পুণ্যভূমি থেকেই প্রচারণা শুরু করছেন তারেক রহমান

প্রকাশিত: ৮:০০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬

পুণ্যভূমি থেকেই প্রচারণা শুরু করছেন তারেক রহমান

আহমদ মারুফ ::

সিলেট সফরে যাচ্ছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২১ জানুয়ারি রাতে আকাশপথে সিলেট পৌঁছাবেন তারেক রহমান। পরদিন ২২ জানুয়ারি সকালে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে বেলা ১১টায় সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। এই জনসভা থেকেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান।

১৯৯১ সালে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতেন। সে ধারাবাহিকতায় তাঁর ছেলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানও একইভাবে সিলেট থেকে শুরু করবেন নির্বাচনী প্রচারণা। দুই দশক পর তাঁর এ সফর নিয়ে উচ্ছ¡সিত দলের নেতা-কর্মী।

নগরের মোড়ে মোড়ে তারেক রহমান ও সিলেট বিএনপির নেতাদের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে। দলের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর এই দিনকে ‘ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ’ হিসেবে দেখছে বিএনপি।

জনসভা সফল করতে বিএনপি ও ছাত্রদল পৃথকভাবে প্রস্তুতি বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে জনসভায় সর্বোচ্চ লোকসমাগম নিশ্চিত করার পাশাপাশি আয়োজন সফল করতে দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সিলেটবাসীরা বলছেন, সিলেটজুড়ে জামাই আদরের বাস্তবতায় রয়েছে অপূর্ব এক রীতি নীতি। তাই সিলেটি জামাই তারেক রহমানকে বরণে প্রস্তুতির শেষ নেই সিলেটে।

জনসভা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রবেশপথে চেকপোস্ট স্থাপন, মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি, সিসিটিভি নজরদারি, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি এবং দ্রæত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি নগরীর যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ৮৫ দিনের মধ্যে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘দেশে ফেরার পর বিএনপির চেয়ারম্যানের ঢাকার বাইরে প্রথম সফর সেটাও ইতিহাসের অংশ। আমরা ইতিহাসের সেই অংশ সিলেটবাসী হতে চাই এবং এ সমাবেশকে সফল করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালের পর বিএনপি যতগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, সবগুলোর প্রচারণা সিলেট থেকে শুরু করতেন দলের মরহুমা চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। সেই ধারাবাহিকতা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বজায় রাখছেন। সিলেটের মানুষ সৌভাগ্যবান যে, দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এ অঞ্চল থেকে প্রচারাভিযান শুরু করছেন।

সাবেক নৌবাহিনী প্রধান, সাবেক যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের জামাতা হচ্ছেন তারেক রহমান। তার মেয়ে ডা. যোবায়দা রহমানের স্বামী হচ্ছেন-তিনি। স¤প্রতি লন্ডনে বিএনপি আয়োজিত এক সভায় তারেক রহমান নিজেকে ‘হাফ সিলেটী’ হিসেবে অভিহিত করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট-১ আসনে মনোনীত প্রার্থি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘দুই দশক পর আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান সিলেটে আসছেন। এবার তিনি আসছেন দলের চেয়ারম্যান হিসেবে। তাকে বরণ করতে এবং তার দিকনির্দেশনামূলক বার্তা শুনতে সিলেটবাসী উন্মুখ হয়ে আছেন। ২২ জানুয়ারির আলিয়া মাদরাসা মাঠের সমাবেশকে আমাদের জনসমুদ্রে পরিণত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সিলেটের সাথে তারেক রহমানের একটি আত্মিক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রচার অভিযানের শুরু হিসেবে তিনি সিলেটকে বেছে নিয়েছেন, যা আমাদের জন্য গৌরবের। অতিথিপরায়ণ হিসেবে সিলেটের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে সুশৃঙ্খলভাবে এই ঐতিহাসিক সমাবেশ সফল করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, ২২ জানুয়ারির এই সমাবেশ সিলেটের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

বিএনপি সূত্র জানায়, তারেক রহমান ২০০৫ সালে সর্বশেষ সিলেট সফর করেন। সে সময় তিনি সিলেট স্টেডিয়ামে একটি কর্মী সমাবেশে যোগ দেন। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। গত ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া মারা যান। গত ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।

আরও পড়ুন  টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ঘামঝরা জয়

দলীয় সূত্রে জানা গেছে. বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২১ জানুয়ারি রাতে তিনি সিলেটে পৌঁছাবেন। পরদিন ২২ জানুয়ারি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবেন।

সূত্র মতে, ২১ জানুয়ারি আকাশপথে সিলেটে পৌঁছানোর পর ২২ জানুয়ারি সকালে মাজার জিয়ারত শেষে বেলা ১১টায় তিনি সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। ওই জনসভায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য প্রার্থিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। জনসভা শেষে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। পথে তিনি মৌলভীবাজারের শেরপুর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আরও দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। এসব সমাবেশে সংশ্লিষ্ট জেলার বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থিদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।

সিলেট বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানান, জনসভাগুলোয় দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পাড়া-মহল্লাভিত্তিক প্রচারণা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমাবেশস্থলের আশপাশের এলাকা ও সিলেট নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় ব্যাপক সমাগম ঘটিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া তারেক রহমান যেসব সড়ক ও মহাসড়ক দিয়ে যাবেন, সেগুলোর দুই পাশেও বিপুল মানুষের উপস্থিতির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এককথায়, ওই দিন সিলেটে প্রথম নির্বাচনী প্রচারাভিযান ঘিরে বড় ধরনের শোডাউন করতে চায় বিএনপি।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। পরদিন ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে প্রার্থিদের আনুষ্ঠানিক প্রচার।

সর্বশেষ সংবাদ