বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ লাখ মানুষ

প্রকাশিত: ৩:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ লাখ মানুষ

 

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

 

বিভিন্ন জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৩ লক্ষাধিক মানুষ। এরমধ্যে শুধু জামালপুরের সাত উপজেলায় ৪৭টি ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা তিন লাখ ৭৩ হাজার ২৫৫ জন। গতকাল শুক্রবার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।

 

বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী- রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, শরিয়তপুর, ফরিদপুর ও ঢাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে বন্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পরে। যমুনা, ব্রক্ষ্মপুত্রের পানি হ্রাস অব্যাহত থাকবে। তবে গঙ্গা-পদ্মা নদী সমূহের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। আগামীকাল রবিবার ও সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত আরো বাড়তে পারে।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের হিসাবে- গাইবান্ধা সদরসহ পাঁচ উপজেলায় ১ লাখ ২২ হাজার, সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় ১ লাখ ৫৯ হাজার, সুনামগঞ্জের সব উপজেলায় মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার, বগুড়ার ধুনট, সারিয়াকান্দি, সোনাতলায় সাড়ে ৭৬ হাজার, সিলেট সদরসহ ছয় উপজেলায় ১ লাখ সাড়ে ৫৫ হাজার, টাঙ্গাইল সদরসহ ছয় উপজেলায় ১ লাখ সাড়ে ২৪ হাজার, কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় প্রায় ৬২ হাজার, লালমনিরহাট সদরসহ চার উপজেলায় সাড়ে ৪৮ হাজারেরও বেশি মানুষ ইতিমধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

এদিকে গত কয়েকদিন ধরে ভারী বর্ষণ ও ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর পানি আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত থেকে পানি বাড়তে থাকায় উপজেলার ৭ ইউনিয়নের তিস্তার চরাঞ্চলের প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আজ দুপুর ১২টার দিকে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে যমুনার পানি ১৬ সেন্টিমিটার কমে বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অপরদিকে ব্রহ্মপুত্রসহ শাখা নদ-নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। জামালপুর জেলায় বন্যা দুর্গতদের ৫৩৪ মেট্রিক টন চাল, নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা এবং ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

 

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি কমতে শুরু করলেও গত দুদিন থেকে তিস্তার পানি বেড়েই চলেছে। কিন্তু তারপরও আজ ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘটের পানি বিপদসীমার ওপরে থাকায় বানভাসী মানুষের বাড়ি ঘর থেকে পানি এখনও নামতে শুরু করেনি। তাই লোকজন এখনও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র, বাঁধ ও সড়ক থেকে বাড়ি ফিরতে পারেনি। এইসব বাঁধ ও সড়কে আশ্রিতরা বিশুদ্ধ পানি এবং খাবার সংকটসহ নানা দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। আজ শনিবার ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর তিস্তার পানি ১৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

 

প্রভাতবেলা/এমএ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ