সিলেট ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬
আহমদ মারুফ ::
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনও উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংখ্যা হিসেবে যা ১ হাজার ৫শ। এর মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার হওয়া বিশেষ ধরনের ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেড, এসএমজি, এলএমজি ও এসএমটির মতো আগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে। যেগুলো অপরাধীদের কাছে চলে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। নির্বাচনের আগে এই অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারলে নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।
পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লুটের অস্ত্রসহ অবৈধ সকল অস্ত্র উদ্ধারে তারা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু নির্বাচনের আর মাত্র অল্প কয়েকদিন বাকি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, গত দেড় বছরে যেসব অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি, এই অল্প কয়েক দিনের মধ্যে কি সেটা সম্ভব হবে?
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আলোচিত একাধিক হত্যাকাণ্ড এবং ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। হঠাৎ করেই যেন বেড়ে গেছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার। এসব ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘নির্বাচনের সময়েও যদি মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকে যায়, তাহলে তারা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে কতটা আগ্রহ দেখাবেন, সেটা একটা বড় প্রশ্ন।’
জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে দুর্বৃত্তরা। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে আছে রাইফেল, পিস্তল, শর্টগান, সাউন্ড গ্রানেটসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র। আর গোলাবারুদের মধ্যে আছে কাদানে গ্যাস, লঞ্চার, সেল, স্প্রেসহ বিভিন্ন ধরনের গুলি। মূল্যবান আলামত মিসিং।
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর দেশের ৬৬৪টির মধ্যে ৪৬০ থানায় হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়। ১১৪টি ফাঁড়িতে লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা। থানা ও ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে পিস্তল, রিভলভার, শটগানসহ অস্ত্র লুট হয়েছে ৫ হাজার ৭৫০টি। উদ্ধার হয়েছে ৪ হাজার ৩৭৩টি। লুন্ঠিত গোলাবারুদের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৫১ হাজার ৮২৬ রাউন্ড। উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৪ লাখ রাউন্ড। প্রায় ২৪ শতাংশ অস্ত্র এখনো উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের ওপর জোর দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘লুট হওয়া অস্ত্র যেভাবেই হোক নির্বাচনের আগেই উদ্ধার করতে হবে।’ অস্ত্র উদ্ধারে গত বছরের সেপ্টেম্বরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী জোরেশোরে মাঠে নামে। পরে তার গতি কমে যায়। যদিও যৌথ বাহিনী বিভিন্ন স্থানে আবার অভিযান শুরু করেছে। অস্ত্র ও গোলাবরুদ উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারীও রয়েছে ।
এতোসব তোড়জোড়ের পরও অস্ত্র উদ্ধারে আশানুরূপ সফলতা পাওয়া যায়নি। হাতবদল হয়ে অনেক অস্ত্র অপরাধীদের কাছে চলে গেছে বলেও জানা গেছে। জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর গত দেড় বছরেও পুরোপুরিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পুলিশ বাহিনী। এ অবস্থায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মধ্যেই নির্বাচনের আগে একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটছে, যা ভোটারদেরকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
জুলাই আন্দোলন চলাকালে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ জন্ম নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় পাঁচই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটার পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একইসঙ্গে, গণভবন থেকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) অস্ত্রপাতিও লুট হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল যে, আটক ব্যক্তিরা লুটের ওইসব অস্ত্র ও গুলি চাঁদাবাজিসহ নানান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে আসছিল।
লুটের যেসব অস্ত্র সাধারণ অপরাধীদের হাতে পড়েছে, তারাই ছিনতাই-ডাকাতির মতো ঘটনায় সেগুলো ব্যবহার করছে। কিন্তু বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক অস্ত্র হাত বদল হয়ে উগ্র গোষ্ঠীগুলোর কাছেও চলে যেতে পারে। সেটি ঘটে থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় ধরনের হুমকির মধ্যে পড়বে।
পুলিশের এই দুর্বল অবস্থানের কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, কিন্তু পুলিশের সদস্যরা সেখানে কতটা শক্ত ভূমিকা পালন করতে পারবেন, সেটি নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ঠ অবকাশ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থার মধ্যে লুটের সব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সুযোগ পেলেই তারা অস্ত্রগুলোকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনের মৌসুমকে তারা সুযোগ হিসেবে দেখতে পারে। ইতোমধ্যেই একাধিক প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে গুলি করে হত্যা করা হয় ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্যপ্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে। প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপরেও হামলার ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে জনগণকে নেতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে অপরাধ বৃদ্ধির বড় কারণ অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্রেও বাড়ছে অপরাধ। বিশেষ করে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবারে অবৈধ অস্ত্র বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।
আসন্ন নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারলে বড় রকমের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্র যেখানেই থাকুক তা উদ্ধার করা আমাদের জন্য একটা প্রায়োরিটি। গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। আশা করি, নির্বাচনের আগে একটা বড় অংশ আমরা উদ্ধার করতে পারাব।’

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি