পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের জন্মদিন আজ

প্রকাশিত: ১:৪১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২১

পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের জন্মদিন আজ

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

‘‘আমার কবিতায় আমি বড় বড় রাজা বাদশার কাহিনী বলতে পারি নি। বড় বড় বীরের কাহিনী অবলম্বন করে কবিতা রচনা করতে পারি নি যা আপনাদের নবজীবনের পথে নব নব উন্মাদনা এনে দিতে পারবে।

 

গাজী সালাউদ্দিনের বড় বড় যুদ্ধের চাইতে পল্লী গ্রামের রুপা মিয়ার গ্রাম্য কাইজ্যা আমাকে বেশি আকর্ষণ করেছে। রাতদুপুরে যখন মেঘে মেঘে শব্দ করে ঝড় আসে তখন রাত্রির অন্ধকারে মশাল জ্বালিয়ে বছিরদ্দিও মাছ ধরতে যায়, তার সেই সাহসিকতা আমাকে পাগল করে, শহরের এলায়িতকুন্তলা সুবাসিনী সুন্দরীদের পাশে আমার রচিত সাজু, দুলী, আনোয়ারা এরা যে স্থান পাবে না তা আমি জানি। এত শিক্ষা সুনিপুনা শহরের বিদুষী মহিলাদের পাশে আমার সাজুর কাঁথা সেলাইয়ের সূক্ষ্ম কারুকার্যের মূল্য কতটুকুন।

 

কিন্তু তাজমহলের চাইতে ও আমাকে পাগল করেছে এইসব নকশী কাঁথার সুন্দর ইন্দ্রপুরী।’’ এই কথাগুলোর বাংলার অনন্য কবি জসীম উদ্দিনের। আমাদের কাছে তিনি পল্লী কবি হিসাবেই আদৃত। তিনিই সারা পৃথিবীকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন নকশী কাঁথার মাঠের হাসু কিংবা রসুলপুরের আসমানি’র সাথে। দাদীর কবর দেখিয়ে নাতনীর সাথে সাথে আমাদের সবাইকে কাঁদিয়েছেন। শিশু কিশোরদের মামা বাড়ির আনন্দের স্বাদ আস্বাদন করা শিখিয়েছেন। আনমনে খেলা করে যাওয়া রাখাল বালকের কথোপকথন শুনিয়েছেন। তিনি নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন আমাদেরকে তাঁর বাড়ি থেকে ঘুরে আসবার।

 

বাঙালি’র সেই মাটি-প্রকৃতি, পল্লী-গাঁয়ের সাধক ছিলেন বিরল প্রতিভাধর কবি জসীম উদ্দিন। তাঁর লেখা কবর কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় অবদান। পুরো নাম জসীম উদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীম উদ্দীন নামেই পরিচিত। নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট কবির অনন্য শ্রেষ্ঠ রচনা যা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

 

তিনি ১৯০৩ সনের পহেলা জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার বাড়ি ছিলো একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। বাবার নাম আনসার উদ্দিন মোল্লা। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। মা আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুট। জসীম উদ্ দীন ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুল, ও পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে পড়ালেখা করেন। এখান থেকে তিনি তার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ১৯২১ সনে উত্তীর্ন হন।

 

তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি. এ. এবং এম. এ. শেষ করেন যথাক্রমে ১৯২৯ এবং ১৯৩১ সনে। ১৯৩৩ সনে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. দীনেশ চন্দ্র সেনের অধীনে রামতনু লাহিড়ী গবেষণা সহকারী পদে যোগ দেন। এরপর ১৯৩৮ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।

 

১৯৬৯ সনে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মান সূচক ডি লিট উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ১৩ মার্চ ১৯৭৬ সনে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাকে তাঁর নিজ গ্রাম গোবিন্দপুরে দাফন করা হয়। ১৯৫৮ সালে তিনি প্রেসিডেন্টস অ্যাওয়ার্ড ফর প্রাইড অফ পারফরমেন্স-এ ভূষিত হন। ১৯৭৬ সালে একুশে পদক এবং ১৯৭৮ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার(মরণোত্তর) লাভ করেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 25
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ