কবি ফররুখের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২০

কবি ফররুখের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
প্রভাতবেলা ডেস্ক♦ মুসলিম জাগরণের কবি, বাংলা জাগরণের কবি ফররুখ আহমদের ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন  ফররুখ আহমদ।১৯৩৭ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৩৯ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন তিনি। পরে স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন এবং ইংরেজি সাহিত্যে ভর্তি হলেও পরীক্ষা না দিয়েই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। ১৯৪৫ সালে মাসিক ‘মোহাম্মাদী’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও স্থায়ীভাবে চাকরি করতেন ঢাকা বেতারে। ১৯৪২ সালের নভেম্বরে খালাতো বোন সৈয়দা তৈয়বা খাতুন লিলিকে বিয়ে করেন তিনি।

সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও ফররুখ আহমদের কবি পরিচিত ছিল প্রধান। তার রচনায় ইসলামী ভাবধারার প্রভাব দেখা যায়।

এ ছাড়া আরবি ও ফারসি শব্দের প্রাচুর্য তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সাত সাগরের মাঝি, সিরাজুল মুনীর, নৌফেল ও হাতেম, মুহূর্তের কবিতা, পাখির বাসা, হাতেম তায়ী, নতুন লেখা, হরফের ছড়া, ছড়ার আসর ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য রচনা।

দেশের স্বনামধন্য এই কবি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

ফররুখ আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের কবি, গণমানুষের কবি ।  তার কবিতায় বাংলাভাষা ও বাংলাদেশের মানুষের জীবনচিত্র অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে। তার কবিতায় তিনি তুলে এনেছেন বাংলার শেকড় ও সংস্কৃতি। তিনি ছিলেন বাংলা কাব্য-সাহিত্যের এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। আমাদের সাহিত্য-ইতিহাসের স্বল্পালোচিত ব্যক্তিদের অন্যতম।  বাংলা কাব্যে তাঁর আসন তর্কাতীতভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। নজরুলের মতই বাংলা কাব্যগগণে তাঁর আবির্ভাব ছিল ধূমকেতুর মত।
কবি ফররুখ ছিলেন গণজাগরণের কবি। তিনি মানুষের মধ্যে চেতনাবোধ তৈরি করে গেছেন। স্বাধীনতা, সাম্য ও মুক্তির চেতনা। আজকে কবিদের মধ্যে সেই জাগরণ নেই। দেশের মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা নেই। চলাফেরার স্বাধীনতা নেই। কিন্তু কবি-সাহিত্যিকেরা নীরবতা পালন করছেন। ফররুখ বেঁচে থাকলে অবশ্যই জাগরণের কথা বলতেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 12
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ