সাদা মেঘের ভেলায় এলো শরৎ

প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২০

সাদা মেঘের ভেলায় এলো শরৎ

 

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ, আমরা গেঁথেছি শেফালিমালা/ নবীন ধানের মঞ্জুরি দিয়ে সাজিয়ে এনেছি ডালা/ এসো গো শারদলক্ষ্মী, তোমার শুভ্র মেঘের রথে/ এসো নির্মল নীলপথে…। এসেছে শরত্। নির্মল নীলাকাশ, গুচ্ছ গুচ্ছ শুভ্র অমল ধবল মেঘের ভেলা; দূরে দুধেল সাদা কাশের বনে পাগলা হাওয়ার মাতামাতি নিয়ে আজ ১লা ভাদ্র।

 

‘আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা রে ভাই, লুকোচুরি খেলা/ নীলাকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা রে ভাই লুকোচুরি খেলা’ পঙক্তিতে কবিগুরু শরেক ‘স্বল্পায়ু’ বলেছেন। গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে নবীন ধানের সঙ্গে কাশফুলের দোলা আর নীল আকাশে ভেসে বেড়ায় সাদা মেঘের ভেলা।

 

গতকাল আকাশে রোদ্র-মেঘের লুকোচুরি জানান দিয়েছে তার আগমনী বার্তা। প্রকৃতির মালিন্য মুছে দিতে মেঘের সিংহবাহনে এলো সে ‘মধুর মুরতি’ নিয়ে। শরত্ চেনা যায় প্রকৃতির মধ্যে তার স্বল্প আয়োজনের জন্য। শরতের সম্ভার ঐ শিশিরাশ্রু শেফালিকা, কাশমেঘ; আর আগমনী উত্সবে তার সমাপ্তি।

 

ভাদ্র মনকে উদ্বেলিত করে। প্রকৃতির সবুজ ছড়িয়ে পড়ে মাঠে-ঘাটে। এ স্নিগ্ধরূপ তারুণ্যকে উচ্ছ্বসিত আনন্দে ভাসার উদ্বেগ সৃষ্টি করে। প্রকৃতি তার ভালোবাসা দিয়ে আপন করে নিতে চায় সকল মনকে। শরত্ সেই ভালোবাসার মনে দোলা দিয়ে যায়।

 

তাই মহাকবি কালিদাস শরতের বন্দনা করেছেন: ‘প্রিয়তম আমার! ঐ চেয়ে দেখো, নববধূর ন্যায় সুসজ্জিত শরত্কাল সমাগত।’ প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ শরতের চরিত্রের সঙ্গে বর্ণনা করেছেন প্রিয়তমাকে। প্রেম-দ্রোহের কবি নজরুলকেও আলোড়িত করেছিল শরতের প্রকৃতি। বিশেষ করে, শরতের শিউলি তাকে মুগ্ধ করেছিল। ‘এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি-বিছানো পথে।/ এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ-রথে…।’

 

শরত্কালের মধ্যেই যেন বাংলাদেশের হূদয়ের স্পর্শ পাওয়া যায়। নদীর তীরে তীরে কাশফুলের শুভ্রতার প্লাবন, মাঠে মাঠে সবুজের মেলা; এত নীল আর এত সাদার একত্র সমাবেশ কেবল শরতেই দেখা মেলে এই রূপসী বাংলায়। শহরের যান্ত্রিক জীবনে এর রূপ দেখার সময় যেন নেই অনেকেরই।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 116
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ