ভেস্তে গেল ‘বেস্ট-ই’!

প্রকাশিত: ৪:১৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২২

ভেস্তে গেল ‘বেস্ট-ই’!
ভেস্তে গেল ‘বেস্ট-ই’!
রাজনীতিবিদ অথবা কূটনৈতিক, তাঁদের বলা কথার অনেক মূল্য। প্রয়াত রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এ ক্ষেত্রে ছিলেন প্রবাদপ্রসিদ্ধ। তাঁর বলা কথা বা উক্তি রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিত। কথার সূত্র ধরে কিংবা শব্দ নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাও হয়েছে। আমিও করেছি। যেমন, হাওরে ‘ওয়াটারলর্ড’।
মনে আছে সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত আবুল মাল আবদুল মুহিতের কথা। তাঁর উক্তি বা বলা কথা তীর্যক ও তীক্ষ্মধী ছিল। কথা ঝড় তুলতো। পদ্মাসেতুর অর্থায়ন ফিরিয়ে নেওয়ায় বিশ্ব ব্যাংককে ‘বোগাস ব্যাংক’ বলেছিলেন। দুর্নীতির আগাম অভিযোগ বোগাস ছিল, তার প্রমাণ দেরিতে হলেও মিলেছে। তাঁর আরও অনেক কথা শব্দবান হয়ে ছড়িয়ে আছে।
একবার সিলেটে ছাত্র রাজনীতির অবৈধ প্রভাব বিস্তার দেখে রেগেমেগে ‘বদমাশ ছাত্রনেতা’ বলেছিলেন। এই ‘বদমাশ’ তালাশে ধারাবাহিক কয়েকটি রিপোর্ট করি। অনেকটা কৈর তেল দিয়ে কৈ ভাজার মতো। সমানে ঘায়েল ছাত্রলীগ-ছাত্রদল। এতে করে ক্ষমতাসীন দলের কিছু লোক তাঁর কাছে যাওয়ার মওকা পেল। ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তাঁকে দিয়ে তাঁর বলা কথা প্রত্যাহার করার আবদার রাখল। কিন্তু তিনি নাছোড়, বলা কথা থেকে একচুল সরতে নারাজ। সরেননি। সাফ বলে দিয়েছিলেন, যা বলেছি, বলেছিই। কথা থেকে সরব কেন?
বলা কথায় অবিচল থাকার উত্তরাধিকারদের একজন এখন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। কথা বা উক্তির পক্ষবিপক্ষ না, বিষয় হচ্ছে, বলা কথায় দৃঢ় থাকা। বিশ্ব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তাঁর দীর্ঘ বক্তব্য থেকে ছোঁ মেরে একটি শব্দ আলগা করায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তো কথার মাঝখান থেকে ‘বেহেশত’ শব্দ নিয়ে জব্দ করার খেল্ চলে। খেলায় পটু একটি পক্ষ বেশ তৎপর হয়। রাজনীতির হিংটিংছটে দেখা গেল, সবার আগে সাংবাদিকদের নাস্তানাবুদ করতে হাজির ‘বেস্ট’ শব্দ। তৈরি করা হয় শোনা না-শোনার ধন্দ, তর্ক-‘বেহেশত না বেস্ট-ই’! তাতে জল ঘোলা হচ্ছিলও বেশ!
কথায় কথা বাড়ে। বিষয়টি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে দিতে চাইলে তিনি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভাষায় ‘জাস্ট ইগনোর ইট’ বলেছেন। পরদিন অবশ্য সাংবাদিকদের প্রশ্নে প্রকাশ পেল বলা কথায় অবিচল থাকার বিষয়টি। ‘হ্যাঁ বেহেশত বলেছি’ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে উষ্মা ছিল, পুরো বক্তব্য একটি শব্দ দিয়ে কথা উল্টিয়ে দেওয়ায়।
দিন গেলেও কথা থাকে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বলা কথায় অনেকের দ্বিমত থাকতেই পারে। বলা হচ্ছে, বিশ্ব মন্দা মোকাবিলার প্রাবল্যে তুলনামূলক সুখী নির্ণয় স্বস্তির নয়, অস্বস্তির। মাথাপিছু আয় বাড়ার বেড়াজালে মতদ্বিমতে না গিয়ে যারা ‘বেহেশত’কে ‘বেস্ট-ই’ বানানোর ফন্দি করছিলেন, তাদের আশা ছিল তর্ক জিইয়ে রেখে নিজেকে জাহির করা। গোত্রদের গাত্রে দাহ সৃষ্টির। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বলা কথায় অবিচল থাকায় আপাতত ভেস্তে গেল সে আশা!
কূটচাল কুপোকাত হলে কবিদের কবিতায় মুখ ঢাকতে ইচ্ছে করে। অপ্রাসঙ্গিক হলেও জয় গোস্বামীর কবিতায় ভর করছি! ‘যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল’র মতো করে বলছি, যারা তর্কের জাল বুনেছিল, তারা এখন কী করবে?
কী আর করা! তাদের আসলে দিনকয়েক রেস্টে থাকা বেস্ট-ই!
উজ্জল মেহেদী, গবেষক, সাংবাদিক।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ