হেফাজত আগুন নিয়ে খেলছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৫:০২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২১

হেফাজত আগুন নিয়ে খেলছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

হেফাজতে ইসলামের নেতাদের উদ্দেশে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগুন নিয়ে খেলছেন, এক ঘরে আগুন লাগলে সেই আগুন অন্য ঘরেও চলে যেতে পারে। সেটা কি আপনাদের হিসেবে নেই।

রোববার (০৪ এপ্রিল) দুপুরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন।

হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের কারণে ২৬ মার্চ অনেক মানুষের জীবন গেছে, এর জন্য দায়ী তো তারা। আমি শুধু বলব আইন তার আপন গতিতে চলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা দুঃখজনক বিষয় হলো যখন আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছি। সেই সময় যে ঘটনাগুলি ঘটানো হলো এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় যেসময় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি ঠিক সেই সময়, হ্যাঁ আমাদের অনেক বিদেশি অতিথি আসছে। অনেকে বার্তা দিচ্ছেন। ব্রিটেনের রানী থেকে শুরু করে সৌদি বাদশা সকলের বার্তা আমরা পাচ্ছি। এতো বড় একটা সন্মান বাংলাদেশ পাচ্ছে। সেখানে কারা খুশি হতে পারে নাই? ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসার কথা। তাকে আসতে দেওয়া যাবে না, বাঁধা দেওয়া হলো কেন?

হেফাজতের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম কর্মসূচি দেয়, তারা কি দেওবন্দে যায় না? শিক্ষা গ্রহণ করতে। তারা যদি এ সমস্ত ঘটনা ঘটায় তবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে দেওবন্দে যাবে কিভাবে সেটা কি তারা একবারও চিন্তা করেছে। আমরা তো কওমি মাদরাসায় সনদ দিচ্ছি। তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। তাদের কারিকুলাম ঠিক করে দিচ্ছি। যাতে তারা দেশে বিদেশে চাকরির পায়, তার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছি। তারপরেও কেন তারা এই তাণ্ডব ঘটালো? প্রথমে বিএনপি তাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট কিভাবে সমর্থন দিচ্ছে সেটাই আমার প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রী মোদি আসবে সেখানে তাদের আপত্তি।

তিনি বলেন, আমার খুব অবাক লাগে বিএনপির কর্মকাণ্ড দেখে। প্রথমে খুব আপত্তি হেফাজতের সাথে যত রকমের মদদ দেওয়া এবং জ্বালাও পোড়াও করার যে পরামর্শ সেটাও তারা দিয়েছে। পরবর্তীতে যখন দিয়েছিলেন তখন আবার তারা সমর্থন দেয় এদের রাজনৈতিক কোন আদর্শ নেই। কোনও আদর্শ নিয়ে তারা চলে না।

বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালের ২১ মে রাজিব গান্ধী মৃত্যুবরণ করেন। তার অন্তেষ্টিক্রিয়ায় আমরা যোগদান করেছিলাম তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিল বেগম খালেদা জিয়া। তখন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে প্রায় সবাই এসেছিলেন আমেরিকা থেকে ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস, ইয়াসির আরাফাতসহ সকলে উপস্থিত। ইয়াসির আরাফাত সাহেব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেখে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়ালেন খালেদা জিয়া হাত গুটিয়ে বসে থাকলেন। কিন্তু সেই খালেদা জিয়াকে দেখলাম মোদির সাথে হ্যান্ডশেক করার ছবি। সেই হাত যেন আর ছাড়ে না। শুধু তাই না তার সঙ্গে টেলিফোনে তার যে সেই খিলখিল হাসি। তার যে হাসির আওয়াজ সেটাও তো সকলের কানে গেছে। আবার যখন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে মোদি সাহেব আসবেন তখন বাঁধা দেওয়া হয় এবং হেফাজতের সাথে হাত মেলালো কেন? কি ঘটনা ঘটিয়েছে তারা?

‘যখন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করি তখন শুরু করল হেফাজতের তাণ্ডব। হেফাজত তো একা নয় হেফাজতের সঙ্গে জামায়াত-বিএনপিও জড়িত। তাদের প্রত্যেকটা কর্মকাণ্ডে দেখা যায়। হেফাজতের সকলেই যে এরমধ্যে জড়িত তাও কিন্তু না। এটাও বাস্তবতা। তারপরেও দেখেছি ২৬ মার্চ হেফাজত একটা গুজব ছড়ালো। কি বায়তুল মোকাররমে মানুষ মারা হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত যে সহিংসতা চালায় এবং ২৭ ও ২৮ মার্চ হেফাজত এবং বিএনপি-জামায়াতের বিবৃতি দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিক অংশ। ২৮ মার্চ হরতাল দিয়ে সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে তারা তাণ্ডব চালায়। আওয়ামী লীগ অফিস, দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি ঘর, সরকারি অফিস আদালত, পরিবহনে হামলা ও ভাঙচুর এবং পোড়ানো হয়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়ি ঘর বেছে বেছে পোড়ানো। ছোট শিশুদের সামনে নিয়ে এসেছে। তাদের হাতে লাঠি অস্ত্র এবং সবার ব্যাগের ভেতরে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোরআন শরীফ পুড়িয়ে দিয়েছে কি ধর্মে বিশ্বাস করে যে তারা কোরআন শরীফ পর্যন্ত পোড়ায়। ইসলাম তো শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্মের নামে এই জ্বালাও পোড়াও এটা কিভাবে আসল। ২০১৩ সালে দেখেছি বিএনপি-জামায়াত কিভাবে চলন্ত গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। কোন কিছু হলেই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাসায় আগুন দেওয়া। আগুন নিয়ে খেলছে তারা এক ঘরে আগুন লাগলে তো সেই আগুন অন্য ঘরেও চলে যেতে পারে। সেটা কি তাদের হিসেবে নেই। রেলস্টেশন, ভূমি অফিস, ডিসি অফিস সব জায়গায় তারা আগুন দিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের মাদরাসা তাদের বাড়িঘর সেগুলোতে যদি আগুন লাগে তখন তারা কি করবে? জনগণ কি শুধু বসে বসে এগুলো সহ্য করবে?

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ