ফেঁসে যাচ্ছেন কাউন্সিলর কাকলি

প্রকাশিত: ৪:০৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

ফেঁসে যাচ্ছেন কাউন্সিলর কাকলি
 কাউন্সিলর কাকলি ফেঁসে যাচ্ছেন ।  ভূয়া তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে শ্রম দপ্তরে অভিযোগ।
মীর আমান মিয়া লুমান, ছাতক♦ সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকলির বিরুদ্ধে ক্ষমতাবলে এলাকায় চাদাঁবাজীর মাধ্যমে ড্রাইবার শ্রমিকদের সংগঠনের কাছ থেকে ৬২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও ভূয়া তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে সিলেট আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর শিববাড়ি উপ-কমিটির সদস্য রাসেল মিয়া, বিপ্লব চন্দ্র পাল ও আকবর বাদী হয়ে এ অভিযোগ করেন। লুটপাট আত্নসাতের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে ভুয়া তদন্ত কমিটি গঠন করে শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারনা, চাঁদাবাজ চত্রেুর বিরুদ্ধে আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবীতে সিলেট আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। এ ঘটনায় জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। ২টি চাদাবাজীর মামলা ও শ্রমিকদের অভিযোগের ঘটনায় মহিলা কাউন্সিলর কাকলি ফেঁসে যাচ্ছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকসা মিশুক ড্রাইভার্স ইউনিয়ন (রেজিনং- চট্ট-১৯২৬) এর আওতাধীন ছাতক পৌর শহরের শিববাড়ি উপ-কমিটি ২০১৯-২০২০ সালে ২বছর সভাপতি রজব আলী ও সাধারন সম্পাদক জালাল উদ্দিন শান্তসহ ১১সদস্য কার্য-নিবাহী কমিটির মাধ্যমে উপ-কমিটির পরিচালনা করেছেন। এ কমিটি শ্রমিকদের কল্যাণ ফান্ডের হিসাব না দেয়ার জন্য সাধারন শ্রমিকরা দফায় দফায় প্রতিবাদ করে। জেলা কমিটির কাছে অভিযোগ করা হলে সংগঠনের আয়-ব্যয়ের হিসার উদ্ধার করে, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আয়-ব্যয় হিসাব ও নির্বাচন না দিয়ে জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি মছন মিয়া, সাবেক সহ-সভাপতি সুন্দর আলী এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আল-আমিন কালাসহ সদস্যরা নানা তালবাহানা শুরু করেন শ্রমিকদের সঙ্গে। তারা সংগঠনের আয়-ব্যয় হিসাব ও নির্বাচনের মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধান না করায় রহস্যজনক বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন।

জেলা কমিটি ছাতক শিববাড়ি শাখার সংগঠনের জটিল অভিযোগ সুষ্ঠ সমাধান না করে উপ-কমিটির শ্রমিকদের প্রতিবাদ বন্ধ করতে বিভিন্ন কৌশলে তড়িগড়ি শ্রমিকদের না জানিয়ে উপ-কমিটির সভাপতি রজব আলী ও সাধারন সম্পাদক জালাল উদ্দিন শান্তসহ তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে জন্য মহিলা কাউন্সিলর কাকলির প্রধান সহযোগী তার মামা আজিম উদ্দিনকে সভাপতি ও তার আপন ভাই ইমদাদুল হক খোকনকে কোষাধক্ষ্য করে ১২সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন মহিলা কাউন্সিলর কাকলি। এ শাখার ৫জন উপদেষ্টার মধ্যে মহিলা কাউন্সিলর কাকলি প্রধান উপদেষ্টা সেজে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শ্রমিক সংগঠনের ৬২লাখ টাকা আত্নসাত করেছে মামা-ভাগনি মিলেই।

গত ১১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকসা মিশুক ড্রাইভার্স ইউনিয়ন (রেজিনং চট্ট-১৯২৬) এর কোষাধক্ষ্য মো. আল আমিন মিয়া, কমিটির সদস্য মো. আপেল মাহমুদ, মো. জামাল উদ্দিন ও মো. চান মিয়াসহ ৫সদস্য ভূয়া তদন্ত কমিটি ও ভূয়া পরিচয় দিয়ে ছাতক শিববাড়ি উপ-কমিটির স্ট্যান্ডের অফিস কার্য্যালয়ে আসেন। জেলা কমিটির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তদন্তের নামে যে প্রতারনামুলক কর্মকান্ড করেছেন তা দুঃখজনক ও বেআইনী। ওরা একদল প্রতারক ও চাদাবাজচক্র মহিলা কাউন্সিলর কাকলির সহযোগী অবৈধ মোটা অংকের টাকার অংশীদার।

সাবেক সভাপতি মছন মিয়া, সাবেক সহ-সভাপতি সুন্দর আলী এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আল-আমিন কালাসহ এ কমিটির কতিপয় ব্যক্তিরা বার বার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষা না করে শিববাড়ি উপ-কমিটির আয়-ব্যয় ও নির্বাচন না দিয়ে প্রতারনা করেছে শ্রমিকদের সঙ্গে। তারা পত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে শ্রম আইন পরিপন্থি ও লঙ্গন করে শিববাড়ি উপ-কমিটির ষ্ট্যান্ডের এসে কাকলির সঙ্গে গোপনে হাত মিলে শ্রমিকদের সাথে জেলা কমিটির নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারনা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়।

সরেজমিনে জানাযায়, যাহা বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী সড়ক পরিবহন শ্রমিক বা অনুমোদিত শ্রমিক ইউনিয়ন ব্যতিত পরিবহন শ্রমিকের কোন জনপ্রতিনিধির কমিটি অনুমোদন দেয়ার ক্ষমতা নেই। কিন্তু শিববাড়ী ষ্ট্যান্ডে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মহিলা কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকলী শ্রম আইন বহির্ভূতভাবে তার স্বজনদের অন্তর্ভূক্ত করে একটি অবৈধ কমিটি অনুমোদন করে দেন।

গত ২৬ আগস্ট ঐ মহিলা কাউন্সিলর কাকলি ও তার স্বামী মাছুম আহমদসহ চারজনকে আসামী করে পৌরসভার অফিস সহায়ক দীপ্ত বণিক বাদী হয়ে বিতর্কিত মহিলা কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকলিকে প্রধান আসামী করে তার স্বামী মাছুম আহমদ, নোমান এমদাদ কানন ও কার্জনসহ ৪ জনের নামে ছাতক থানায় মামলা দায়ের করেন।
গত ৬ সেপ্টেম্বর নারী কাউন্সিলর কাকলি ও তার স্বামী মাছুম আহমদ, নোমান এমদাদ কানন ও কার্জনসহ ৪কে অভিযুক্ত করে দ্রুত বিচার আইনের ২০০২ সালের সংশোধনী ২০১৯ সালের ৪/৫ ধারায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাদাবাজীর মামলায় ৪জনকে অভিযুক্ত করে সুনামগঞ্জ আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছে পুলিশ।

সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছাতক-সুনামগঞ্জ আদালতে গত ৮ সেপ্টেম্বর ইজিবাইক স্ট্যান্ড ছাতকে ম্যানেজার আতিকুল মিয়া বাদী হয়ে মহিলা কাউন্সিলর কাকলিকে প্রধান আসামী করে ৪ জনের বিরুদ্ধে সি আর মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে সিলেট আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক নাম না প্রকাশ করার শর্তে অভিযোগ প্রাপ্তির এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন তদন্তপুর্বক আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়া হবে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    10
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ