‘আসসালামু আলাইকুম’ সম্ভাষণ

প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০

‘আসসালামু আলাইকুম’ সম্ভাষণ

সাঈদ চৌধুরী ♦

জ্ঞান বা শিক্ষা বলতে সাধারণত সুশিক্ষা বুঝায়। আমরা শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবার কথা বলি। আলোকিত সমাজের জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। কিন্তু পবিত্র কোরআনের জ্ঞান ব্যতিত শিক্ষা যে অপরিপূর্ণ তা বলাই বাহুল্য। কুশিক্ষা মাঝে মধ্যে অশিক্ষার চেয়েও ভয়ংকর মনে হয়। অশিক্ষা মানুষকে অন্ধকারের দিকে ধাবিত করে। আর কুশিক্ষা গোটা সমাজকে ভীষণ বিশময় করে তোলে। কুশিক্ষার ফলে মানুষ হিংস্র ও দুর্বৃত্ত ইতরে পরিণত হতে পারে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের ডিবিসি টিভি চ্যানেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিয়া রহমান ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘আল্লাহ হাফেজ’ নিয়ে এমন একটি কুশিক্ষার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। একজন তথাকতিত অধ্যাপকের গন্ড মূর্খের মত আলোচনা আধুনিক কালে কুশিক্ষার শ্রেষ্ঠ প্রমান বলেই বিবেচিত হচ্ছে। পৃথিবীতে এ যাবত যত ভয়াবহ ও বীভৎস বর্বরতার ঘটনা ঘটেছে তার অধিকাংশই কুশিক্ষার বদৌলতে হয়েছে।

মি. জিয়া বলেছেন, আগে আমরা ‘স্লামালেকুম’ বলতাম, এখন স্ট্রেস দিয়ে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা হচ্ছে। আর এটা নাকি বিএনপি-জামায়াতের শেখানো তরিকা। তিনি আরো বলেছেন, ‘খোদা হাফেজ’ আমরা বলতাম খুব সহজে, এটা ‘আল্লাহ হাফেজ’ হয়ে গেছে। আর এগুলো দিয়ে একটা ডিসকোর্স তৈরি করা হয়েছে।

মি. জিয়া অশিক্ষিত নন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার শিক্ষা হয়ত কুশিক্ষার আবরণে আদৃত। ফলে তিনি নিজে এবং তার মাধ্যমে ভয়ঙ্কর মানবের বিস্তার ঘটছে। না হয় এতটা অজ্ঞতাপূর্ণ ও বিদ্বেষ প্রসূত বক্তব্য তিনি রাখবেন কেন? কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের মুখে এটা শুধু বেমানান নয়, বিস্ময়করও বটে।

কুশিক্ষার ফলে সমাজে সর্বগ্রাসী প্লাবন সৃষ্টি হয়। মি. জিয়ার মত শিক্ষকরা কতটা জাতিগত উন্নতির বিস্তার ঘটাচ্ছেন? কতটা সভ্যভব্য জাতিতে উন্নত করে তুলছেন? তা নিয়ে রীতিমত জিজ্ঞাসার সৃষ্টি হয়েছে। এমনিতে তাদের শিষ্য সাগরেদদের ঘুষ, দুর্নীতি আর অরাজকতায় গোটা জাতি গলদগর্ম অবস্থার মধ্যে রয়েছে। দেশের নারী সমাজ তথাকথিত শিক্ষিত বদমায়েশদের জন্য এক ভীতিকর অবস্থায় রয়েছেন। কুশিক্ষার কুফল থেকে সমাজের কেউই রেহাই পাচ্ছেনা। দুর্বৃত্তায়নের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। দুর্নীতি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। জাতির ভবিষ্যতকে করে তুলেছে কণ্টকাকীর্ণ। এসব পূত ও পবিত্র করে গড়ে তোলা যেন দুঃসাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে।

অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মি. জিয়া কোন পরিবারে জন্মেছেন আমার জানা নেই। একেবারে মুর্খ পরিবার থেকে নকল করে বা অন্য কোন রকম অসদ উপায়ে যদি এ জায়গায় এসে থাকেন তাহলে কিছু বলার থাকেনা। অজ্ঞতার কারণে অশুদ্ধ ভাবে ‘স্লামালেকুম’ বলার রেয়াজ কারো বাপ-দাদার মাঝে থাকতে পারে। সে পরিবেশে হয়ত তিনি বড় হয়েছেন। আর নিতান্তই সালামটা না জানার এ দায় তিনি জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছেন।

আমাদের দেশের মানুষ সাধারণত স্পষ্ট করে ‘আসসালামু আলাইকুম‘ বলে। আর এটাই নিয়ম। একবারে অশিক্ষিত ও মুর্খ মানুষ যদি ভুল বলেই থাকে, তা নিতান্তই ভুল ও অজ্ঞতা। এটা যে কোন ভাষা বা বিষয়ের ক্ষেত্রে হতে পারে। আর তা কখনো গুরুত্বের সাথে বিবেচ্য নয়।

বিবিসি বলেছে, এই বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে তুমুল আলোচনা-বিতর্ক চলছে। আসলে আলোচনা ও বিতর্ক নয়, অজ্ঞতাপূর্ণ ও বিদ্বেষ প্রসূত বক্তব্যের বিরুদ্ধে গোটা জাতি ধিক্কার জানাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে বহিষ্কার করে সমাজে ঘৃণা ছড়ানোর জন্য আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি ওঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

মুসলমানরা কীভাবে পরস্পরকে সম্ভাষণ করেন মি. জিয়া তা জানেন না, এমনটি মনে করার কারণ নেই। এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কোন বিশেষ চক্রের হয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য তিনি এটি করে থাকতে পারেন। পৃথিবীর ৫৭টি মুসলিম দেশ এমনকি অনেক অমুসলিম দেশেও বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক মুসলমান এই সম্ভাষণ ব্যবহার করেন। আরব দেশ সহ সকল দেশের মুসলিম কুমিউনিটিতে ‘আসসালামু আলাইকুম‘ সম্ভাষণ ও বিদায়ের সময় মাআ’সসালাম বা আসসালামু আলাইকুম বলা হয়।

পবিত্র কুরআনের সুরা নুরের ২৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য কারও গৃহে তাদের অনুমতি না নিয়ে ও তাদেরকে সালাম না দিয়ে প্রবেশ করো না।’ সুরা নুরের ৬১ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে, তখন তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এ হবে আল্লাহর নিকট হতে কল্যাণময় ও পবিত্র অভিবাদন।’ সুরা নিসা‘র ৮৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয় (সালাম দেওয়া হয়), তখন তোমরা তা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন করবে অথবা অনুরূপ সম্ভাষণ জানাবে।’

ছহিহ বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ যখন আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন। তখন তাকে বললেন, ‘তুমি যাও ঐখানে ফেরেস্তাদের একটি দল বসে আছে, তাদেরে সালাম পেশ কর। আর ওরা তোমার সালামের কী জবাব দেয় তা মন দিয়ে শোনো। কেননা, এটাই হবে তোমার ও তোমার সন্তান-সন্ততির সালাম বিনিময়ের রীতি।’ তিনি (তাদের কাছে গিয়ে) বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম’, তারা উত্তরে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ’। অর্থাৎ তারা ‘ওয়ারাহমাতুল্লাহ’ শব্দটা বেশী বললেন।’

মুসলিম শরীফে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর যতক্ষণ না তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা গড়ে উঠবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি কাজ বলে দেব না, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালোবাসতে লাগবে? (তা হচ্ছে) তোমরা আপোসের মধ্যে সালাম প্রচার কর।’

মুসলমানদের এই সম্ভাষণ পৃথিবীর প্রথম প্রভাত থেকে শুরু হয়েছে। শত শত হাদীস রয়েছে এ বিষয়ে। হাজার হাজার বছর ধরে দুনিয়ার সকল প্রান্তে এর ব্যবহার ও প্রচলন আছে। সাহিত্য ও ইতিহাসে এসব এসেছে ব্যাপক ও বিস্তৃত ভাবে। কোন একজন গন্ডমুর্খ বললেই এটা ভিন্ন হয়ে যায় না। শুধু তার অন্ধত্ব বা বদমতলব প্রমানিত হয়।

‘আল্লাহ হাফেজ’ নিয়ে মি. জিয়ার বক্তব্য আরো হাস্যকর ও অজ্ঞতার পরিচায়ক বটে । ফারসি, উর্দু ও হিন্দী ভাষায় স্রষ্টার ক্ষেত্রে ‘খোদা’ শব্দের প্রয়োগ হয়। ফলে এই সব ভাষাভাষী সমাজে ‘আল্লাহ হাফেজ’ শব্দের স্থলে ‘খোদা হাফেজ ‘ এর ব্যবহার আছে। ভারত বর্ষের প্রায় সকল দেশে ফারসি, উর্দু ও হিন্দী শব্দ বাংলা সহ অন্যান্য ভাষায় ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হয়। ফলে উপ-মহাদেশে ‘আল্লাহ হাফেজ’ এবং ‘খোদা হাফেজ’ দুটি শব্দই প্রচলিত রয়েছে।

ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রযুক্তির পাশাপাশি শিক্ষার জগৎ এখন উন্মুক্ত। ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশে দেশে প্রান্তিক অঞ্চল পর্যন্ত শিক্ষার আলো পৌঁছে গেছে। শিক্ষার জন্য ইন্টারনেট এখন বিশ্বকে অবারিত করে দিয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন উৎস থেকে ভাষা ও প্রযুক্তি আহরণের সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে শক্তিশালী ভাষা সমূহ ব্যাপকতা লাভ করেছে। আরবী ও ইংরেজি ভাষা এক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়। এরই সুবাদে ইসলামী জ্ঞান অনুসন্ধানীরা উর্দু বা ফারসি ভাষার গ্রন্থের উপর নির্ভর না করে মূল আরবী গ্রন্থ থেকে ইসলাম জানার বা এর স্বাদ গ্রহনে সচেষ্ট হয়েছেন। ইসলামের মূল ভিত্তি কুরআন ও সহীহ হাদিস অনুযায়ী জীবন যাপনে অভ্যস্ত হতে চলেছেন। যে জ্ঞানের মাধ্যমে ইসলামের নির্ভেজাল বাণী ও বিশ্লেষন ব্যাপকতা লাভ করছে। ইসলামী জীবন চর্চা কুসংস্কার মুক্ত হচ্ছে।

শয়তানের দোসরদের কাছে এটাই গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরা জানে অন্ধকার যখন মানুষকে তার বেড়াজালে বন্দি করে নিয়েছিল, তখন পবিত্র কোরআন অবতির্ণ হয় মানবতার জন্য দিক-নির্দেশনা ও আলোকবর্তিকা হিসেবে। আল কোরআন শুধু হেদায়েতের বাণী নয়, ভ্রান্তি অপনোদনে শাণিত তলোয়ার। অপরাধ মূলোৎপাটন এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার পাথেয়। আল কোরআনই বিশ্ব মানবতার মুক্তি সনদ।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ওহীর প্রথম পাঁচটি আয়াত ছিল- পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্তপিন্ড থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।’ (সূরা আলাক্ব)। এই শিক্ষাই মূলত মানুষকে তার আলোয় আলোকিত করে। আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান সবই এর অন্তর্ভুক্ত। কোন কিছু বাদ দেয়া ইসলামের শিক্ষা নয়। কুরআনের প্রথম পাঁচটি আয়াতে সে দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন শাস্ত্রের অধ্যাপক রবার্ট বায়ের জোসেফ দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে ইসলাম – জ্ঞান বিজ্ঞানের ধর্ম, এটা তার অনুসারীদেরকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আমলের দ্বারা পাথেয় সংগ্রহ করতে সর্বদা আহবান করে। এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। কেননা আল কোরআনের সর্বপ্রথম আয়াতই হলোঃ পড়ুন আপনার রবের নামে‘।

ফরাসি বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক ড. মরিস বুকাইলী আল কোরআনের বৈজ্ঞানিক বিস্ময় নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন ‘আল কোরআনে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান সম্পর্কে অনেক আয়াত এসেছে, যা ডঃ ইউসুফ মারওয়াহ তার ‘আল কোরআনে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান‘ বইয়ে উল্লেখ করেছেন। নির্দিষ্টভাবে ৭৭৪টি আয়াতে কথা বলা যায়। এরমধ্যে রয়েছে গণিত ৬১, পদার্থবিদ্যা ২৬৪, অণু ৫, রসায়ণ ২৯, আপেক্ষিক বিজ্ঞান ৬২, জ্যোতির্বিজ্ঞান ১০০, আবহাওয়া ২০, জলজ ১৪, মহাকাশ বিজ্ঞান ১১, প্রাণিবিদ্যা ১২, কৃষিবিজ্ঞান ২১, জীববিজ্ঞান ৩৬, সাধারণ ভূগোল ৭৩, মানব প্রজনন ১০, ভূতত্ত্ব ২০, মহাবিশ্ব এবং মহাজাগতিক ঘটনার ইতিহাস ৩৬ টি আয়াত‘।

ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ট্যানলি লেন পল বলেছেন, ‘আগেকার দিনে এবং এখনও কিছু কিছু জায়গায় মসজিদ সমূহ হচ্ছে ইসলামের বিশ্ববিদ্যালয়। জ্ঞান পিপাসু ছাত্রদের দ্বারা শোরগোলে ভরপুর। তারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মীয়, শরিয়ত, দর্শন, চিকিৎসা, গণিত ইত্যাদি বিষয়ের জ্ঞান অন্বষণে উলামাদের পাঠদান শুনতে সমবেত হয়। বিশ্বের নানা প্রান্তর থেকে আরবীতে দক্ষ উলামাগন নিজেরাও পাঠদান করতে আসেন। দেশ ও জাতি নির্বিশেষে সকল ছাত্রদেরকেই স্বাগত জানানো হয়।

আশা করি অশিক্ষা ও কুশিক্ষার কুফল থেকে বেরিয়ে সত্যিকারের শিক্ষার আলোয় আমরা আলোকিত হব।

লেখক: সম্পাদক- সময় (অনলাইন দৈনিক), ইউকে বাংলা ডাইরেক্টরি, ইউকে এশিয়ান রেষ্টুরেন্ট ডাইরেক্টরি ও মুসলিম ইনডেক্স (ওয়ার্ল্ডওয়াইড)।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 196
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ