“পুরো দেশই আজ বৃহৎ কারাগার”- ডা: শফিকুর রহমান

প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২৪

“পুরো দেশই আজ বৃহৎ কারাগার”- ডা: শফিকুর রহমান
প্রভাতবেলা ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশ জাতি আজ গভীর সংকটে। ৫৬ হাজারের বর্গমাইলের পুরো বাংলাদেশ আজ বৃহৎ কারাগার। তবুও জেল নামক কারাগারে মানুষের থাকার একটা নির্দিষ্ট জায়গা থেকে। কিন্তু বিরোধী মতের মানুষের জন্য সেই জায়গাটুকুও অবশিষ্ট নেই। গত ১৫ বছরে আমাকে ২৫০ থেকে ৩০০ জায়গায় রাত্রীযাপন করতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতি শুধু আমার নয়, দেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের। দেশে লুটপাট-দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। শুধু বাজার নয়, গোটা দেশ আজ সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। এভাবে কোন দেশ চলতে পারেনা। এ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে দেশপ্রেমিক জনতার ইস্পাত কঠিন ঐক্যের বিকল্প নেই।

 

তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারী দেশে কোন নির্বাচন হয়নি। ভোটের নামে নিজদল সহ বিভিন্ন দলের কিছু প্রার্থীকে তুলে এনে নির্বাচন করতে বাধ্য করা হয়েছে। কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। কাউকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম রেশনের মাধ্যমে বিরোধী দল গঠন করা হয়েছে। এটা আমাদের কথা নয়, সেই বিরোধী দলের নেতাদের কথা। নির্বাচনের নামে এমন প্রহসন চালিয়ে দেশের হাজার কোটি টাকা নষ্ট করার কোন দরকার নেই। কিছু মানুষকে নির্দিষ্ট করে তারা সরকার পরিচালনা করবে এমন ঘোষণা দিলেই চলে। তারা দেশের ভোট ব্যবস্থাকে একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছে। নতুন প্রজন্ম তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেনা। তারা ১৪ তে বিনাভোটে সরকার গঠন করেছে। ১৮তে মধ্য রাতের ভোটে এবং ২০২৪ সালে ভাগাভাগির নির্বাচন করেছে। এমন ফ্যাসিস্ট সরকার বার বার ক্ষমতায় আসার পেছনে আমাদেরও দায় কম নয়। দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস তৈরীর মাধ্যমে বিভক্তির দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীর পথচলা নির্ধারণ করতে হবে। ক্ষুদ্র স্বার্থ পরিহার করে দেশপ্রেমিক জনতা ও দলের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সর্বোপরি সত্যিকারের মুক্তির জন্য কুরআনের সমাজ বিনির্মাণের বিকল্প নেই। সকল জুলুম-নিপীড়ন উপেক্ষা করে আমাদের পথচলা অব্যাহত থাকবেই ইনশাআল্লাহ।

 

তিনি বলেন, মাহে রমজান হচ্ছে মানবতার মুক্তি সনদ মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিলের মাস। এই মাসে নিজেদেরকে পরিপূর্ণ মুত্তাকী হিসেবে গড়ে তোলার শপথ নিতে হবে। এই মাসে কুরআন হাদীসের আলোকে জীবন পরিচালনার পাশাপাশি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে কাজ করতে হবে। কুরআনের বিজয়ের মাস মাহে রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ঐক্য অটুট রেখে এদেশে ইসলামী জাগরন তৈরীর সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।তিনি শুক্রবার সিলেট মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে সাংবাদিক, পেশাজীবি, বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ ও রাজনীতিবিদদের সম্মানে অনুষ্ঠিত মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

আরও পড়ুন  একটি মৃত্যুও আমাদের কাম্য নয় : প্রধানমন্ত্রী

 

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলটি একটি মিলন মেলায় পরিণত হয়। মাহফিলে বিশিষ্ট আইনজীবি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক, সিলেটে কর্মরত ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদ কর্মী, কবি, সাহিত্যিক, চিকিৎসক এর পাশাপাশি সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মাহফিলে দেশ-জাতির মঙ্গল ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের মুক্তি-সুস্থতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন শায়খ ইসহাক আল মাদানী।

 

মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ারের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সুচীত মাহফিলের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা সোহেল আহমদ। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শাহরিয়ার হোসাইন রাজী।মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

 

বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ফজলুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় উপদেষ্ঠা ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান, শিক্ষাবিদ লে. কর্ণেল (অব.) সৈয়দ আলী আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, সিলেট জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, জেলা উত্তরের আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান, সিলেট চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সভাপতি শরীফ মাহমুদ।

 

মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাবেক সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান তাপাদার, লেবারপার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, ইসলামী চিন্তাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল সালাম আল মাদানী, জেলা উত্তরের নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, জেলা দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারী মো: নজরুল ইসলাম, জেলা উত্তরের সেক্রেটারী মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, সিলেট জেলা বারের সিনিয়র আইনজীব এডভোকেট আলিম উদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক এনামুল হক জুবের, আবদুল কাদের তাপাদার, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, আমজাদ হোসেন, নিজাম উদ্দিন সালেহ, কবীর আহমদ সোহেল, মুহিব আলী, কবির আহমদ, সিটি কাউন্সিলার আব্দুল জলিল নজরুল, কাউন্সিলার সায়ীদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, এডভোকেট সুফী আলম সোহেল চেয়ারম্যান, প্রভাষক জাহিদ হোসেন চেয়ারম্যান, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাই জিহাদী, সিলেট মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব ও ড. নুরুল ইসলাম বাবুল প্রমূখ।

আরও পড়ুন  ২৫ সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশ ও জাতি চরম ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছে। জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের ন্যয় চেপে বসা স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে। রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সমাজের সকল স্তরে ন্যায় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার শপথ নিতে হবে।

 

মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, রক্ত নদী পেরিয়ে, মৃত্যুর পথ মাড়িয়ে শাহাদাতের নজরানা পেশ করে জামায়াত বাংলার জমিনে কুরআনের সমাজ বিনির্মাণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশ আজ গভীর সংকটে। এ থেকে মুক্তির জন্য দ্বিধাবিভক্ত জাতিকে জামায়াতের পতাকাতলে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। রমজান হচ্ছে বদরের মাস, কদরের মাস। এই মাসে ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের শপথ নিতে হবে। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার শপথ নিতে হবে। বাংলার জমিনকে কুরআনের রঙ্গে রঙ্গিন না করা পর্যন্ত আমাদের পথচলা থামিয়ে দেয়ার সাধ্য কারো নেই।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন- পবিত্র মাহে রমজান হচ্ছে কুরআন নাজিলের মাস। এই পবিত্র মাসে ইসলামের প্রাথমিক এবং চুড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত হয়েছিল। তাই আত্মশুদ্ধির মাস মাহে রমজান থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় শপথ নিতে হবে। সকল জুলুম নিপীড়ন উপেক্ষা সত্য ও ন্যায়ের পথে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

সর্বশেষ সংবাদ