পুলিশি অ্যাকশনে কালো পতাকা প্রদর্শন পন্ড

প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৮

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:  বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সকালে ঢাকার নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি পুলিশের বাধার মুখে পন্ড হয়ে গেছে। দলীয় এ কর্মসূচি শুরু হলে পুলিশ তা ভন্ডুল করে দেয়।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অন্তত ৪২ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। পুলিশ বলেছে, অনুমোদন ছাড়া রাস্তায় দাঁড়ানোর জন্য সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা হয়। বিএনপির কয়েক নেতা-কর্মীকে আটক করা হলেও সংখ্যাটা পুলিশ জানাতে পারেনি।

শনিবার বেলা ১১টা দিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি ছিল। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে পতাকাও প্রদর্শন শুরু করেন।

এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সাবেক সংসদ সদস্য নীলোফার চৌধুরী মনি প্রমুখ।

এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশ চড়াও হয়। সেখান থেকে ১০ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে পুলিশ।

আরও পড়ুন  রামপাল হবে, সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছিটানো হয়। পুলিশের ধাওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতারা কার্যালয়ের ভেতর ঢুকে পড়েন। পুরো এলাকায় হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কলাপসিবল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কার্যালয়ের বাইরে যে প্যান্ডেল করা হয়েছিল, তা পুলিশ ভেঙে দিয়েছে। কালো পতাকাগুলো ছড়িয়ে পড়ে আছে সড়কের বিভিন্ন স্থানে। আশপাশের গলিতে আশ্রয় নেওয়া বিএনপি কর্মীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

এর আগে থেকেই বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দুই পাশে বিপুল পুলিশসহ সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা অবস্থান নিয়ে ছিল জলকামানের গাড়ি ও সাজোঁয়া যান নিয়ে।

বিএনপির সূত্র জানায়, আজকের কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের ধাওয়ার সময় হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে আহত হন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়ের পুত্রবধূ বিএনপি নেতা নিপুণ রায় চৌধুরী।

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বের হয়ে যাওয়ার সময় যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে আটক করা হয়। সবমিলিয়ে অন্তত ৪২ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শিবলী নোমান আটকের কথা স্বীকার করলেও এর সংখ্যা বলতে পারেননি। এ ঘটনার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আজকে তাদের কর্মসূচিতে রাস্তায় দাঁড়ানোর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন  নার্গিসের অবস্থা আশঙ্কাজনক: বিক্ষোভে উত্তাল সিলেট

এদিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি’র কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচির আগে পুলিশি হামলা ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করার প্রতিবাদে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি’র কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিংকালে তিনি পুলিশের এ কর্মকণ্ডের নিন্দা জানিয়ে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান।

কর্মসূচির অনুমতি না থাকায় তা পালন করতে দেয়া হয়নি বলে পুলিশের বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সব কর্মসূচির জন্য অনুমতি নিতে হবে কেন? ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কালো পতাকা প্রদর্শন করতে পারবো না কেন? এটা তো আমার মৌলিক অধিকার। তাহলে কি ঘরের মধ্যে কথা বলতেও পুলিশের অনুমতি লাগবে?’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে রুহুল কবীর রিজভী, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, রুহুল আলম চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে পল্টন থানার ডিউটি অফিসার রেজভী আকতার বলেন, বিএনপির নয়াপল্টনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে প্রায় ৬০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বের কোনো মামলা আছে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


সর্বশেষ সংবাদ