২৫৩ আসনে ১১ দলের সমঝোতা চুড়ান্ত

প্রকাশিত: ১:২১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

২৫৩ আসনে ১১ দলের সমঝোতা চুড়ান্ত

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক, ঢাকা♦  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৫৩টি আসনে ১১ দলীয় জোটের মধ্যে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জোটের পক্ষ থেকে এ আসন সমঝোতার ঘোষণা দেন।

১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যতম শরীক ইসলামী আন্দোলন সংবাদ সম্মেলনে অনুপস্থিত ছিল। তাদের সাথে আলোচনা চলমান রয়েছে বলে ঐক্যে শীর্ষ নেতারা জানান।

একাধিক দফা বৈঠক ও আলোচনা শেষে জোটের শীর্ষ নেতাদের সম্মতিতে এই সমঝোতা চূড়ান্ত রূপ পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সমঝোতা অনুযায়ী, জোটভুক্ত দলগুলো নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি, অতীত নির্বাচনী ফলাফল, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রার্থীর জনপ্রিয়তাকে বিবেচনায় রেখে আসন বণ্টনে একমত হয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭৯, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি(এলডিপি) ৭, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২ ও বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি ২ আসনে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন।

আরও পড়ুন  বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা সাড়ে ১৬ হাজার

এর বাইরে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জন্য আসন চূড়ান্ত করা হয়নি। চূড়ান্ত হয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আসন সমঝোতার বিষয়টিও।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের প্রাথমিক বক্তব্যে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

অধিকাংশ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ভোট বিভাজন এড়িয়ে জোটের প্রার্থীরা শক্ত অবস্থান নিতে পারেন। জোট নেতারা বলছেন, এই সমঝোতা বিরোধী ভোট ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনী মাঠে সম্মিলিতভাবে লড়াই করলে সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সূত্র জানায়, বাকি আসনগুলো নিয়ে এখনও আলোচনা চলমান রয়েছে এবং খুব শিগগিরই সেগুলোরও নিষ্পত্তি হবে।

একই সঙ্গে জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় রক্ষায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে যৌথ নির্বাচনী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২৫৩ আসনে ১১ দলের সমঝোতা জাতীয় নির্বাচনের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভোটের হিসাব-নিকাশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে বলে তারা মনে করছেন। এদিকে সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার খবরে জোটভুক্ত দলগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে।

আরও পড়ুন  মোদির নিরাপত্তায় প্রস্তুত সশস্ত্র বাহিনী : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ