ভ্রান্তির বেড়াজালে সিলেটে করোনা চিকিৎসা

প্রকাশিত: ১১:১০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২০

ভ্রান্তির বেড়াজালে সিলেটে করোনা চিকিৎসা

সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল। এই সাইবোর্ডের নীচে লাল ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা হরফে টানানো ব্যানার। লেখা করোনা আইসোলেশন সেন্টার। আশা জাগানিয়া এই ব্যানার কতটুকু অন্তসার শূণ্য। আজ জাতি দেখলো নির্বাক চিত্তে। সিলেটের প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী একজন চিকিৎসক। ৮ এপ্রিল বুধবার বিকেলে ঐ চিকিৎসককে আইসিইউ এম্বুলেন্স যোগে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে আদৌ কি করোনা ভাইরাস কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে? আছে চিকিৎসা সরঞ্জাম? করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক ঢাকায় রওয়ানার সাথে সাথে সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সুর উঠে ভেন্টিলেটর না থাকায় ঐ চিকিৎসককে ঢাকায় নেয়া হয়েছে

সরকারের ষষ্ঠ গ্রেডের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার চিকিৎসায় ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা নেই এই বিভাগীয় নগর সিলেটে ! বাদবাকি বনিআদমের ভাগ্যে কি জুটতেপারে ?

শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে আইসিইউ বেড আছে, এমনটিই প্রচার করা হয়েছিল জোরে শোরে। এখন শোনা যায় ভেন্টিলেটর কাজ করে না। করোনা রোগীর মূল চিকিৎসাই হলো ভেন্টিলেশন। ভেন্টিলেশনই যদি না দেওয়া যায়, তাহলে করোনা রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ারই দরকার কী? জনসাধারণের এমন প্রশ্ন থুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবার মত নয়।

করোনা আক্রান্ত সিলেটের প্রথম রোগী ঐ চিকিৎসক শামসুদ্দিনের আইসোলেশন থেকে ঢাকায় রওয়ানা দিয়েছেন। এটা দিবালোকের মত সত্য। বিকেল সাড়ে ৪ টায় তাৎক্ষণিক বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, রোগীর শ্বাসজনিত সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতামতের ভিত্তিতেই ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বক্তব্যে সিলেটে করোনা আক্রান্তের চিকিৎসা নিয়ে সংশয় শঙ্কা দেখা দেয়াটাই স্বাভাবিক।

রাত ৯টায় আসে ভিন্ন বক্তব্য। ওসমানী হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়

সংবাদ সম্মেলনে জানান, সিলেটে করোনা আক্রান্ত চিকিৎসককে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঢাকায় পাঠায়নি। আক্রান্ত চিকিৎসক ও তার পরিবারের সিদ্ধান্তে তারা ঢাকায় গেছেন। চিকিৎসার জন্য শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসিইউ প্রস্তুত রয়েছে।

পরস্পর বিরোধী এমন বক্তব্য আর বাস্তবতার চিত্র ভিন্ন।করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সিলেটের সেই চিকিৎসককে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। কারণ সিলেট বিভাগে ভেন্টিলেটর সহ কোনো করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র নেই! ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যদি সঠিক ধরে নেয়া হয় তাহলে প্রশ্ন হলো একজন চিকিৎসক কেন সিলেটের চিকিৎসা ব্যবস্থায় আস্থা রাখতে পারলেন না।

তাঁকে ঢাকায় নেয়ার জন্য একটা সরকারী অ্যাম্বুলেন্সও পাওয়া গেলনা। যেতে হয়েছে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে!

যাওয়ার আগে তিনি দেখে গেলেন, একটা বিভাগীয় শহর, যেখানে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং সহকারী অধ্যাপকের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। একটা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স তো অনেক পরের কথা, একটা সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করে দেয়ার মতো কোনো সরকারি ব্যবস্থাও এই শহরে নেই!

করোনায় আমাদের করণীয় কি? আর করছি কি? শুধু কি সিলেট? সমগ্র দেশেই চলছে হযবরল অবস্থা। শুরু থেকেই একধরণের ধামাচাপার তৎপরতা আমরা লক্ষ্য করছি। যা জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কিংবা কভিড-১৯ আক্রান্তের চিকিৎসা সবই যেন ভ্রান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ। আমলা নির্ভর শাসন ব্যবস্থায় যা হয়, এমনটাই হচ্ছে বাংলাদেশে। হচ্ছে সিলেটে। সিলেটে প্রথম দিনের ৯৪ টি নমুনা পরীক্ষা ও ফলাফল নিয়েও জনমনে রয়েছে সংশয়। এ পরীক্ষা কি সঠিকভাবে হয়েছে?

আমরা দ্রুত এ পরিস্থিতির উত্তরণ চাই। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই নিতে হবে। জনগণের আশা ভরসা আস্থার জায়গা রাজনৈতিক নেতৃত্বেই, আমলাতে নয়।

কবীর আহমদ সোহেল, সম্পাদক – প্রভাতবেলা।

৮ এপ্রিল ২০২০

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ