আফসারী হুজুরের হাস্যরস নিয়ে কিছুকথা

প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২২

আফসারী হুজুরের হাস্যরস নিয়ে কিছুকথা
মাওলানা  ‍মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, দোহা-কাতার♦ আফসারী সাহেবের ওয়াজের মাহফিলে হাস্যরত সম্পর্কে অনেক কথা এযাবত হয়ে গেছে। তার বক্তব্যের পক্ষে যারা কথা বলেছেন, তাদের অধিকাংশই তার হাস্যরস নিয়ে নেগেটিভ অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। যারা তার বক্তব্যের সাথে একমত নন, তারা হাস্যরসকে বিরোধীতার একটি পয়েন্ট হিসাবে গ্রহণ করেছেন। এই পর্যায়ে আমি তার হাস্যরসের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কিছু কথা বলতে চাইঃ
১. আমরা যা জানি, তা অন্যকে যখন জানাতে চাই-তখন আমরা জানানোর উপসংহারকে ‘ম্যাসেজ’ বলি।
২. জানানোর জন্য বিভিন্ন জন বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেন। এক্ষেত্রে যিনি যে বিষয়ে এক্সপার্ট তিনি সেই পন্থা গ্রহণ করে থাকেন।
৩. মরহুম হুমায়ুন আহমদ বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। তিনি জানানোর মাধ্যম গ্রহণ করেছেন উপন্যাসকে এবং তাকে আরো সহজ করার জন্য নাটক ও সিনেমার মাধ্যম গ্রহণ করেছেন। আমরা হুমায়ুন আহমদের উপন্যাস পড়লে বিজ্ঞানের বিভিন্ন থিওরী, মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা পাই। কাসেম বিন আবু বকর, আব্দুস সালাম মিতুল রোমেনা আফাজের পথ ধরে হেটে ইসলামের ম্যাসেজ মানুষের সামনের তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। দস্যু বনহুর আর মাসুদ রানা পথ ধরে আবুল আসাদের অনবদ্য সৃষ্টি “সাইমুম সিরিজ”।
৪. মানুষের কাছে একই ম্যাসেজ পৌছাতে কেউ গান গায় বা লিখে, কেউ প্রবন্ধ বা আর্টিক্যাল কিংবা কলাম লেখে, কেউবা কবিতা গল্প উপন্যাস, আবার কেউ নাটক সিনেমা বানিয়ে ম্যাসেজ প্রদান করে।
৫. আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে মানুষের কাছে ম্যাসেজ পৌছাতে যেমন আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামায়াত বড় বড় মহাসমাবেশের আয়োজন করে, তেমনি একই ম্যাসেজের জন্য একই মঞ্চে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদ, জাসাস কিংবা সাইমুম-সসাস ইত্যাদি গান, নাটক, কৌতুক, অভিনয় ইত্যাদির আয়োজন করে।
৬. ম্যাসেজ পৌছানোর জন্য মানুষের কাছে বই, হ্যান্ডবিল ইত্যাদি বিলি যেমন করা হয়, পথসভা জনসভা, উঠান বৈঠক ইত্যাদিও রয়েছে।
৭. ম্যাসেজ পৌছানোর জন্য ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন তেমনি একটা মাধ্যম। সুরের ঝংকার দিয়ে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাঈন সাঈদী অথবা মিজানুর রহমান আযহারী যে ভূমিকা রেখেছেন মাওলানা কামালুদ্দীন জাফরী অথবা মুফতি কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহীম সে ভূমিকা রাখতে পারেননি। কিন্তু সামান্য যাদের জানাশোনা আছে, তারা একথা মানতে বাধ্য হবেন যে, কামালুদ্দিন জাফরী এবং কাজী ইব্রাহীমের দ্বীনি ইলমের ব্যাপকতা যে কোন অবস্থায় যথাক্রমে সাঈদী সাহেব ও আযাহারী সাহেব থেকে অনেক অনেক বেশী।
৮. দ্বীনের ম্যাসেজ পৌছানোর জন্য যারা ওয়াজ মাহফিল করছেন, সেই ময়দানে এখন পাখিদের অভাব নেই। কুরআনের পাখির কারাবরণের পর থেকে শত শত পাখির উত্থান হচ্ছে এবং তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব একটা স্বকীয়তা আছে, স্টাইল আছে।
৯. কুরআনের পাখিদের ম্যাসেজ পৌছানোর ক্ষেত্রে আফসারী একটি নতুন স্টাইল। কিছু মানুষ আছে, যারা কৌতুক ধরণের কথাবার্তা পছন্দ করে। সেই সব মানুষের কাছে ম্যাসেজ পৌছানোর জন্য বক্তার খুবই অভাব। আমাদের কাছে হানিফ সংকেত, হারুন কিসিঞ্জার, বদিউর রহমান সোহেল, আব্দুল গনি বিদ্যান আছে। কিন্তু আফসারী কয়টা আছে। কবির বিন সামাদ ওয়াজের মাহফিলে যখন ইসলামী সংগীত বলে তখন কতটুকু দর্শক নন্দিত হয় আর একই ব্যক্তি যখন কৌতুক সংগীত বলে তখন কতটুকু দর্শক ভালবাসা মিলে তার উত্তর পাঠকরাই দেবেন।
১০. মানুষের চেহারায় যেমন একজনের সাথে আরেকজনের মিল নাই। তেমনি দৃষ্টিভংগীতেও একজনের সাথে আরেকজনের মিল নাই। তাই যদি আফসারী সাহেবের পদ্ধতি কারো কাছে ভাল না লাগে, তাহলে তা দোষণীয় নয়। তবে কারো কাছে ভাল না লাগার অর্থ এই নয় যে, সকলের কাছেই খারাপ লাগছে।
১১. আফসারী এখন ওয়াজের জগতে একটি নতুন ব্রেন্ড। আফসারীর জ্ঞান, যোগ্যতা, আমল, লিখনি, বক্তৃতার বিষয় ইত্যাদি নিয়ে কেউ কথা বলেননি এখনো। কথা কেবল উপস্থাপনার পদ্ধতি নিয়ে-হাস্যরস নিয়ে। কিন্তু ইসলাম হাস্যরস করতে কোথায় বাঁধা দিয়েছে? হাস্যরসের মাধ্যমে আফসারী এমন এটম বোম ছাড়তে পেরেছে, যা অনেক নামীদামী ব্যক্তিরা সাহস করতে পারেননি।
১২. আফসারী সাহেবের পদ্ধতির অনেক গ্রাহক আছে, ফ্যান আছে বলেই তার মাহফিল গুলোতে মানুষের ঢল নামে। তার ডায়েরীর পাতা খালি থাকে না। তার মাহফিলের এ্যাপোয়েন্টম্যান্ট নিতে লাইন ধরে দাড়াতে হয়।
অতএব, “কিভাবে বললাম?” তা বিবেচনায় না নিয়ে আসুন “কি বললাম” তা নিয়ে আলোচনা করি। সকলের প্রতিভাকে লালন করি, সকলের মতামতকে শ্রদ্ধা করি।
মাওলানা  ‍মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, দোহা-কাতার প্রবাসী♦ ইসলামী চিন্তাবিদ,গবেষক♦সাবেক ছাত্রনেতা।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ