কবি বাসিত মুহাম্মাদের মৃত্যুঃ কিছু প্রশ্ন,কিছু স্মৃতি

প্রকাশিত: ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০২০

কবি বাসিত মুহাম্মাদের মৃত্যুঃ কিছু প্রশ্ন,কিছু স্মৃতি
কবি বাসিত মুহাম্মাদের মৃত্যুঃ কিছু প্রশ্ন,কিছু স্মৃতি ♦ আ.স,ম হোসাইন, লন্ডন♦ মানব সৃষ্ট মরণ ফাঁদে পড়ে কবি আব্দুল বাসিত মুহাম্মাদের করুন মৃত্যু । সিলেটের সাহিত্যাঙ্গনের প্রিয় মুখ কবি আব্দুল বাসিত মুহাম্মাদ আর আমাদের মাঝে নেই , এটাই আজ সত্য ও বাস্তব । সদা হাস্যোজ্জ্বল প্রাণবন্ত এ মানুষটি  চলে গেলেন পরপারে । কবি বাসিত মুহাম্মাদের মৃত্যুতে হৃদয়কে তাড়িত করে কিছু প্রশ্ন,কিছু স্মৃতি।
মানব সৃষ্ট মরণ ফাঁদে পড়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু বরণ করতে হল মানুষ গড়ার কারিগর এ শিক্ষক নেতাকে । সিলেট শহরের আম্বরখানায় সড়কে নির্মাণাধীন ড্রেনে পড়ে গেলে লোহার রড পেটের ভিতরে ঢুকে যায় । চিকিৎসকদের রাতব্যাপী প্রচেষ্টার পর ও তাকে বাঁচানো যায়নি । বৃহস্পতিবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।এ যেন পবিত্র কোরানের সেই ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন – ”কেউই জানে না আগামীকাল তার জন্যে কী অপেক্ষা করছে এবং কেউ জানে না কোথায় তার মৃত্যু হবে। শুধু আল্লাহই সর্বজ্ঞ, সব বিষয়ে অবহিত’’ ( সূরা লোকমান-আয়াত ৩৪) ।
আব্দুল বাসিত মুহাম্মাদ কি জানতেন তার ষাট বছরের চির চেনা আম্বরখানা পয়েন্ট পার হয়ে চৌকিদিকির বাসায় যেতে পারবেননা , কিন্তু বাস্তবে তা ই হলো । জীবিত ঘরে ফেরা হলোনা তার ।  আগে দেখতাম রাস্তায় কোথাও গর্ত হলে একটা লাটি বা বাশ ঘেড়ে পথিকদের সতর্ক করা হতো । কিন্তু আধুনিক ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এ যুগে নির্মাধীন ড্রেন কেমনে উন্মুক্ত থাকে ? তাও নগরীর ব্যাস্ততম একটি মোড়ে !
আব্দুল বাসিত মুহাম্মাদ এর সাথে আমার পরিচয় নব্বই দশকের প্রথম দিকে , তখন আমি এম সি কলেজে বাংলা অনার্সে পড়ি আর টুক- টাক লেখা -লেখি করি । একদিন সিলেটের স্থানীয় এক পত্রিকা অফিসে তার সাথে পরিচয় । কিছুদিন পরে আমি একটি জাতীয় দৈনিকের সিলেট অফিসে যোগদান করলে প্রায়ই দেখতাম তিনি শিক্ষক সমিতির প্রেস বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ওই অফিসে আসতেন । মাঝে মধ্যে কবিতা -ছড়া ও দিয়ে যেতেন ।
কথা প্রসঙ্গে একদিন ব্যক্তিগত পরিচয় পেয়ে বলেলেন – তুমি তো আমার নাতি । সম্পর্কে ছিলেন আমার এক মামার মামা শশুর । সেই থেকে তিনি আমার নানা ভাই । পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় ঢাকায় আমার অফিসে আসতেন দাপ্তরিক কাজে । নানা – নাতির মধ্যে কত হাস্যরস ,দেন দরবার আর আড্ডা হতো । আমার সাথে বয়সের বিরাট ফারাক ছিল কিন্তু তার প্রাণ খোলা উচ্ছাস আর আমোদ -ফুর্তির কাছে বয়সের ব্যবধান হারিয়ে যেত ।
৩/৪ বছর আগে তার বাসায় গিয়ে ছিলাম ,কত খোশ -গল্প হয়েছে । মাত্র পনের দিন আগে ও ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে রসালো ম্যাসেজ পাঠিয়েছেন , আমি ও মজা করে উত্তর দিয়েছি । ভাবছিলাম দেশে গেলে আবারো জমিয়ে আড্ডা দিবো ,কিন্তু তাতো আর হবেনা ।
মৃত্যু চির সত্য কিন্তু তার এ করুন মৃত্যু অপ্রত্যাশিত , অনাকাঙ্খিত । তার মৃত্যর পর দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণী -পেশার মানুষের আহাজারি , আর্তনাদ ,শোক ও স্মৃতিচারণ দেখে মনে হলো তিনি শুধু আমার বা আমাদের ই কাছের মানুষ ছিলেননা , তিনি ছিলেন বহু জনের আপনজন । পেশায় ছিলেন শিক্ষক কিন্তু নেশায় ছিলেন লেখক।  তার লেখনি নবীন -প্রবীণ সকলের কাছে ছিল সমাদৃত । তার লেখা পাঠক প্রিয় ”মাইজি ঘুমন্ত সুন্দর ” বইটি মাতৃভক্তির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ ।
সামাজিকভাবে তিনি ছিলেন পরোপকারী ও সমাজ হিতৈষী । ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও পেশাজীবী নেতা । নিরীহ ও বঞ্চিত শিক্ষক – শিক্ষিকাদের আশ্রয়স্থল ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করায় তার হাজার -হাজার ছাত্র -ছাত্রী ছড়িয়ে আছেন দেশ –বিদেশে । মন মানসিকতায় আধুনিক আর চিন্তা -চেতনায় প্রগতিশীল হলেও ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন খুবই ধার্মিক ।  আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন তাকে ক্ষমা করে পরকালে শান্তিতে রাখেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসে জায়গা দেন । আমিন।
আ.স.ম হোসাইন, লন্ডন প্রবাসী , সংগঠক ও সাংবাদিক।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ সংবাদ