সিলেট ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৭
আহমদ মারুফ : সিলেটে বাড়ি তৈরিতে চলছে ‘বাড়াবাড়ি’। কারুকার্যময় এমন ‘বাড়ি বিলাস’ প্রত্যন্ত অঞ্চল জুড়ে। বাড়ি নয় যেন ‘রাজপ্রাসাদ’ তৈরির প্রতিযোগিতা চলছে প্রায় দুই দশক ধরে।
বাড়িতে থাকার মতো কোনো মানুষ নেই। বাড়ির মালিক প্রবাসী। কাড়ি কাড়ি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এসব বাড়ি বছরের অধিকাংশ সময়ই ফাঁকা পড়ে থাকে। তত্ত্বাবধায়কদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব অট্টালিকা সৌন্দর্য বর্ধন ছাড়া কোনো কাজে আসছে না। সিলেটে এমন আলিশান বাড়ি রয়েছে পাঁচ হাজারের উপরে। যার প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় এক থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত। সিলেটের বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও মৌলভীবাজার এলাকায় এইসব বাড়ির সংখ্যা বেশি।
প্রবাসীবহুল সিলেট। এই অঞ্চলের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক লোক ইংল্যা–আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। মাঝেমাঝে দেশে বেড়াতে আসেন তারা। তাদের কেউই স্থায়ীভাবে থাকেন না দেশে। তবু দেশে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তুলেছেন অট্টালিকাসম বাড়ি।
সরকারের সুষ্ঠু নীতিমালা ও সহযোগিতার অভাবে সিলেট অঞ্চলের ২৫ লাখেরও বেশি প্রবাসী উৎপাদনশীল খাতে তাদের অর্থ বিনিয়োগ করতে পারছেন না। সিলেটে অবস্থিত প্রায় সব কটি ব্যাংকের শাখা প্রশাখাগুলোতে হাজার হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে থাকলেও সিলেটের শিল্পায়নে এই টাকাগুলো বিনিয়োগ হচ্ছে না। সিলেট বিনিয়োগ বোর্ড অনেকটা সাইনবোর্ড সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করতে ভরসা পাচ্ছেন না। আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে সিলেটে প্রবাসীদের বিশাল অংকের টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে শত কোটি টাকার মার্কেট, বিপনী বিতান।
এক বেসরকারী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের দুই তৃতীয়াংশ ব্যয় হয় অনুৎপাদনশীল খাতে। যার অধিকাংশই ব্যয় হয় ভোগ বিলাসে। জরিপে দেখা যায়, প্রবাসীদের পাঠানো টাকার ৬৬.১ শতাংশ ব্যংয় হয় অনুৎপাদনশীল খাতে। এর মধ্যে ৫২.৪ শতাংশ আপ্যায়ন অনুষ্ঠানাদি এবং ৯.২ শতাংশ ঘরবাড়ি ঠিক করার কাজে ব্যয় হয়। বিনিয়োগ খাতের মধ্যে দোকান, গাড়ি ক্রয় ইত্যাদি ১২.২ শতাংশ ও অকৃষি খাতে, কৃষি জমি কেনাখাতে ১৫ শতাংশ, ০.৮ শতাংশ ভ্রমন খাতে, ৩.৪ শতাংশ ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যয় হয়। বিনিয়োগ ক্ষেত্রে ঝুঁকি এড়ানোর জন্য প্রবাসীরা জমি-জমা ক্রয়ে অধিক আগ্রহী।
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজম্যান্ট (বিআইবিএম)-এর একটি প্রতিনিধি দল সিলেট অঞ্চলের অর্থনীতিতে বিরাজমান সমস্যা ও সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে গত ২০০০ সালের আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ নিয়ে ১৫ দিন ব্যাপি স্ট্যাডি করে। বিআইবিএম-এর ওই প্রতিনিধিদল গবেষণায় দেখতে পায়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও গত দশ বছরে সিলেটের কেউ নতুন শিল্প কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়নি। ভালো কোনো উদ্যোক্তা এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করলেও তা বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে আসেননি।
বাংলাদেশের এ যাবত কালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাড়ি হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে সিলেটের ইসলামপুরের ‘কাজি ক্যাসল’। ৩শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়িটি নির্মাণ করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, আল-হারামাইন পারফিউমস্ গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মাহতাবুর রহমান। আড়াইশ’ নির্মাণ শ্রমিকের আট বছরের পরিশ্রমে নির্মিত বাড়িটি সবারই নজর কেড়েছে।
প্রায় ৮ একর জায়গার উপর নির্মিত এ বাড়িটির ছাদে আছে হ্যালিপ্যাড, সুইমিংপুল, স্টিমবাথ, লিফটসহ আধুনিক ¯œানাগার। ২৯টি মাস্টার বেডের ডিজাইন করা হয়েছে ২৯টি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোকে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৮ সালে সিলেটের ইসলামপুর বাড়িটির কাজ শুরু করা হয়। দুবাই, ফ্রান্স, লেবানন ও জার্মানি এ চার দেশের প্রকৌশলী দিয়ে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়।
বাড়িটির তত্ত্বাবধায়ক জানান, ২৯টি মাস্টার বেডের ডিজাইন করা হয়েছে ২৯টি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোকে। ভবনের শুধু নিচ তলায় রয়েছে ৯টি ডাইনিং রুম, ১৪টি ড্রইং রুম, আছে দু’টি লিফট, আভিজাত ইতালিয়ান বুক ম্যাচিং ওয়ান প্লেট মার্বেলের আধিক্য আছে পুরো বাড়ি জুড়ে।
বাড়ির ভেতরে সৌদি আরবের ওয়াকফ মিনিস্ট্রির উপহার দেওয়া পবিত্র কাবা শরীফের দরজার র্যাপিকাও রাখা হয়েছে অতি যতœ করে। পুরো বাড়িটির লাইটিংয়ের কাজ করেছে জার্মানির কোম্পানি টিফেনি লাইটিং। আর ফ্লোরগুলো করে দিয়েছে ফ্রান্সের একটি কোম্পানি।
স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দেশের প্রতিটি সরকার প্রবাসীদেরকে প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য তারা তেমন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেননি।
প্রবাসী ও দেশের শিল্প উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে বর্তমান সরকার জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সিলেটের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, পর্যটন শিল্পের বিকাশসহ প্রবাসীদের বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধকরণে প্রত্যাশিত ‘স্পেশাল ইকোনমিক জোন’ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাই ইকোনমিক জোন স্থাপনে সিলেটবাসী আশাবাদী। ইকোনোমিক জোন স্থাপনে সফল হলে সিলেট হতে পারে সিঙ্গাপুর কিংবা হংকংয়ের মতো দর্শনীয় স্থান।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি