত ব্যবস্থাও নিয়েছেন।
কিন্তু এদের কি করবেন? ব্রিগেডিয়ার মালেক স্যারের সেই বক্তব্য মতে আমিও কি বলবো এই ডাক্তার কসাই, এই ডাক্তার ডাকাত??
সম্পাদক: দৈনিক প্রভাতবেলা।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ