সিলেট ৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ২:০০ পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০১৮
মাকসুদা লিসাঃ সব নাটকীয়তা , উত্তেজনা, উৎকণ্ঠা ও রোমাঞ্চ জমা ছিল ম্যাচের শেষ দুই ওভারে। মুশফিকুর রহিম ম্যাচটা জমিয়ে তুলেছিলেন। এক ওভারে পাঁচ চার ও ১ রানে (৪,৪,৪,৪, ৪,১) ২১ রান নিয়ে দলকে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে দেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। মুশফিকের তান্ডবে বাংলাদেশ ভাল ভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। জয়টা কঠিন মনে হচ্ছিল না। মাহামুদুউল্লাহকে সঙ্গী করে টুর্নামেন্টের সেরা পাটনারশীপ রেকর্ড করে ফেলেছেন ততক্ষণে। আশায় বুকটা বড় হচ্ছিল। না এবার হবে।
আফগানদের ঘাড়ে চেপে বসা গেছে। ম্যাচ বেড় হওয়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
বাংলাদেশের সেসময় প্রয়োজন শেষ ৬ বলে ৯ রান। দ্বিতীয় স্পেলে বল হাতে আবার আসেচ লেগ স্পিনার গুগলি ম্যান রশিদ খান। এই বিপদজনক বোলার আবারও যমদূত হয়ে সামনে। মুশফিককে প্রলোভনের ফাঁদে ফেললেন প্রথম বলেই। মুশফিকের ব্যাটে ঝড়। এবারও স্বজোড়ে চালিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্য সহায় হলোনা। স্কোয়ার লেগে আফতাবের এ-দর্শনীয় ক্যাচে পরিনত হয়ে ফিরতে হলো তাকে। মাত্র ৩৭ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলে আউট জয়ে যান মুশফিককে। আফনিস্তানের ফিল্ডিং এক কথায় অসাধারণ ছিল ম্যাচে।
সঙ্গীকে হারিয়ে মাহামুদউল্লাহ্ আশাহুত হলেন না। পাঁচ উইকেট হাতে। পরের বলে নিলেন ১ রান। শেষ তিন বলে পাঁচ রান দরকার বাংলাদেশের। স্টাইকে নতুন ব্যাটসম্যান আরিফুল হক। রশিদের পরের গুগলিতে রান। শেষ ২ বলে প্রয়োজন ৫ রান। মাহামুদুল্লাহ ১ রান নিয়ে প্রান্ত বদল করলেন আরিফুলের সঙ্গে। ১ বলে তখন ৪ রান দরকার বাংলাদেশের প্রথম জয়ের জন্য। অনভিজ্ঞ আরিফুল ব্যাট চালিয়েছিলেন গাঁয়ের জোড়ে। হয়ে যাচ্চিল প্রায়। কিন্তু বাউন্ডারী লাইনে দাঁড়ানো ফিল্ডার শফিক তার কারিশমায় ফিল্ডিং করে বল ছুঁড়ে দিলেন বাউন্ডারীর ভেতরে। তবুও আশা ছিল। থার্ড আম্পায়ার যদি ঘোঘণা দিলেন দড়ির বাইরে পা নিয়ে ফিল্ডিং করেছেন শফিক। না এবারও হলো না। মাহামুদউল্লাহ্ দৌড়াছিলেন তখনও। রান নিতে গিয়ে হলে রান আউট। মাত্র ১ রানের আপেক্ষ। আফগানদের হারানো গেল না। সিরিজ হেরে বসেছিল আগেই সফরকারীরা। মান রক্ষার লড়াইয়ে পরিনত শেষ ম্যাচ। সেটাও হাত ছাড়া। ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা ছাড়া আর কিবা বা বলা যায়।
হোয়াইট ওয়াশের লজ্জায় ডুবতে হলো টাইগারদের। তবে শেষটা খারাপ হয়নি।
এমন হারে, লড়াইয়ে লজ্জা থাকে না। থাকে আপেক্ষ। দুঃখ।

আফগানিস্তানের দেয়া ১৪৬ রানের টার্গেট নিয়ে খেলতে নেমে বাংলাদেশ ম্যাচ হারলো ১ রানে। তবে তৃপ্তি কিছুটা মিলছে মুশফিক রহিমের ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচনে। এই মিডল অর্ডার টিকে থাকলে সিরিজের শেষ ম্যাচটা হাত ছাড়া হতো না।
এর আগে লিটন দাস্কে সঙ্গী করে তামিম ইকবাল ইনিংস শুরু করেন। তবে যেতে পারেন নি বেশী দূর। দ্বিতীয় ওভারে পেসার মুজিবুর রহমানের অতিরিক্ত ফিল্ডারের তালুবন্ধী হয়ে ফিরেন। সৌম্য সরকার ছোটখাটো দ্রুত গতির ১৩ বলে ১৫ রান করে আর লিটন দাস (১২) রান আউটের কবলে পড়েন। তিন রানের ব্যবধানে বাংলাদেশ হারায় দুই উইকেট।
সাকিব কিছুটা মারমূখি ছিলেন। করিমের বলে যেভাবে ব্যাট চালিয়েছিলেন বল সীমানা ছাড়া হবার কথা। কিন্তু সেই বল ড্রাইভ করে শামিউল্লাহ এমন ক্ষিপ্তয়ার এক হাতে লুফে নিলেন অকল্পনীয়। মাত্র ১০ রান করে ফিরেন অধিনায়ক। এরপর মুশফিক ও মাহামুদুলাহ এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বাংলাদেশলে স্বপ্ন দিলেন। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৮৪ রান এলো তাদের উইলো থেকে। ১৬ তম ওভারে য়াবার এলেন বল হাতে আফতাব। এই ওভারে মাহামুদুল্লাহ তুলে নিলেন ১৫ রান। পরের ওভারটা রশিদ খুব টাইট বোলিং করলেন। মাত্র তিন রান দিয়ে ফিরিয়ে নিলেন ম্যাচ তাদের দিকে। মাহামুদুল্লাউল্লাহ শেষ বলে (৪৫) রান আউট হন তিন রান নিতে গিয়ে।
ভারতের দেরাদুন সত্যিই আফগানদের হোম গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে যেন। তিন ম্যাচের দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ আগেই হাতছাড়া হয়ে গেছে। তৃতীয় ম্যাচটি তাই বাংলাদেশের জন্য মান রক্ষার ম্যাচে পরিণত হয়েছে। এমন এক ম্যাচে শুরুতে ব্যাট করে বাংলাদেশের সামনে ১৪৬ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দিয়েছে আফগানিস্তান। দুই ম্যাচ পর নিজের কাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েছেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
বৃহস্পতিবার (৭ জুন) ভারতের দেরাদুনের রাজিব গান্ধী স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিং বেছে নেন আফগান অধিনায়ক আজগর স্ট্যানিকজাই। শেষ ম্যাচে পেসার রুবেলের পরিবর্তে ফিরেন আবু জায়েদ রাহি। সাব্বির রহমানের জায়গায় মাঠে নামে বাংলাদেশ আরিফুল হক।
আফগানিস্তান ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ শাহজাদ-উসমান গণি ওপেনিং জুটিতেই ৫৫ রান তুলে নেন। শাহজাদকে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন নাজমুল ইসলাম অপু। আরেক ওপেনার উসমান গণিকে তুলে নেন পেসার আবু জায়েদ রাহি। অধিনায়ক আজগর ১৭ বলে ৩ ছক্কায় ২৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তাকে থামান বোলার আরিফুল হক। দল। তার বদলে সিরিজে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন তরুণ ক্রিকেটার আরিফুল হক।
শেষ সময়ে সামিউল্লাহ শেনওয়ারির ৩৩ রানে আফগানিস্তান ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রানের সংগ্রহ করে। বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে নাজমুল ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন। সাকিব ও আরিফুল নিয়েছেন ১টি করে।
প্লেয়ার অব দ্যা সিরিজ নির্বাচিত হয়েছেন আফগান স্পিনার রশিদ খান।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি