মাবিয়া’র ১০৭ কোটি টাকা খেলাপি||এমডি ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০২১

মাবিয়া’র ১০৭ কোটি টাকা খেলাপি||এমডি ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রাম ‍ব্যুরো:  মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ১০৭ কোটি টাকা খেলাপি চট্টগ্রামের মাবিয়া গ্রুপের মালিক ও তার স্ত্রীর দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ।  সীতাকুন্ডের মাবিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম  ও তার স্ত্রী গ্রুপটির চেয়ারম্যান ফাতেমা বেগম মিলির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০৭ কোটি টাকার ঋণখেলাপি মামলায় গতকাল তাদের দেশত্যাগে এ নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। অর্থঋণ আদালতের সেরেস্তাদার মোহাম্মদ মুক্তাদির মাওলা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (৩ নভেম্বর) চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন।

 

জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন মাবিয়া গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জিলানী ট্রেডার্স, মাবিয়া শিপ ব্রেকার্স, মাবিয়া স্টিল কমপ্লেক্স, ব্রাদার্স ইস্পাত ইন্ডাস্ট্রিজ, এফএমএস ইস্পাত শিপ ব্রেকিং, আলী স্টিল এন্টারপ্রাইজ, খাজা আজমীর করপোরেশন এবং ফাহিম স্টিল রিং রোলিং মিলস ছাড়াও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।

 

জানা গেছে, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড মাদাম বিবিরহাট শাখা থেকে মাবিয়া গ্রুপের নেওয়া ১০৭ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার ৬২৬ টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ে ২০১৭ সালে একটি মামলা করা হয়। চার বছর পর বুধবার (৩ নভেম্বর) মাবিয়া গ্রুপের কর্ণধার জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম মিলির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে ব্যাংকটির পক্ষে আবেদন করেন আইনজীবী জাহিদুল করিম। আদালত শুনানি শেষে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

 

দেশের স্থল, নৌ ও বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন দিয়ে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী যাতে পালাতে না পারেন সে জন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশটি দেওয়া হয়। জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের কদমরসুল এলাকায়। জানা গেছে, মার্কেন্টাইল ব্যাংকই শুধু নয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের আগ্রাবাদ শাখা থেকেও মাবিয়া গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফাহিম স্টিল রি-রোলিং মিলস, মাবিয়া স্টিল কমপ্লেক্স এবং ব্রাদার্স ইস্পাত ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেওয়া হয়।

এর মধ্যে ফাহিম স্টিল রি-রোলিং মিলসের কাছেই ফার্স্ট ফাইন্যান্সের সুদাসলে খেলাপি পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৬৭ লাখ ২২ হাজার টাকা। ঋণের টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে ফার্স্ট ফাইন্যান্স। অন্যদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি মাবিয়া স্টিল কমপ্লেক্স থেকে পাবে ১৩ কোটি ৪৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং ব্রাদার্স ইস্পাত ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে পাবে ২১ কোটি ১৫ লাখ ১১ হাজার টাকা।

এছাড়া বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, এবি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, , সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক অন্তত ৭০০ কোটি টাকা পাওনা রহিয়াছে মাবিয়া গ্রুপের কাছ থেকে।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    13
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ