২০ বছর পর মুক্ত আলোয় শেখ জাহিদ

প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২০

২০ বছর পর মুক্ত আলোয় শেখ জাহিদ

প্রতিনিধি, খুলনা:

‘বিনাদোষে জাহিদের ২০ বছর নষ্ট হলো জেলে থেকে। তার এই ২০ বছরের জীবন ফেরত দেবে কে? কে দেবে তার জবাব? মাতৃহীন পিতৃহীন ও সম্বলহীন জাহিদের দায়িত্ব নেবে কে?’

স্ত্রী ও শিশু সন্তান হত্যার মিথ্যা অভিযোগে দীর্ঘ ২০টি বছর কেটেছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। দেখা মেলেনি মুক্ত আকাশ। ছোঁয়া লাগেনি মিষ্টি রোদের, ফুরফুরে হাওয়ার। অবশেষে কারাগারের সেই কনডেম সেল থেকে মুক্ত পৃথিবীর আলোর দেখা পেলেন শেখ জাহিদ (৫০)। ২০ বছর পর মুক্তি পেয়ে আবেগে কাঁদলেন জাহিদ।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে শেখ জাহিদ খুলনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। এ সময় তার স্বজনরা তাকে পেয়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন।

সোমবার দুপুরে শেখ জাহিদের মুক্তির নির্দেশনা বাগেরহাট আদালত থেকে খুলনা জেলা কারাগারে এসে পৌঁছালে তার মুক্তির কার্যক্রম শুরু হয়। আদালতের নির্দেশনা হাতে পাওয়ার পরই সন্ধ্যায় শেখ জাহিদকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানান খুলনা জেলা কারাগার সুপার মো. ওমর ফারুক।

আরও পড়ুন  জগন্নাথপুরে হাসপাতালে নবজাতককে  রেখে উধাও কিশোরী মা

তিনি বলেন, স্ত্রী ও দেড় বছরের শিশু কন্যা হত্যার অভিযোগে ২০০০ সালের ২৫ জুন মৃত্যুদণ্ড হয় জাহিদ শেখের। তারপর থেকেই তিনি কারাগারের কনডেম সেলে টানা ২০ বছর ধরে মৃত্যুর প্রহর গুণছিলেন। কিন্তু মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সেই আসামি শেখ জাহিদকে ২৫ আগস্ট খালাসের রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে দণ্ড ঘোষিত বাগেরহাট আদালতে তার খালাসের নির্দেশ প্রেরণ করা হয়। সেখান থেকে ওই নির্দেশনা সোমবার খুলনা কারাগারে এসে পৌঁছানোর পরই তাকে মুক্তি দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

এদিকে, দীর্ঘ ২০ বছর পর শেখ জাহিদের মুক্তির খবরে তার স্বজনরা আগে থেকেই জেলা কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার চাচা শেখ আশরাফুজ্জামান, ভগ্নিপতি আজিজুর রহমান ও আবদুস সালাম এবং তার ছোট বোন।

মুক্তি পাওয়ার পর শেখ জাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কখনও ভাবিনি যে ছাড়া পাব। আমি নির্দোষ ছিলাম। কারাগারে ২০ বছর অনেক কষ্টে কেটেছে।’

আরও পড়ুন  আরামবাগে হাজার হাজার জামায়াত-শিবির কর্মী

জেল ফটকে শেখ জাহিদকে নিতে আসেন তার ভগ্নিপতি আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মামলার সময় তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিল। টাকা দিতে না পারায় সব জেনেও  চার্জশিট দেয়।

এদিকে, মুক্তি পাওয়ার পর তাকে খুলনা মহানগরীর মিয়াপাড়া এলাকায় তার বোনের বাসায় নেওয়া হয়।

সর্বশেষ সংবাদ