কিশোর গ্যাং একটি বড় সমস্যা: আইজিপি

প্রকাশিত: ৩:৪০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২১

কিশোর গ্যাং একটি বড় সমস্যা: আইজিপি

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

বর্তমানে কিশোর গ্যাং একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দপ্তরে ‘র‌্যাব সেবা সপ্তাহ’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘দরিদ্র মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সহায়তা প্রদান’ অনুষ্ঠান তিনি এই মন্তব্য করেন।

আইজিপি বলেন, ‘আমরা চাই না তারা ড্রাগ (মাদক) নিয়ে নষ্ট হয়ে যাক। বিষয়গুলোর প্রতি পরিবারের সদস্যদের সচেতন হতে হবে। এটা আপনাদের দায়িত্ব। না নিতে পাড়লে সন্তান কেন জন্ম দিয়েছেন? এই দায়িত্ব পরিবারকে নিতেই হবে।’

পুলিশপ্রধান বলেন, ‘কলাবাগানের ঘটনাটি দেখেন, সেখানে ধর্ষণ হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রাইম (অপরাধ)। কিন্তু দুজনই শিশু।’

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা যেন আইনের আধুনিকায়ন করতে গিয়ে জটিলতা তৈরি না করি। পত্রিকার পাতা খুললেই কিশোর গ্যাং। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক শিশুদের হেফাজতে নিতে হলে নানা ধরনের নিয়ম রয়েছে। তাদের বিচার শিশু আদালতে করতে হবে। আমাদের দেশে কয়টি শিশু আদালত রয়েছে? শিশুদের ধরে আনলে রাখতে হবে সংশোধনাগারে। কিন্তু সংশোধনাগার কয়টি আছে? এগুলো নেই তবে কি আমরা কিশোর গ্যাং ও শিশু অপরাধীদের গ্রেপ্তার করবো না? শিশু আদালত নেই তাতের কি বিচার হবে না? হবে, সবকিছুই করতে হবে। তবে শিশুদের সচেতনতার জন্য পরিবারকে দায়িত্ব নিতে হবে।’

আইজিপি বলেন, ‘দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সবাই মিলে এই করোনা মহামারির বিরুদ্ধে এক হয়ে যুদ্ধ করার কারণে বিশ্বে করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ ২০তম অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শুধু করোনা মহামারির বিরুদ্ধে সাফল্য অর্জন করিনি, আমরা অর্থনৈতিক দিক থেকেও সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এজন্য জিডিপিতে সাম্প্রতি আমরা ভারতকে টপকে গেছি।’

ড. আহমেদ বলেন, ‘মূলত দেশটা আমাদের, আমরা নবীন জাতি, আর এই নবীন জাতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিকে থেকে এগিয়ে যাচ্ছি, তার পেছনে দেশবাসীর দৃঢ় সমর্থন রয়েছে। বাংলাদেশের অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এ দেশের মানুষের ভাষা এক, এ দেশের সকল মানুষ দেখতে এক রকম, গায়ের রঙ, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ এক সে কারণে হোমোজিনিয়াস এক থাকার কারণে সংঘবদ্ধ ঘটাতে সহয়তা করে৷ আমরা চাই না ‘সেবা সপ্তাহ’ শুধু সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকুক। আমাদের প্রতিটি দিন, মাস, বছর হবে সেবা সপ্তাহ। এভাবে আমরা দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সেবার ব্রতী নিয়ে কাজ করতে চাই। আমাদের যে দায়বদ্ধতা আছে তা প্রতিপালনের মধ্য দিয়ে সম্মানসূচক জাতি হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করতে চাই।’

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘করোনার মধ্যেই জীবন বাজি রেখে র‌্যাব নকল মাস্কের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে, ভুয়া করোনা টেস্টিং কিটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করায় প্রত্যককে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে থেকে অভিনন্দন জানাই। আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গতি আছে তা যদি আমরা ধরে রাখতে পারি এবং বেগবান করতে পারি তাহলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আগামী পাঁচ থেকে ছয় বছরের মধ্যে কোনো দরিদ্র এদেশে থাকবে না। দরিদ্রতা দূরীকরণে আমরা যেভাবে কাজ করছি, তা বেগবান করতে হবে।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 7
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ